Skip to main content

Full text of "Rajgriha O Nalanda"

See other formats


রাজগ্নুহু ও নালন্দ। 


গ্রন্থকার - প্রণীত, 


4৯ 02101021. 2160 90015610178 0০ 015০ 9210172৬255 22212 512 
হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে 7০1৮০] 05] 7১211950017 উপাধি - প্রাপক 
শ্বেতাম্বর - ট্গনশাস্ত্রের দশন “অঙ্গ” - বিষয়ে গবেষণাগ্রস্থ। 


901)0015 97209390651) 75370 11692%609. বিশ্বভারতী 
জৈনধর্ম। বিশ্বভারতী 


শীঘ্রই প্রকাশিত হইবে 
বুদ্ধকথা 

অশোকলিপি 

প্রাচীন ভারত-চীন 


বাজগ্হু ও নালম্পা 


ভক্টবু অসস্ুলওচক্ন্র ০নন 
এম. এর. ভি- ক্িল্‌- €ভাম্বুশ্শ ) 


ভারতবিহনীষিহাক্ষ- 


কলিকাতা! 


শর্ট, ১৩৫৮॥অক্টোবর, ১৯৫৯ 


প্রকাশক শ্রীবাণী মুন্দি 
ইশ্ডিয়ান্‌ পাবৃলিসিটি সোসাইটি 
২১ বলরাম ঘোষ স্্রীট, কলিকাতা ৪ 
মুদ্রাকর শ্রীকালিদাঁস মুন্সি 
পুরাণ প্রেস 
২১ বলরাম ঘোষ স্রীট, কলিকাতা ৪ 


নিবেদন 

মোহেন্জোদটো, হঢ়গ্ল। ও তক্ষশিল৷ আজ তারতবহিভূতি হওয়ায় 
রাজগৃহই এখন তারতের প্রাচীনতম প্রত্বক্ষেত্র। নালন্দা শুধু ভারতের 
নয়, সমগ্র প্রাচীন - এশিয়ার গৌরবময়ী জ্ঞানধাত্রী । 

এই পুস্তিকা প্রকাশ অনেকের সন্গদয় আগ্রহে সম্ভব হুইয়াছে। 
বিশ্বভারতী গ্রস্থনবিভাগের উপাধ্যক্ষ শ্রীযুক্ত পুলিনবিহারী সেন পাগুলিপি 
শোধন হইতে আরম্ভ করিয়া চিত্রসংগ্রহ ও গ্রন্থন - সংক্রান্ত যাবতীয় 
ব্যাপারে সত্ব শ্রমন্বীকারপূর্বক আমার প্রভূত আহম্কুল্য করিয়াছেন। 
বাংল। সাহিত্যের ভাগ্ার বধনে পরমোৎসাহী শীবুক্ত বিনয়কৃষ্ণ দত্ত 
তাহার বহুমূল্য গ্রস্থন - অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করিয়া নানাভাবে আমার 
সহায়তা করিয়াছেন । 

রচনাটি “দেশ” সাপ্তাহিক পত্রে প্রথম প্রকাশিত হয়। দেশ পত্রের 
সহকারী সম্পাদক শ্রীধুক্ত সাগরময় ঘোষ ও কর্মাধ্যক্ষ শ্রীযুক্ত কানাইলাল 
সরকার প্রবন্ধ প্রকাশ ও চিত্র নির্বাচনে বহু ষত্ব করিয়াছিলেন। এই 
গ্রন্থে প্রকাশিত চিত্রগুলি শ্রীযুক্ত ইন্্র ছুগার কতৃকি অস্কিত। নালন্দার 
আলোকচিত্রাবলী শ্রীযুক্ত আর্ধকুমার সেন কতৃক এবং অন্তান্ত অ।লোক- 
চিত্র শ্রীযুক্ত অঞ্চল মজুমদার কতৃক গৃহীত। চিত্রগুলি প্রথমে দেশ পত্রে 
প্রকাশিত হয়) এই গ্রন্থে সেগুলি পুনমুদ্রণ করিবার অচ্থুমতি দিয়! 
শিল্পীগণ ও দেশ - কতৃপক্ষ আমাকে খণপাশে আবদ্ধ করিয়াছেন। 

ভারত বিদ্যা - প্রচারোৎসাহী শ্রীযুক্ত কালিদাস মুন্দি গ্রন্থের যুদ্রণে বহু 
যত্ব স্বীকার ও প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণদ্বারা আমার গুরুতার হরণ 
করিয়াছেন। 

ইহাদের সকলকেই আমার আস্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি । 

অমূল্যচন্দ্র সেন 


ত্ফ্চী 


রাজগৃহছের পথ 

প্রাচীন হতিহাসের আকর 
প্রাগৈতিহাসিক ঘুগের মগধ 
জরাসন্ষের বুগে রাঁজপৃহ 
বিশ্বিসারের সময়ে রাজগৃহ 
রাজগৃছে বুদ্ধ ও মহাবীর 
অজাতশক্রর সময়ে রাজগৃহ 
পরবতী যুগের রাজগৃহ 
বর্তমান - রাজগুহু পরিক্রুম! 
নালন্দা 

রাজগৃহ - নালন্দার ভবিষ্যৎ 


মানচিআদ্বয় 


ছঠি 


-9০০ 


১০১ 
ত৭ 
৩৮ 
৪২. 
গু৬ 
৭০১ 
৪১৯ 


মাঝ্রে 





রাজগুহের পথ 


প্রাচীন রাজগৃহের বর্তমান নাম হিনি বানানে রাজগীর। ইহা! পাটনা 
জেলার বিহার সবডিভিশনের অস্তভূ ক্ত। হষ্ট ইপ্ডিয়ান রেলওয়ের পাঁটনা 
ংশনের ২৮ মাইল পূর্বদিকে বখ.তিয়ারপুর জংশন ? বখ.তিয়ারপুরে গাড়ী 
বদল করিতে হয়। এখান হইতে বখ তিয়ারপুর - বিহার লাইট রেলওয়ে 
নামক একটি ছোট রেল লাইন আরম্ভ হইয়! রাজগীরে শেষ হইয়াছে; 
দূরত্ব ৩৩ মাইল। পথে বখ.তিয়ারপুর হইতে ১৮ মাইল পরে বিহার - 
শরীফ ষ্টেশন, ইহা বিহার সবডিভিশনের সদর | প্রাচীন উদ্দগুপুর বা 
ওদন্তপুরী এখানে অবস্থিত ছিল। বিহার - শরীফ হইতে ৮ মাইল পরে 
নালন্না। নালনা! হইতে ৭ মাইল পরে রাঁজগীর, মধ্যে সিলাও নামক 
একটি ষ্টেশন । 
পাটনা বা মুঙ্গের হইতে রাচি বা গয়ার দিকে যে সব বাস চলে 
তাহাও বিহার - শরীফ হইয়া যায়। বিহার - শরীফ হইতে গয়! -রণচির 


২ রাজগৃহ ও নালন্দ! 


মোটরপথে (রাজগৃহের পথে নয় কারণ বিহার - শরীফ হইতে বড় 
মোটররাস্তা ছাঁড়িয়া একটি শাখারাস্তা রাজগৃহে গিয়াছে ) ১৬ মাইল 
দুরে জৈনদের প্রসিদ্ধ তীর্থস্থান পাবাপুরী ; এখানে জৈনদের শেষ 
তীর্থংকর মহাবীর দেহরক্ষ/া করিয়াছিলেন । পাবাপুরীর মন্দিরাদি 
অতি আধুনিক কালে নিশ্িত। বিহার - শরীফ হইতে রাজগীর পযন্ত 
বাসেও যাতায়াত করা যায়। | 

বখতিয়ারপুর হইতে বিহার - শরীফ পর্যস্ত ছোট রেল লাইন ও 
মোটরপথ সোজা ও খুব পাশাপাশি গিয়াছে। তাহার পর রাজগীর 
পর্যস্ত শাখাপথ ও রেল লাইন আঁকিয়৷ বাঁকিয়া কখনও পরস্পরকে 
কাটাকাটি করিয়! গিয়াছে । নালন্দা ষ্টেশন হইতে প্রাচীন মহাবিহারের 
ধ্বংসাবশেষ ও তাহার সন্নিকটের মিউজিয়ম প্রায় ছুই মাইল পথ। 
নালন্দায় কোন যানবাহন, থাঁকিবার বা আহারাদির স্থান নাই। তাই 
সঙ্গে জিনিষপত্র থাকিলে ও আহাাদি না থাকিলে সোজ। রাজগীরে 
গিয়া সেখানে থাকা - খাওয়ার ব্যবস্থা করিয়। পরে স্থবিধামত নালন্া 
দেখা ভাল। সকাল হইতে প্রায় প্রতি ৩ ঘণ্টা অন্তর রাজগীর - নালন্৷ 
যাতায়াতের ট্রেন পাওয়া যায়। ধ্বংসাবশেষ ও মিউজিয়ম দেখিতে 
অন্তত ৩ ঘণ্টা সময় দেওয়! উচিত। সিলাও স্টেশনের কাছেই বাজার ; 
এখানকার টিড়া ও খাজা প্রসিদ্ধ । 

সিলাও ষ্টেশনের পর হইতেই রাজগীরের পাহাড়গুলির পূর্বদিকে 
অংশ অর্থাৎ প্রথমে শৈলগিরি, তারপর ছঠাগিরি ও ক্রমে বিপুলগিরি 
(মানচিত্র ১) চোখে পড়ে । ' রাজগীরে ছুই - একখানি একা! ও ডুলি 
ছাড়া কোন যানবাহন পাওয়া যায় না। বাজার, ধর্মশালা ও অন্যান্য 


রাজগুহের পথ ৩ 


বাসস্থান ষ্টেশন হইতে অধ-মাইলের মধ্যে। ষ্টেশন হইতে বাহির হইয় 
ডান ( উত্তর ) দ্বিকে বাজার ধর্মশালা গ্রাম প্রভৃতি এবং বাম (দক্ষিণ ) 
দিকে ব্রঙ্গদেশীয় মন্দির, ইন্স্পেক্শন বাংলো, রেষ্ট হাউস, জাপানী মন্দির 
এবং উষ্ণ প্রশ্রবন ও পর্বতমালাবেষ্রিত প্রাচীন দ্রষ্টব্য স্বানগুলি। . 


প্রাচীন ইতিহাসের আকর 


রাজগৃছহের তথা ভারতের প্রাচীন ইতিহাস আলোচনা করিতে 
গেলে আকর -গ্রন্থগুলির কিছু পরিচয় দেওয়৷ আবশ্তক। আমাদের 
দেশে শিক্ষিত. লোকের মধ্যেও প্রাচীন যা! কিছু সব সম্বদ্ধেই কিন্বদস্তী 
বা শাক্তরোক্তি অত্রান্ত সত্য বলিয়! নিবিচারে গ্রহণ করিবার অভ্যাস এবং 
প্রাচীন মাত্রকেই হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ বছর পুরাতন বলিয়া মনে 
করিবার ইচ্ছা দেখা যায়। ইহা বৈজ্ঞানিক - প্রণালীসম্মত তুলনা 
ও ঘুক্তিমূলক এঁতিহাসিক বিচার - আলোচনার পদ্ধতি ণয়। এ বিষয়ে 
পণ্ডিতদের বহু গবেষণা ও চর্চার সারমর্ম অতি সংক্ষেপে লিখিতেছি। 

কোন প্রাচীন শাঙ্জ বা'গ্রন্থ মা্ছষ ছাড়! আর কাহারও দ্বারা লিখিত 
নয়। তাই এ সবেতে বহু উক্তির বিভিন্নতা, বিরোধ এমন কি 
ভুলভ্রান্তিও দেখা যাঁয়। আমাদের প্রাচীন শাস্ত্রগুলির অধিকাংশ 
একদিনে একজনের দ্বারা লিখিত হয় নাই; কয়েক যুগ ধরিয়া রচিত 
অনেকের রচনা অনেকদিন লোকের মুখে মুখে চলিয়া কোন এক 
সময়ে একত্র সংগৃহীত ও লিপিবদ্ধ হয় এবং তাহার পরও তাহাতে 
অনেকদিন ধরিয়া জোড়াতালি চলে। ভারতের প্রাচীন শাস্ত্র ও 
গ্রন্থাদির লেখক বা রচনাকাল, গ্রন্থকার ও অন্ত প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের জীবন - 
কাল, এঁতিহাসিক ঘটনাবলীর সময় প্রভৃতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ 
ঠিক নিধর্ণরণ করা যায় না, একটা মোটামুটি ধারণা লইয়া কাজ 


চালাইতে হয়। 


প্রাচীন ইতিহাসের আকর ৫ 


ভারততাত্বিক প্রতিহাসিকদের মতে বৈদিক সংহিতার প্রাচীন 
ংশগুলি খু. পৃ. অস্থমান ১৬ - ১৩ শতকের মধ্যে রচিত। অথর্ববেদের 
শেষাংশ, এঁতরেয় তৈত্তিরীয় শতপথ প্রভৃতি প্রাচীন ব্রাহ্গণ এবং 
বৃহদারণ্যক ও ছান্দোগ্য উপনিষদের প্রাচীন অংশগুলি অন্থমান খু. পু. 
৯ - ৬ শতকের মধ্যে রচিত। মহাভারতের রচনাও এই সময় ' হইতে 
আরম্ভ হয় এবং খু. ৩ শতক পর্যস্ত তাহা পরিবধিত হইতে থাকে । 
মহাঁভারতবপিত কুরুক্ষেত্রযুদ্ধ সম্ভব অনুমান খু. পৃ. ৯ শতকের ঘটনা । 
রামায়ণ অনুমান খু. পৃ. ৩ - ২ শতকে প্রথম রচিত হুইয়া পরে আরও 
পরিবধিত হয়। পুরাণগুলিতে অনেক প্রাচীন কাহিনী ও কিন্বদস্তী 
সংগৃহীত হইলেও এখন পুরাণগুলিকে যে যৃতিতে দেখ যায় তাহার 
রচনা সম্ভব খু. ৩ শতকের পূর্বে নয়। ভাগবত - পুরাণখানি আরও 
অনেক পরবর্তা কালের, সম্ভব খু. ১০ শতকের রচনা । 
বুদ্ধের জন্ম হয় অগ্থমান খু. পৃ. ৫৬৩ এবং মৃত্যু হয় অনুমান খু. পু. 
৪৮৩। জৈনতীর্থংকর মহাবীর, রাজ বিষ্িসার ও অজাতশক্র বুদ্ধের 
প্রায় সমসাময়িক ছিলেন। বৌদ্ধশাস্ত্র ব্রিপিটক পালিতাষায় রচিত। 
অনেকদিন মুখে মুখে চলিয়া অস্থুমান খু. পু. ২ শতকে ইহার স্থত্তনিপাত, 
বিনয়পিটক ও জাতকগুলি লিপিবদ্ধ হয়। বৌদ্ধশাস্ত্রের প্রসিদ্ধ গীকাকার 
বুদ্ধঘোষ অনুমান খু. ৫ শতকের লোক। সিংহলের পালি প্রতিহাসিক 
গ্রন্থ মহাবংস অচ্ুমান খু. ৬ শতকে রচিত। অন্তাগ্ত বৌদ্ধটীকাদিও 
পরবর্তা কালের রচন] । 
শ্বেতাম্বর - জৈন শাস্ত্রে অংশবিশেষ রচনার পর বহুদিন মুখে 
মুখে প্রচলিত ও পরিবধিত হইতে থাকে এবং অচুমান খু. ৬ 


৬ রাজগৃহ ও নালন্দা 


শতকে প্রথম লিপিবদ্ধ হয়। দিগম্বর - জৈনর৷ এই শাস্ত্র প্রামাণিক 
বলিয়া মানেন না। দিগম্বরর! শাস্ত্রতুল্য বলিয়। যে গ্রন্থগুলিকে মানেন 
তাহা সবই খুষ্টপর যুগের রচন|। 

চীনদেশের সঙ্গে ভারতের সংযোগ, চীনা পরিব্রাজকদের তারত - 
ভ্রমণ ও ভারতীয় পণ্ডিতদের চীনদেশে গমনাঁগমন চলিয়াছিল খু. ১ 
হইতে ১১ শতক পর্যস্ত। চীনা পরিব্রাজকদের মধ্যে ফা হিয়েন ১৪ 
বছর (খু. ৪০০ - ৪১৪ ), হিউয়েন ৎসাং ১৬ বছর (খু. ৬২৯ - ৬৪৫) 
এবং ই ৎসিং ২৪ বছর-( খু. ৬৭১ - ৬৯৫ ) তাঁরতে কাঁটাইয়াছিলেন। 
রাজগৃহ ও নালন্দা সম্বন্ধে বহু সংবাদ আমরা চীনা পরিব্রাজকদের নিকট 
পাইয়াছি। 

চীনের মত তিব্বতের সঙ্গেও ভারতের সংযোগ ও আদান - প্রদান 
চলিয়াছিল খু. ৮ হইতে ১৩ শতক পর্যস্ত। নালন্দা বিক্রমশিলা প্রভৃতি 
সম্বন্ধে বহু তথ্য আমরা জানি তিব্বতী গ্রন্থ হইতে । তিব্বতী 
ধ্রঁতিহাসিক তারানাথ সম্ভব খু. ১৬ - ১৭ শতকের লোক । 

এই পুক্তিকা্টি প্রণয়নে প্রাচীন শান্তর ও গ্রন্থাদি ছাড়া সরকারী 
ভারতীয় প্রত্বতভ্বু বিভাগ (4:017990108108] 10808:607926) কতৃকি 
প্রকাশিত বিবিধ সন্দর্ভাদি ব্যবহার করিয়াছি। তা ছাড়া যে সব 
প্রসিদ্ধ এঁতিহাসিক ও অন্তান্ত লেখকের মতামত ও তথ্যাদি গ্রহণ 
করিয়াছি, বথাস্থানে তাহার উল্লেখ করিয়াছি । 


প্রাগৈতিহাসিক যুগের মগধ 


প্রাচীন মগধের রাজধানী রাজগৃহের আর একটি নাম গিরিব্রজ | 
লক্ষ্য করিবার বিষয়, গিরিব্রজ-রাজগৃহ নামে উত্তর - পশ্চিম ভারতেও 
একটি নগর ছিল। রামায়ণে দেখা যায় ইহা ছিল কেকয় দেশের 
রাজধানী । কেকয় দেশ বা কেকয় জাতির উল্লেখ খণ্থেদে নাই 
কিস্তু শতপথব্রাহ্ষণ ও ছান্দোগ্য -উপনিষদে আছে; রামায়ণ - 
মহাঁভারতেও কেকয়র৷ স্ুবিজ্ঞাত। দশরথপত্বী ভরতমাত]1 কৈকেয়ী 
এই দেশের রাজা অশ্বপতির কন্তা ছিলেন। কুরুক্ষেত্র - যুদ্ধে 
কেকয় দেশ কুরুপক্ষে যোগ দিয়াছিল। রামায়ণের বর্ণনায় কেকয় 
দেশ বিপাশা নদী (আধুনিক বিয়াস্‌ ) হইতে পশ্চিমে গান্ধার দেশের 
( আধুনিক কাবুল অঞ্চল ) সীমা পর্বস্ত বিস্তৃত ছিল। জেনারেল 
কানিংহাম ঝিলম্‌ নদীতীরস্থ জালালপুরের নিকটবর্তা আধুনিক 
গির্য়াক নামক স্থানে কেকয় দেশের রাজধানী গিরিব্রজ - রাজগৃছের 
স্থান নির্দেশ করিয়াছেন। আশ্চর্যের বিষয় যে, আমাদের আধুনিক 
রাজগীরের কাছেও, পূর্বদিকে ৭ মাইল দুরে, গিরিয়াক নামে একটি 
স্থান আছে। সম্ভব গিরি + অগ্র-গির্গ্র হইতে এই নামের উত্তব 
হয়, অর্থাৎ যাহা! পাহাড়ের আগে (অল্প বাহিরে, কাছে ) অবস্থিত। 
কেকয় দেশের গিরিব্রজ - রাজগৃহ হইতে পার্থক্য বুঝাইবার জছ্য 
মহাভারত, রামায়ণ ও বৌদ্ধ বিনয়পিটকে আমাদের রাজগৃহকে সর্বদা 
“মাগধদের গিরিব্রজ ( বা রাজগৃহ )” বল! হুইয়াছে। 


৮ রাজগৃহ ও নালন্দ। 


বিতিব্ন দেশে একই নামের স্থান থাকিলে প্রায়ই দেখ! যায় তাহার 
কারণ এক দেশের লোক অন্ত দেশে গিয়া বসতি বা নগরাদি স্থাপন 
করিয়াছে, যেমন ইংলগ্ডের লোক উত্তর - আমেরিকায় গিয়া! নিউ - 
ইংলও, নিউইয়র্ক প্রভৃতির স্থাপনা করে,বিহারের রোহতাম্গড়ের অধিপতি 
শের শা পঞ্জাব জয় করিয়] সিদ্ধনদের তীরে রোহতাস্‌ নামে হূর্গ স্থাপনা 
করেন। উত্তর ভারতের মখুরা ( -মধুরা ) হইতে দক্ষিণ ভারতের 
মন্থুরা নগরের নামকরণ হয় আবার দক্ষিণ ভারতের লোক থাম স্থুমাত্র 
যব বলি প্রভৃতি দেশে উপনিবেশ স্থাপন করিয়া নূতন দেশে মুর! ও 
অগ্ঠ বনু দক্ষিণতারতীয় নগরের নাম দিয়! নগর স্থাপনা! করে। অতএব 
এরূপ অনুমান অসঙ্গত নয় যে, কেকয়ের ও মগধের গিরিব্রজ-রাজগৃহ- 
গিরিয়াকের মধ্যে এরূপ কোন যোগসম্বদ্ধ থাকিতে পারে। কেকয়ের 
লোক মগধে আসিয়াছিল, না মগধের লোকই কেকয়ে গিয়াছিল ? 

পঞ্জাবের উত্তর - পশ্চিমে বক্ষ নদীর ( আধুনিক 00৪ ) তীরে 
বাল্ধ, (প্রাচীন বাহিলক ) প্রদেশে ছিউয়েন ৎসাং রাজগৃহ নামে তৃতীয় 
আরও একটি নগর দেখিয়াছিলেন। ইহাকে ছোট - রাজগৃহ বলা হইত। 
রাজার গৃহ অর্থাৎ রাজধানী অর্থে যে কোন দেশের প্রধান নগরের 
নাম রাজগৃহ হওয়া বিচিত্র নয়, কিন্তু তথাপি বাহিলক ও কেকয়ের 
রাজগৃছের মধ্যে কোন সংযোগ থাকা হয়ত সম্পূর্ণ অসম্ভব নয়। 
সম্ভবত কেকয় জাতির কোন শাখা! পরব্তা কালে বাহিলকদেশে গিয়া 
“ছোট” রাজগৃহের স্থাপনা করিয়াছিল। 

পুরাণে প্রসিদ্ধ আছে যে, কেকয় জাতি অনার্য অস্থুনামক জাতি 
হইতে উদ্ভুত। জৈন শান্ত্রেও উল্লিখিত আছে যে, কেকয় দেশের 


এ শীত তসপ পাা শীল শি ৯০০ শশা পি ২ ৩ 
ড় তত * ঠা ২০০ শসা আর পাপ স সপ শপ শপ পাশ 
] রর 
নি 

& 5 বি রশ 





্ এ শত ০:০৭ ৯০৯০ শি ৮ ৮ 


, ২ লজ ৩2 


চর 


1 
$ 
মঠ 
্ঠ 
৪ ॥ 
& 
ঁ 
ঙ $ 
রি 
৬ ২২ 
স 








প্রাগৈতিহাসিক যুগের মগধ ৯ 


অধেকমাত্র আর্য। খখ্থেদের ৮ মগ্ডলে দেখা যায় যে, অঙ্জাতির 
বাসস্থান ছিল পঞ্জাবের ঠিক সেই অঞ্চলে যাহা৷ রামায়ণে কেকয়দেশ 
বলিয়। বণিত হুইয়াছে। মহাভারতের বর্ণনায় কেকয় ও বাহিলক 
দেশদ্বয়ের মধ্যে খুব নিকটসন্বন্ধ দেখা যায় এবং পুরাণের বর্ণনায় দেখা 
যায় যে, মদ্্রদেশের ( লাহোরের পশ্চিমাঞ্চল ) সঙ্গে কেকয়জাতি ঘনিষ্ঠ - 
সম্বদ্ধ। এইসব কারণে মনে হয় যে, আর্ধরা যখন উত্তর - পশ্চিম হইতে 
ভারতে প্রবেশ করে তখন তাহাদের দ্বার বিজিত ও তাহাদের সঙ্গে 
কিছু পরিমাণে মিশ্রিত হুইয়! অনার্য অমুজাতির বংশধর কেকয়গণ ক্রমে 
পূর্বদিকে বিস্তৃত হইতে থাকে। 

“অনার্য” মানেই অসভ্য নয় ; ইহার অর্থ আর্য হইতে বিভিন্ন অন্য 
জাতি। আর্ধদের ভারত - প্রবেশের পর যেসব ভারতবাসী জাতির সঙ্গে 
আর্ধদের বুদ্ধ করিতে হয় তাহাদের মধ্যে অনেক অসভ্য জাতি ছিল 
সত্য কিন্তু আর্দের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে শ্থসভ্য জাতিও যে 
ছিল তাহা আধুনিক ইতিহাসজ্ঞানে স্ুবিদিত। আর্ধরা বাহুবলে 
এই ম্ুুসভ্য ভারতবাসী জাতিদের জয় করিলেও ইহাদেরই সংস্পর্শে 
অধপ্সভ্য আর্ধরা সত্যতার পথে উন্লতিলাভ করে। ভারতীয় সভ্যতার 
বহিরাঁবরণ মাত্র আর্য, ভিতরের অধিকাংশই অনার্ধ। আর্য ও প্রাগার্য 
তারতীয় জাতির সংমিশ্রণে ভারতীয় জাতি ও সত্যতার পূর্ণ বিকাশ 
হয়। 

দক্ষিণভারতীয় প্রাচীনলিপি হইতে জানা যায় যে, কেকয় জাতির 
একটি শাখা দক্ষিণতারতে গিয়া মহীশূরে রাজ্য স্থাপন করে ) ইহাদের 
দ্বারা বোধহয় মহীশূরের একটি প্রাচীন রাজবংশের প্রবর্তন হয়। 


১০ রাজগৃহ ও নালন্দা 


কেকয় জাতির অপর কোন শাখা কি পূর্ব - দক্ষিণ ভারতে অগ্রসর হইয়! 
মগধে উপনিবেশ স্থাপন করিয়া নিজেদের প্রাক্তন রাজধানীর নামে 
মগধে গিরিব্রজ - রাজগৃহের স্থাপনা করে ? 

অস্ুজাতি - উদ্ভূত অধ- আর্ধ কেকয়জাঁতির সঙ্গে মগধের সংযোগ 
সম্বন্ধে হয়ত আরও একটি প্রমাণ উপস্থাপিত করিতে পারা যায়। 
খণ্থেদের ৩ মগ্ডলে কীকট নামক একটি জাতির উল্লেখ আছে। 
নিরুক্তকার যাস্ক ( অঙ্ুমান খু. পৃ. ৫ শতক ) কীকট দেশকে “অনার্য - 
নিবাস” বলিয়াছেন। বৃহন্ধর্পপুরাণে কীকট দেশকে “পাপভূমি” এই 
দেশের রাজ! কাককর্ণকে প্বরহ্মদ্বেষকর” এবং এই দেশে গয়া নামক একটি 
স্থান আছে বলা হুইয়াছে। বায়ুপুরাণে আছে যে কীকটদেশে পুণ্যা 
গয়া, পুণ্য রাজগৃহবন, পুণ্য চ্যবনাশ্রম এবং পুণ্যা পুনঃপুনা ( বর্তমান 
পুন্পুনা বা পুনুপুন্‌ ) নদী আছে। ভাগবতপুরাণে কীকট দেশের উল্লেখ 
সম্পর্কে টীকাকার শ্রীধর বলিয়াছেন যে গয়া এই দেশে অবস্থিত। 
এইসব হইতে বেশ বুঝা যায় যে মগধেরই প্রাচীন নাম কীকট। পরবর্তী 
কালের গ্রস্থকাররাও একথ| বলিয়াছেন। অভিধানচিস্তামণিকার 
হেমচন্ত্র (খু. ১২ শতক ) স্পষ্ট বলিয়াছেন যে মগধেরই নাম কীকট। 
অনার্ধদের দেশ, অর্থাৎ আর্ধরা তখনও তাহা জয় করিতে পারে নাই 
বলিয়। ইহা আর্য * ব্রাহ্মণ সমাজের কাছে “পাপভূমি” আখ্যা পাইয়াছিল, 
এখানকার রাজা ও লোক বৈদিকধর্ম মানিতেন না! তাই তাহারা 
“ব্রহ্গদেষকর”। 

প্রতিহাসিক ধুগে মগধের একজন রাজার নাঁম কালাশোক 
ৰা কাকবর্ণ ছিল। বৃহন্ধর্মপুরাণোক্ত ব্রহ্মদ্বেষকর কীকটরাঁজ কাককর্পের 


প্রাগৈতিহাসিক যুগের মগধ ১১ 


নামের “কর্ণ” শব্দটি হয়ত এতিহাসিক যুগের মগধরাজ কাকবর্ণের 
নামের “বর্ণ” শব্ধের ভ্রমে জাত, পুথি নকল করার সময়ে “বৰ” স্থানে 
“ক” হইয়া গিয়াছে । কাকের কানের চেয়ে রংটিই বেশি উপমাযোগ্য। 
যদিও একদেশে একনামের একাধিক রাজা থাকা মোটেই অসম্ভব 
নয় কিন্তু ডক্টর গ্রীহেমচন্ত্র রায়চৌধুরী মহাশয়' মনে করেন যে, বৃহধধর্ম - 
পুরাণের কাককর্ণ ও ইতিহাসের কাকবর্ণ একই ব্যক্তি হইতে পারেন। 
অধ্যাপক কীথ. সাহেব বলেন যে, খগ্থেদের কীকটদেশ যদ্দি সত্যই 
মগধ হয় তবে মগধের প্রতি বিদ্বেষ খণ্বৈদিক যুগেও আর্যদের মধ্যে 
প্রবল ছিল এবং ইহার কারণ খুব সম্ভব এই ছিল যে, এই দেশে 
অনার্ধরক্তের প্রাবল্য ছিল এবং বৈদিকধর্ম এখানে পূর্ণ প্রভাব বিস্তার 
করিতে পারে নাই, যাহার ফলে পরবর্তা যুগে মগধ বৌদ্ধাদি অবৈদিক 
ও অক্রাঙ্গণ্য ধর্মের প্রধান ক্ষেত্র হইয়াছিল। কেকয় ও কীকট এই ছুই 
শব্দে কিছু ধ্বনিগত সাদৃশ্তঠও আছে। হয়ত কেকয়জাতি মগধে আসিয়। 
কীকট নাম পাইয়াছিল অথবা কীকটজাতি পঞ্জাবে গিয়া কেকয় নাম 
পাইয়াছিল। তারতের ইতিহাসে উত্তর - পশ্চিম হইতে বিজেতাদের 
পূর্ব - দক্ষিণে বিস্তৃতি যেমন, তেমনি মগধ হইতেও উত্তর - পশ্চিমে 
বিস্তৃতি বহুবার ঘটিয়াছে। 
_. খ্রতিহাসিকরা মনে করেন যে, আর্ধরা ভারতে প্রবেশের সময়ে 
এবং তারপর অনেকদিন পর্যন্ত যেসব ভারতবাসী সত্যজাতির সঙ্গে 
আর্ধদের সঙ্বর্ষের কথা খণ্বেদ হইতে জানা যায় এবং যাহাদের 
আর্ধরা অন্গুর দৈত্য দানব দন্থ্য দাস প্রভৃতি নামে উল্লেখ করিয়াছেন, 
তাহার! বা তাহাদের কোন শাখা সিন্ধুনদ উপত্যকার মোহেঞ্জোদড়ো ও 


১২ রাজগৃহ ও নালন্দা 


হ্ঢ়পপা! প্রভৃতি স্থানে আবিষ্কৃত প্রাচীন সত্যতার প্রবর্তক। পঞ্জাবের 
উত্তর ও পশ্চিমে অনেক দূর পর্যস্ত এই সভ্যতার আরও অনেক 
নিদর্শন আবিষ্কৃত হুইয়াছে। সেই প্রাগার্য প্রাচীন সত্যতা একটি 
জাতি বা এক জাতির ভিন্ন ভিন্ন শাখা বা বিডির জাতি কতৃক 
প্রবর্তিত হইয়াছিল কিনা তাহা! বল! যায় না, কিন্ত অনেক এঁতিহাসিক 
তাহাকে সাধারণভাবে “অনুর” নাম দিয়াছেন । কেহ বলেন “অস্থ্ররা”, 
অন্তত তাহাদের কোন কোন শাখা! বোলান্‌ - গিরিবত্ব পথে, কেহ 
বলেন সিদ্ধুনদ - মোহানার পথে, কাহারও কাহারও মতে পূর্বাঞ্চল 
হইতে উত্তর ও পশ্চিম ভারতে বিস্তৃত হয়। আর্ধদের আক্রমণে 
পরাজিত হুইয়৷ এই “অস্থ্ররা” উত্তর ও পশ্চিম হইতে হটিয়া দক্ষিণ 
ও পূর্ব ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে। মগধ - রাজগৃছের রাজ! জরাসন্ধ 
ও আসাম - প্রাগংজ্যোতিষপুরের রাজা তগদত্ত অন্থুরবংশীয় বলিয়া 
ক্ববিদিত ছিলেন । মগধের অতি প্রাচীন স্থান গয়াও গয়া্মুর বা 
গজান্থরের নগরী বলিয়া খ্যাত ছিল। ভারতের প্রাগার্য দ্রবিড় 
সত্যতা সম্ভব এই অন্থুর সভ্যতার বংশধর। 

অথর্ববেদে মগধৰাসীদের ব্রাত্য অর্থাৎ বৈদিক ব্রাঙ্গণ্য সমাজের 
ঘহিভূতি বল! হুইয়াছে। সামবেদীয় লাট্যায়নশ্রৌতস্থত্রে মাগধব্রাঙ্গণদের 
হীনবাক্ষণ ও ব্রাত্য বলা হুইয়াছে। পরবর্তা কালের শাস্ত্রাদিতে 
মগধের লোককে বর্ণসংকরজাত একটি বিশিষ্ট জাতি বলিয়৷। উল্লেখ 
করা হইয়াছে । গৌতমধর্মশান্ত্র ও মন্গুসংহিতায় “মাগধ” অর্থে 
মগধদেশের অধিবাসীদের না বুঝাইয়া বৈশ্তপিতা ও ক্ষত্রিয়মাতার 
সন্তান বুঝাইয়াছে এবং মন্গুসংহিতায় মাগধদের বাণিজ্যব্যবসায়ী 


প্রাগৈতিহাসিক যুগের মগধ ১৩ 


ও গায়ক - কথকরূপে বর্ণনা করা হইয়াছে। তৈত্তিরীয়ব্রাঙ্মণে মাগধদের 
উচ্চ কণ্ঠস্বরের উল্লেখ আছে। শতপথব্রাহ্মণে বলা হইয়াছে যে, 
কোশল ও বিদেহে (অর্থাৎ উত্তর - বিহারের পশ্চিম ও পূর্বাংশে ) 
প্রাচীনকালে ব্রাঙ্মণবসতি স্থাপিত হয় নাই এবং মগধে তারও 
চেয়ে কম হইয়াছিল । 

শতপথব্রাহ্গণে আরও বণিত আছে যে, পঞ্জাবের সরস্বতী নদী 
হইতে পূর্বমুখে অগ্রসর হইয়! অগ্মি (আর্ধদের উপান্ত দেবতা অর্থাৎ 
বৈদিকধর্ম ও বৈদিক প্রভাব ) সদানীরানদী (আধুনিক রাপ্তিনদী, 
গণ্ডকনদের পশ্চিমে ) পর্যস্ত আসিয়াছিলেন এবং অদ্বানীরার অপর 
পারে প্রাচীনকালে কৌন ব্রাহ্মণ যাইতেন না। মহাভারতে সদানীরার 
পূর্বদেশতাগকে “জলোত্তব” বলা হইয়াছে অর্থাৎ এ অঞ্চল দক্ষিণ বাংলার 
স্বন্নরবন অঞ্চলের মত জলময় ছিল, নদীবহুল উত্তর বিহারের নিম্মভূমি 
তখনও কৃষিহীন ছিল। রামায়ণের কিছ্ষিন্ধ্যাকাণ্ডে দেখা যায় যে, স্ুগ্রীব 
সীতান্বেষণে বানর সেনাকে ভারতের সর্বদেশে এবং ভারতের বাহিরেও 
পাঠাইবার সময়ে মগধকে পূর্বদিকের, যেন ভারতের বাহিরে একটি দেশ 
ৰল৷ হইয়াছে। 

এই সব হইতে মনে হয় যে অতি প্রাচীনকালে আর্ধব্রাহ্গণ সমাজ 
মগধকে যে হীনচক্ষে দেখিতেন তার কারণ মগধ তখনও আর্ধাধিকারে 
আসে নাই এবং মগধের লোক স্ুসভ্য হইলেও ব্রাঙ্গণ্যধর্মের 
প্রভাবাধীন হয় নাই। কিন্তু তথাপি মগধের সঙ্গে যাতায়াত ও 
বাণিজ্যসন্বন্ধ ছিল, ধর্মব্যবসায়ী পুরোহিততব্রাঙ্গণরা বিদ্বেষের চোখে 
দেখিলেও সাধারণ লোকের মধ্যে মগধের সঙ্গে বৈবাহিক সম্বন্ধ 


১৪ রাজগৃহ ও নালন্দ। 


চলিত; বাণিজ্য সম্পর্কে মগধের ধনী লোক ভারতে আসিয়া 
ক্ষত্রিয়কন্তা বিবাহ করিত। বাণিজ্য - সমৃদ্ধি, শিল্পকৌশল ও বিবিধ 
পণ্যক্রব্যের জন্ত মগধের খ্যাতি ছিল। রামায়ণে মগধকে অতি 
জ্ুসভ্য দেশরূপে বর্ণনা করা হইয়াছে । কৈকেয়ীর ক্রোধশাস্তির জন্য 
দশরথ তাহাকে মগধজাত শিল্পদ্রব্যার্দি উপহার দিবার প্রলোভন 
দেখাইয়াছিলেন। কালক্রমে যখন মগধ কিছু পরিমাণে ব্রাহ্মণ্যধর্মের 
ও আর্ধাধিকারের অধীন হয় তখন গয়া চ্যবনাশ্রম পুন্পুনানদী 
রাজগৃহ প্রভৃতি স্থান ব্রাহ্মণদের কাছে ক্রমে “পুণ্য” বলিয়! বিৰেচিত 
হইতে আরম্ভ করে। 


জরাসদ্ধের যুগে রাজগৃহ 


পুরাণে বধিত আছে কুরুর পুত্র ছিলেন স্বধন্বা, সধস্বার পর চতুর্থ 
রাজা বস্থ মগধ জয় করিয়! রাজধানী গিরিব্রজসহ তাহার জ্যোষ্ঠপুত্র 
বৃহদ্রথকে দান করেন এবং বৃহদ্রথ সেখানে বাহৃত্রথ - রাজবংশের 
প্রতিষ্ঠা করেন। রামায়ণের আদিকাণ্ডে কিন্ত আছে ব্রহ্মার 
চতুর্থ পুত্র বন্থ গিরিব্রজে রাজধানী স্থাপনা করিয়াছিলেন। বস্থ 
হইতে রামায়ণে গিরিব্রজের একটি নাম “বস্থুমতী” বল! হইয়াছে। 
বৃহত্রথপুত্র জরাসন্ধের রাজধানী বলিয়া আর একটি নাম “বার্দ্রথপুর ।” 
মৎ্ন্তপুরাণে জরাসন্ধের বহু বংশধরদের নামের মধ্যে একজনের নাম 
আছে কুশাগ্র এবং আর একজনের নাম বৃষত; সম্ভব ইহা হইতেই 
গিরিব্রজের জৈনসাহিত্যোক্ত “কুশীগ্রপুর” ও “বৃষতপুর” নামদ্বয়ের 
উৎপত্তি হয়। হিউয়েন সাং কুশাগ্রপুর বা কুশাগারপুর নামের ব্যাখ্যা 
শুনিয়াছিলেন যে, রাজগৃহে উৎকৃষ্ট কুশ (ম্থগন্ধি ঘাস, খশ খশ.) 
জন্মে বলিয়া এ নামের উৎপত্তি হয়। এ ব্যাখ্যা পরবর্তী কালের 
বৌদ্ধদের কল্পনাপ্রন্থত, ধাহারা পৌরাণিক কাহিনীর বিশেষ ধার 
ধারিতেন না) যদিও একথা সত্য যে রাজগৃহ অঞ্চল উত্তম থশ খশ. 
ঘাসের জন্ত প্রষিদ্ধ। 
_. টীকাকার বুদ্ধঘোষ বলিয়াছেন রাজগৃহ মান্ধাতা কতৃক স্থাপিত 
হইয়াছিল ; এই কিন্বদস্তীতে সুচনা করে যে, রাজগৃহের স্থাপনা অতি 
প্রাচীনকালে হুইয়াছিল। বৌদ্ধরা বলেন মহাগোবিন্দ নামক একজন 


১৬ রাজগৃহ ও নালন্দা 


স্থপতি রাজগৃহনগর নির্মাণ করেন। গিরিব্রজ নামের “ব্রজ" শব্দের 
অর্থ হুর, গোচারণভূমি নয়। প্রাচীন সাহিত্যে গিরিব্রজকে সর্বত্র 
পর্বতবেষ্টিত সুরক্ষিত ছুর্গস্বরূগে বর্ণনা করা হইয়াছে । মহাভারতের 
বর্ণনায় আছে গোরথগিরি হইতে মগধের রাজধানী দেখ। যাইত। 
ডক্টর বেণীমাধব বড়ুয়া ও জ্যাকসন সাহেব দেখাইয়াছেন যে, 
গয়ার নিকটবর্তী বরাবর - পাহাড়কে গোরথগিরি বল! হইত) ইহা 
পরে প্রবরগিরি নামে আখ্যাত হয় এবং 'প্রবর” শব্দ হইতে “বরাবর, 
শব্দের উৎপতি হয়। 

মহাভারতের সভাপর্বে আছে জরাসন্ধ প্রবলপরাক্রান্ত রাজা 
ছিলেন এবং আদিপর্বে বলা হইয়াছে তিনি অন্থুররাজ বিপ্রচিত্তির 
অবতার ছিলেন; ইহাতে তাহার অনার্য “অন্তর” - জাতিত্ব স্থচন! 
করে। বিপ্রচিত্তি ও জরাসন্ধ নাম সম্ভব অনার্য ভাবার শব্দের 
সংস্কতরূপ। জরারাক্ষসী প্রভৃতির কাহিনী সম্ভব কাল্পনিক বা কোন 
“অন্থর” - কিন্বদস্তীপ্রহ্ুত | বিষুপুরাণে আছে জরাসন্ধ মথুরার রাজা 
কংসের সঙ্গে ছুই কন্তার বিবাহ দিয়াছিলেন এবং কৃষ্ণ কতৃক 
কংসবধের পর কৃষ্ণকে বধ করিবার অভিপ্রায়ে জরাসন্ধ বিপুল সৈন্য 
সমভিব্যাহারে মথুরা! আক্রমণ করেন, কিন্তু পরাজিত হইয়া! ফিরিয়া 
আসেন। মহাভারত ও ব্রহ্মপুরাণে আছে মধখুরা আক্রমণের 
সময়ে জরাসন্ধ উত্তর ভারতের অনেক রাজাদের পরাজিত ও বন্দী 
করিয়া আনিয়া! গিরিব্রজে কারাবদ্ধ করিয় রাখিয়াছিলেন এবং শিবের 
কাছে এ রাজাদের বলি দিতেন। হরিবংশে আছে মধুরা 
আক্রমণের সময়ে জরাসন্ধ কৃষ্ণভাতা বলরামের রথের ঘোড়া মারিয়া 





সোনতাগ্ডার __ জীর্সংস্কারের পুর্বে পৃ ৬৭ - ৬৮ 


জরাসন্ধের যুগে রাজগৃহ ১৭ 


ফেলিয়াছিলেন। মহাঁতারত - শীস্তিপর্বে আছে যে, কর্ণের শৌর্ধখ্যাতি 
শুনিয়া জরাসন্ধ কর্ণের সঙ্গে যুদ্ধ করেন ও পরাজিত হন) কর্ণের 
বীরত্বে প্রীত হুইয়৷ তিনি কর্ণকে মালিনী - নগরীর রাজ! করেন। 
জরাসন্ধ এত প্রতাপশালী ছিলেন যে তাহাকে পরাস্ত না করিয়া 
যুধিষ্ঠির রাজনুয়যজ্ঞ সম্পাদন করিয়া একচ্ছত্রাধিপত্য লাত করিতে 
পারেন নাই। মহাভারত ও ভাগবত - পুরাণে আছে ভীম ও অর্জ,নকে 
সঙ্গে লইয়। কৃষ্ণ গিরিব্রজে যান এবং সেখানে ভীম জরাসন্ধকে বধ 
করার পর কৃষ্ণ জরাসন্ধের পুত্র সহদেবকে মগধের সিংহাসনে বসাইয়া 
জরাসন্ধ কতৃক বন্দীকৃত রাজাদের কারাগারমুক্ত করেন। বৌদ্ধরা 
বলিয়াছেন বহু প্রাচীন কাল হইতে বু রাজা এখানে রাজত্ব 
করায় রাজধানীর নাম রাজগৃহ হয়, আবার পুরাণকাররা বলিয়াছেন 
যে জরাসন্ধ বহু রাজাকে এখানে বন্দী করিয়া রাখায় গিরিব্রজের 
নাম রাজগৃহ হয়। এই ছুই ব্যাখ্যাই অলীক। আসলে রাজগৃহ 
মানে রাজার বসতিস্থান বা রাজধানী । 

জরাসন্ধের সঙ্গে উত্তরভারতীয় আর্ধজাতীয় রাজাদের বিরোধের 
কাহিনীতে প্রাচীন ফুগের আধ - অন্থর বিরোধের ছায়। পাওয়া 
যায়। অধ্যাপক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় ঠিকই বলিয়াছেন 
যে, মগধ বহুদিন পর্যস্ত আর্ধাধিকার প্রতিরোধ করিয়াছিল এবং 
মগধের “অনুর” বিক্রমের সঙ্গে আর্ধরা পারিয়া উঠেন নাই। 
জরাসন্ধের শিবপুজাঁও অর্থময়। শৈবধর্মের আরম্ভ যে প্রাগার্য যুগে 
হইয়াছিল তাহা আজকাল এ্রতিহাসিকগণের কাছে ম্থুবিদিত। শ্রীযুক্ত 
রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় দেখাইয়াছেন যে, শিৰ বহুদিন পর্যস্ত ব্রাহ্মণ্য - 

৮ 


রাজগৃহ ও নালনা। 


১৮ 
ধর্মে হ্বীকত হন নাই এবং অনেক পরে ব্রাঙ্গণ্য মেবসভায় গৃহীত হইয়া- 
ছিলেন।' 

. জরাসম্ধবধের পরেও আর্ধদের মগধজয় সম্পূর্ণ হয় নাই। 
মহাভারতের সভাপর্বে আছে জরাসন্বপুত্র সহদেব রাজস্ব ন৷ দেওয়ায় 
ভীম আবার গিরিব্রজে গিয়া সহদেবকে রাজস্ব দানে বাধ্য করেন 
এবং সহদেব পাগ্বদের সামস্তরাজারূপে যুধিঠিরের রাজনুয়যজ্ঞে যোগ 
দেন। উদ্ভোগপর্বে আছে জরাসন্ধের আর এক পুত্র ধৃষ্টকেতু কুরুক্ষেত্র - 
যুদ্ধে সসৈন্টে পাগ্বপক্ষে যোগ দেন; সহদেব সহজে পাওবদের 
বস্ততা স্বীকার না করিলেও ধষ্টকেতু হয়ত নিজস্বার্থ বধনের উদ্দেস্তে 
পাঁওবপক্ষীয় হইয়াছিলেন। অশ্বমেধপর্বে আবার দেখা যায় কুরুক্ষেত্র - 
যুদ্ধের পর যুধিষ্টিরের অশ্বমেধযজ্ঞের ঘোড়া যখন হস্তিনাপুর অভিমুখে 
যাইতেছিল তখন সহদেবের পুত্র মেঘসদ্ধি ঘোড়া আট্কাইয়। অজুনের 
সঙ্গে যুদ্ধ করেন কিন্ত পরাজিত হন। মগধের অস্থররাজবংশ বার বার 
আর্ধদের রাজচক্রবতিত্বের বিরোধিতা৷ করিতে পম্চাদ্পদ হয় নাই। 


বিশ্বিসারের সময়ে রাজগুহ . 


পৌরাণিক বর্ণনায় জরাসন্ধের শেষ বংশধর রিপুঞ্জয়ের পর প্র্থোত - 
বংশ মগধের অধীশ্বর হন এবং প্রস্তোতবংশের পর শিশুনাগ রা'জগৃছের 
সিংহাসন অধিকার করেন। পুরাণমতে বিদ্বিসার শিশুনাগের বংশধর 
ছিলেন কিন্তু বৌদ্ধ মহাবংসমতে শিশুনাগ বিশ্বিসারের পরবর্তী 
যুগের রাজা। বি্বিসারের পূর্ববর্তী ও পরবর্তাঁ রাজগণের বংশ নাম 
পৌর্বাপর্য রাজত্বকাল প্রভৃতি বিষয়ে পুরাণ ও মহাবংসমতে ঘোর বৈষম্য 
দেখ! যায় এবং আধুনিক এঁতিহাসিকরাও এবিষয়ে সম্পূর্ণ একমত নহেন 
কিন্তু অধিকাংশ এ্তিহাসিক এখন মহাবংসমতেই বেশি আস্থাবান। 
তাহাদের মতে খু. পূ. ৬ শতকে বাহৃদ্রথ বংশের রাজত্ব শেষ হয়। 
কাশীরাজ্য তখন খুব প্রতাপশালী; হয়ত অঙ্গদেশ ( আধুনিক 
ভাগলপুর অঞ্চল) পর্যন্ত কিছুকালের জন্য কাশীরাজ্য বিস্তৃতিলাভ 
করিয়াছিল। কাশীর ব্রহ্গদত্তবংশীয় একজন অঙ্গাধিপতি হয়ত মগধও 
জয় করিয়াছিলেন কারণ বিধুরপপ্ডিতজাতকে রাজগৃহকে অঙদেশের 
নগর বলিয়। উল্লেখ করা হুইয়াছে। 

ভট্টিয় নামক মগধের রাজার পুত্র বিধিসার ব্রহ্গদত্তবংশীয় অঙ্গ - 
রাজকে পরাজিত ও বধ করিয়া অঙগদেশের রাজধানী চম্পানগরী 
অধিকার করিয়া সেখানে পিতার উপরাজ (ড্০9:০$) রূপে বাস 
করেন এবং পিতার মৃত্যুর পর রাজগৃহে আসিয়া মগধের সিংহাসনে 
আরোহণ করেন। কবি অশ্বঘোষের বুদ্ধচরিত - কাব্যে বিশ্বিসারকে 


২০ রাজগৃহ ও নালন্দা 


হ্যংকবংশীয় বলা হইয়াছে। বিদ্বিসার নামের অর্থ ঠিক জানা যায় 
নাঃ কেহ বলেন তার মাতা! রানী বিশ্বির নামানুসারে এই নাম হয়, 
কেহ বলেন তার বর্ণ উৎকৃষ্ট হ্ববর্ণের মত ছিল, তাই তাহাকে 
বিশ্বসার নাম দেওয়া হয়। তিনি শ্রেণীক বা শ্রেণ্য নামেও পরিচিত 
ছিলেন) এই নামেরও অর্থ স্পষ্ট নয়, কেহ বলিয়াছেন তিনি বহু 
সৈন্তের অধিপতি হওয়ায় প্র নাম পাইয়াছিলেন। বৌদ্ধদের কাছে 
রাজগৃহ বিশ্বিসারপুরী নামেও খ্যাত ছিল। বৌদ্ধশাস্ত্রে আছে অঙগদেশ 
জয় করার সময়ে বিশ্বিসারের বয়স ১৬ বছর ছিল। 
বিদ্বিসার ও অজাতশক্রর রাজত্বকালই রাজগৃহের চরমসমৃদ্ধির যুগ। 
বিদ্বিসারের রাজত্বকালের প্রারস্তে আধুনিক পাটনা! জেলা ও আধুনিক 
গয়াজেলার উত্তরাংশ, এই ভূভাগ ছিল মগধের সীমা! | এই সময়ে প্রাচীন 
ও সমৃদ্ধ কাশীরাজ্য কোঁশলরাজ মহাকোশল কতৃকি পরাভূত ও অধিকৃত 
হয় এবং অঙ্গরাজ্যও মগধের অঙ্গীভূত হয় । বুদ্ধিমান বিষ্বিসার নিজের 
শত্তিবৃদ্ধির জন্য অন্য ক্ষমতাশালী রাজাদের সঙ্গে মিত্রতা ও বৈবাহিক 
সম্বন্ধ স্থাপন করেন। তিনি কোশলরাজকন্তা কোশলাদেবীকে বিবাহ 
করেন এবং*এই বিবাহে কোশলরাজ কন্ার স্নানচুর্ণের (স্নানের সময়ে 
ব্যবহৃত গন্ধপ্রব্যাদির) ব্যয় নির্বাহের জন্ত কাশীগ্রামের রাজস্ব যৌতুকস্বরূপ 
দান করেন। গান্ধাররাজ পুক্কুসাতির সঙ্গে বিশ্বিসারের পত্রব্যবহার ছিল 
এবং অবস্তীরাজ প্রচ্চোতের পীড়ার সময়ে প্রগ্যোতের অনুরোধে বিদ্বিসার 
নিজ চিকিৎসক জীবককে প্রচ্ভোতের চিকিৎসার জন্য পাঠাইয়াছিলেন। 
পঞ্জাবের মদ্রদেশের রাজকন্যা ক্ষেমা, বৈশালীর লিচ্ছবি - রাজবংশীয়া এক 
কন্! এবং বিদেহাধিপতির এক কন্তাকেও বিশ্বিসার বিবাহ করিয়াছিলেন । 


বিশ্বিসারের সময়ে রাজগৃই ২১ 


বিভির পত্ধীর গর্ভজাত বিদ্িসারের আটটি পুত্রের নাম পাওয়া যায়, 
তার . মধ্যে অজাতশক্রই ছিলেন জ্যেষ্ঠ । অজাতশক্রর মাতা কে 
ছিলেন সে সম্বন্ধে বু বিভিন্ন কথ। উল্লিখিত আছে, কিন্তু সম্ভব কোশল - 
রাজকন্যাই তার মাতা ছিলেন। বিদ্বিসার রাঁজকার্ষে স্ুনিপুণ ছিলেন। 
চুল্লবগ.গে উল্লিখিত আছে যে, তিনি মহামাত্র বা মন্ত্রীদের ও উচ্চ 
রাজকর্মচারীদের কাজে তীক্ষু দৃষ্টি রাখিতেন এবং যাহার! কার্ষে সতত! ও 
দক্ষতা দেখাইত তাহাদের পুরস্কার করিতেন এবং অসাধু ও অক্ষমমের 
পদচ্যুত করিতেন। রাজ্যের গ্রামিকদের (গ্রামের প্রধান ব্যক্তিদের ) 
লইয়া তার একটা ঝড় রাজসভার কথা মৃহাবগ গে উল্লিখিত আছে। 

বৌদ্ধ ও জৈন সাহিত্যের বর্ণনায় দেখা ষায় সে বুগে রাজগৃহ বহুতরু - 
পু্পশোভিত বহুঅট্টালিকা - প্রাসাদসমন্থিত বহুজনপুর্ণ অতি সমৃদ্ধ 
নগর ছিল। অনেক ধনবান শ্রেষ্ঠী প্রভৃতির তোরণযুক্ত প্রাচীরবেষ্টিত 
গৃহাদদি ছিল। রাজগৃহ ব্যবসাবাণিজ্যের বড় কেন্্রস্থান ছিল। অনেক 
রাজগৃহবাসী বড় বড় ব্যবসায়ী বাণিজ্যোপলক্ষে সমুদ্রযাত্রাী করিতেন 
এবং অনেক বিদেশী ব্যবসায়ীরা রাজগৃহে আমিতেন। 

নগরে অনেক প্রকার উৎসব হইত এবং কোন কোন উৎসবে 
লোকে বহু মগ্ভপান ও মাংসভোজন করিত এবং নানাবিধ নৃত্যগীতাদ্দির 
অনুষ্ঠান হইত। এইরূপ মেল! বা উৎসবকে 'সমাজ' বলা হইত। 
একবার কয়েকজন বিদেশী বণিক পণ্যক্রয় করিতে রাজগৃহে আসিয়া 
নগর উৎসবমত্ত থাকায় কেনাকাটা কিছুই করিতে পারে নাই। এরূপ 
একটি উৎসবের নাম পালিতে “গিরগগ - সমজজ+ বল! হইয়াছে; 
গিরগগর শব্দে টীকাকার “যাহা পাহাড়ের উপর হয়, অথবা পাহাড়ের 


উপর হইতে দেখিতে হয়” বুঝিয়াছেন, কিন্তু এখানে ইহাতে গিরিয়াক্‌ 
গ্রাম বুঝান হয়ত অসম্ভব নয়ঃ এখনও কাতিক-পৃণিমায় গিরিয়াক 
গ্রামে বড় মেলা বসে। 

বৈদিকক্রান্ষণ্যধর্ম - বিরোধী এবং অন্ত নানাবিধ ধর্ম ও দর্শনসন্বন্ধীয় 
স্বাধীন মতবাদ প্রচারের প্রধানক্ষেত্রও সে যুগে ছিল রাজগৃহ। 
মহাসকুলদায়ি নামক একজন পরিব্রাজক একবার বুদ্ধকে বলিয়াছিলেন 
যে, মগধ ও অঙ্গদেশ বিবিধ - প্রকার ধর্মমতে পরিপূর্ণ । মজ ঝিমনিকায় 
ও মচাবগ গে উল্লিখিত আছে সম্বোধিলাভের পর বুদ্ধের মনে হইয়াছিল 
যে, মগধে প্রচলিত বিবিধ দুষিত ধর্মমত ও আচারের সংস্কার - সাধনই 
তাহার প্রথম কর্তব্য। 

প্রাচীরবেষ্টিত রাজগৃহ নগরের চার দিকে নদী বা পরিখা ছিল। 
নগরের প্রবেশদ্বারগুলি . সন্ধ্যার পর যখন বন্ধ করা হইত তখন 
কাহাকেও, এমনকি রাজাকেও নগরে প্রবেশ করিতে দেওয়া হইত 
না। বিঘ্িসার একবার 'তপোদা সরোবরে ত্বান করিয়া ফিরিবার 
সময়ে নগরঘার রুদ্ধ দেখিয়া “বেগুবনে” রাত্রি কাটাইয়াছিলেন। বুদ্ধ- 
ঘোষ প্রবেশদ্বারগুলির সংখ্যা ৬৪ ও রাজগৃহ-অধিবাসীদের সংখ্যা 
বহুকোটি বলিয়াছেন। ইহা অত্যুক্তি সন্দেহ নাই। নগরের উত্তর 
দ্বার হইতে যে রাস্তা বাহির হইয়াছিল তাহা নালন্দা! পাটলিগ্রাম 
( এখানেই পরে পাটলিপুত্র নগর প্রতিষ্ঠিত হয় ) এবং গঙ্গার অপরপারে 
বৈশালী প্রতৃতির দিকে গিয়াছিল। পূর্বদিকের চম্পানগরী প্রভৃতি 
স্থানে যাইতেও এই পথে রাজগৃহ হইতে বাহির হইতে হুইত। 
রাজগৃহ ও নালন্দার মধ্যে খাহ্মত ও অন্বলট্ঠিকা ( আমমষ্টিকা ) নামে 


বিদ্বিসারের সময়ে রাজগৃহ ২৩. 


গ্রাম ছিল, ইহাই ছিল রাজগৃহ হুইতে যাত্রা করিয়। প্রথম বিশ্রামস্থান। 
অন্বলট্ঠিকাতে বিদ্বিসারের একটি “আরাম” বা বাগানবাড়ি ছিল। 

বুদ্ধঘোষ বলিয়াছেন .রাজগৃহ “অস্তোনগর” ৰা ভিতরের নগর 
এবং “বহিনগর” বা বাহিরের নগর, এই দুই ভাগে বিতুক্ত ছিল। 
গিরিমালাবেষ্টিত নগর সম্বন্ধেই একথ বুদ্ধঘোষ বলিয়াছেন কিনা তা 
ঠিক বলা যায় না। ডক্টর শ্রীবিমলাচরণ লাহা মহাশয় বলেন যে, 
বৃদ্ধঘোষ গিরিবেষ্টিত নগরকে “অস্তোনগর এবং তাহার বাহিরের 
শহরতলি অংশকে ( যেমন উত্তরে বর্তমান [ঘ৪দণ 7০: অঞ্চল প্রভৃতি ) 
'বহিনগর” বলিয়াছেন। কিন্তু ডক্টর শ্রীরমেশচক্জর মজুমদার .মহাশয় 
মনে করেন গিরিমালাবেষ্টিত নগরের দক্ষিণাংশে রাজপ্রাসাদাদি ছিল 
এবং উত্তরাংশ ও দক্ষিণাংশের মধ্যে প্রাচীর ছিল। সম্ভব দক্ষিণ।ংশের 
প্রাসাদ - সমন্বিত ভাগকে বুদ্ধঘোষ অস্তো'নগর ও উত্তরাংশকে বহিনগর 
বলিয়াছেন । 

প্রাচীন নগর সম্পর্কে হিউয়েন ৎসাংও কখন প্রাসাদনগর* 
কখনও বা গিরিনগরের+ উল্লেখ করিয়াছেন। প্রত্বতত্ব বিভাগ এই 
ছুই নগরকেই এক মনে করিয়! ভুল করিয়াছেন। ডক্টর মজুমদার 
দেখাইয়াছেন যে, হিউয়েন ৎসাং প্রাসাদনগর বলিতে গিরিবেষ্টিত 
প্রাচীন নগরের দক্ষিণাংশ এবং গিরিনগর . বলিতে. ইহার উত্তরাংশ 
বুঝিয়াছিলেন। হিউয়েন ৎসাং শুনিয়াছিলেন যে, গিরিমালাবেষ্টিত 
নগরের (এখন যাহাকে 018 দাঁ০: বলা. হয়) নাম ছিল গিরিব্রজ 
এবং তাহার বাহিরে উততরদিকের নগরকে ( এখন যাহাকে ৪ ০: 
বলা হয়) রাজগৃহ বলা হইত। ফা হিয়েনও 'নৃতন নগর? . ও 


২৪ রাজগৃহ ও টনি 


“পুরাতন নগরের' কথা বলিয়াছেন এবং তিনি শুনিয়াছিলেন যে, 
নুতন নগর! (মদ চ০:) অজাতশক্রকভৃ'ক নিমিত হইয়াছিল কিন্ত 
হিউয়েন ৎসাং শুনিয়াছিলেন যে, কেহ বলেন ইহ। বিশ্বিসারনিমিত, 
কেহ বলেন ইহা অজাতশক্রনিগিত। 

ডক্টর লাহা বলেন নুতন” ও পুরাতন” নগর সম্বন্ধে এই যেসব, 
জনশ্রুতি চীন! পরিব্রাজকরা শুনিয়াছিলেন তাহা শ্রমপ্রহ্ত -_ পরবর্তী 
কালে পাটলিপুত্র প্রভৃতি স্থানে একাধিকবার রাজধানী স্থানাস্তরিত 
হওয়ায় জনম্থৃতিতে এই ভ্রমের উৎপত্তি হুয়, কারণ যেখানে রাজধানী 
স্থানান্তরিত হইত রাজ! সেখানে থাকিতেন বলিয়া তাহাই যেন “নূতন 
রাজগৃহ অর্থাৎ রাজধানী হইয়া দাঁড়াইত। ডক্টর লাহার মতে ওক 
7০: অঞ্চল প্রাচীন রাজগৃহের সমসাময়িক শহরতলি অঞ্চল ছিল) 
ইহার পশ্চিমাংশের পাথরের দেওয়ালঘের! এলাকায় সম্ভব রা'জপ্রাসাদাি 
ছিল এবং পূর্বাংশে প্রাচীরবেষ্টিত সাধারণ লোকের বসতি ছিল 
(মানচিত্র ২)। 

কিন্তু প্রাচীন বৌদ্ধশান্ত্রে রাজগৃছের বর্ণনায় “নূতন নগরের, 
অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না এবং হিউয়েন ৎসাং যেসব 
কিন্বদস্তীর উল্লেখ করিয়াছেন তাহাতে মনে হয় বিশ্িসারের রাজত্ব - 
কালের শেষদিকে অথবা অজাতশক্রর সময়ে 'নৃতন নগর+ নিখিত হয়। 
অক্সিকাণ্ড বা মহামারীতে প্রাচীন নগর ছাড়িয়া হয়ত রাজা এখানে 
আবাস স্থাপন করিয়াছিলেন অথবা উত্তরদিক হইতে বৈশালীর 
লিচ্ছবিদের আক্রমণ প্রতিরোধ করিবার প্রয়োজনে রাজ! এখানে নুতন 
ুর্গ স্থাপন করিয়াছিলেন। 


মস ১০ ১০১০১০১ ১০১১ ০ এ 
হে পচ এত ঘুর ক) 5 ৮৯ কি টু 


৮৮%-- ০৪ 





বিশ্বিসারের সময়ে রাজগুহ ২৫ 


রাজগৃহের পাহাড়গুলি এখন যে নামে পরিচিত, যথা বিপুলগিরি 
রত্বগিরি ছঠাগিরি ( অর্থাৎ বষ্ঠগিরি ) শৈলগিরি উদয়গিরি সোনাগিরি 
ও বৈভারগিরি ( মানচিত্র ১), তাহা! জৈনদের দেওয়া । 

মহাভারতে এখানকার “পাঁচ” পাহাড়ের নাম একবার বল! হইয়াছে 
বৈহার (ইহার বিশেষণরূপে পবিপুলঃ শৈলঃ” কথা ব্যবহৃত হইয়াছে ) 
বরাহ, বৃষভ, খষিগিরি ও গুতচৈত্যক এবং আর একবার বল! হইয়াছে 
পাঁগ্ডর, বিপুল, বরাহক, চৈত্যক ও মাতঙগ। 

বৌদ্শাস্ত্রে হাদের নাম পাওব, গিজঝকূট (গৃণকূট ), বেতার 
(বৈভার ), ইসিগিলি ( খবিগিরি ) ও বেপুল্প (বিপুল )। : 

ডক্টর লাহ৷ সবিশেষ আলোচন! করিয়া সত্যই বলিয়াছেন যে, 
কিছু কিছু এঁক্য থাকিলেও এইসব বিভিন্ন নামে কাহারা কোন্‌ 
পাহাড় বুঝিতেন তাহা নির্ণয় করা অতি হুঃসাধ্য। বিভিন্ন যুগে 
পাহাড়গুলির বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন নামে অভিহিত হুইয়াছে। 

প্রত্বতত্ব বিভাগ বলিয়াছেন হিউয়েন ৎসাং যে পাহাড়কে 
পি - পু- লো বলিয়৷ উল্লেখ করিয়াছেন তাহা আধুনিক বৈভারগিরি 
কিন্তু ডক্টর মজুমদার ঠিকই বলিয়াছেন যে, হিউয়েন ৎশাং এ নামে 
বিপুলগিরিকেই মনস্থ করিয়াছিলেন। বৈভারগিরিতে প্রাপ্ত একটি 
শিলালিপিতে বৈতার বা বৈহার স্থলে 'ব্যবহারগিরি' নামও পাওয়া 
গিয়াছে। 

এখন যে ছোট পাহাড়টিকে গৃথ্বকূট বল! হয়, ডক্টর লাহার মতে 
বৌদ্ধরা সম্ভব তার চেয়ে অনেক বৃহত্তর গিরিভাগকে ( অর্থাৎ শৈলগিরি 
ও উদয়গিরিকেও) ধী নাম দিতেন। বৌদ্ধদের ইসিগিলি খুব সম্ভব 


২৬ রাজগৃহ ও নালন্দা 


আধুনিক সোনাগিরি। ডক্টর লাহার মতে বৌদ্ধদের পাওব - আধুনিক 
বিপুলগিরি, এবং বৌদ্ধদের বেপুল্প- আধুনিক রত্বগিরি +ছঠাগিরি | 
রাজগৃছের উঞ্জল প্রত্রবণের উল্লেখ “তপোম” নামে মহাভারতে 

আছে। ব্রহ্মার তগস্তাপ্রস্ুত বলিয়া এই নামের উদ্ভব হয় এ ব্যাখ্যা 
বোধহয় ঠিক নয়। সম্ভব তপ্ত+উদ। বা উদক) হইতে এই নামের 
উৎপত্তি হয়। বৌদ্ধশান্ত্রে রাজগৃছের প্রধান জলঝোতের নাম 
তপোদা) এই জল বাঁধিয়া একটি ছোট হুদ বা পুফরিণী প্রস্তত 
হইয়াছিল, রাজ! বিশ্বিসার তাহাতে ক্গান করিতেন। ইহার তীরে 
তপোদারাম নামে বিশ্বিসারের একটি বাগান ছিল। 

বুদ্ধ ও সজ্ঘের জীবনসম্পর্কে বৌদ্ধশান্তে রাজগৃছের অনেক স্থানের 
উল্লেখ আছে কিন্তু কোন্‌ স্থানটি কোথায় ছিল তাহা সব সময়ে ঠিক 
বুঝা যায় না। 


রাজগৃহে বুদ্ধ ও মহাবীর 


ধ্রতিহাসিকরা বলিয়াছেন যে, বুদ্ধ গয়ায় বোধিলাভ ও কাশীতে 
প্রথম ধর্মপ্রচার করিলেও তাহার শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র ছিল রাজগৃহ 
এবং এখান হইতেই তাহার শিক্ষা অন্য সর্বত্র প্রসারিত হইয়াছিল। 
বুদ্ধ ও তাহার প্রধান শিষ্যদের জন্যই রাজগৃহ আজ জগছিখ্যাত। 
জৈন ও আজীবিক প্রভৃতি ব্রাহ্মণ্যবৈদিকধর্ম - বিরোধী সম্প্রদয়েরও 
প্রধান প্রচারক্ষেত্র ছিল রাজগৃহ অঞ্চলে। রাজগৃহ ছিল সে ধুগে 
স্বাধীন ধর্মদর্শনচিস্তার কেন্ত্রস্থল। বুদ্ধ গৃহত্যাগের পর কপিলবাস্ত 
হইতে মল্লরাজ্যন্থ (বর্তমান গোরথপুর জেল! ) অগ্ুপ্রিয় নামক স্থানে 
আসিয়া সন্ন্যাসজীবন গ্রহণ করেন। জাতকে আছে তিনি অস্ুপ্রিয় 
হইতে সোজ! রাজগৃছে আসেন এবং রাজগৃহ হইতে আলাড় কালাম 
ও উদ্রক রামপুত্র নামক গুরুঘ্বয়ের কাছে শিক্ষালাভ করিতে যান। 
মহাবস্ততে কিন্তু আছে তিনি বৈশালীতে আলাড় কালামের কাছে 
এবং তারপর রাজগৃহে উদ্রেকের কাছে শিক্ষাগ্রহণ করেন। ললিত - 
বিস্তরের কাহিনীও প্রায় মহাবস্তর মত। কিন্তু এই বিষয়ে সবচেয়ে 
প্রামাণিক ও প্রাচীন উল্লেখ আছে দীঘনিকায়ের মহাসচ্চকন্ুত্তে ) 
ইহাতে বুদ্ধের নিজমুখে বলা হইয়াছে যে, তিনি আলাড় ও উদ্রকের 
কাছে শিক্ষ। গ্রহণের পর মগধে আসেন। 

রাজগৃহেই বুদ্ধ প্রথম ভিক্ষায় বাহির হন। প্রথম তিক্ষায় প্রাপ্ত 
অন্ন তাহার কাছে এত কদর্য মনে হয় যে, তাহা খাইতে তাহার 


২৮ রাজগৃহ ও নালন্দা 


*বিবমিষার উদ্দ্রেক হয়, কিন্তু “আমি সন্ন্যাসী, তিক্ষা প্রাপ্ত অন্লই আমাকে 
খাইতে হইবে” এই চিন্তা করিয়া! তিনি নিজেকে খঁ অব্ন খাইতে বলপুর্বক 
বাধ্য করেন। বুদ্ধের ভিক্ষার নিয়ম ছিল এই, তিনি দিনে একবার 
মাত্র আহার করিতেন) পূর্বাহে সম্বতবেশে তিক্ষাপাত্রহত্তে বাহির 
হইয়া ,তিনি গৃহস্থের দ্বারে নীরবে নতমুখে দ্ীড়াইয়! তিক্ষা প্রার্থনা 
করিতেন, একদ্বারে না পাইলে অন্ত দ্বারে যাইতেন। ক্ষুন্িবৃত্তির 
পক্ষে পর্যাপ্ত ভিক্ষা পাইলেই তিনি আবাসস্থানে ফিরিয়া আসিতেন। 
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাহ! পাইতেন তাহাই খাইতেন, কিছু না পাইলে 
অনাহারে থাকিতেন। প্রথমবার রাজগৃহে আসিয়া তিনি পাগ্ব 
পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। 

বুদ্ধের নিজমুখে বণিত তপন্তা জীবনের কাহিনীতে উল্লেখ না 
থাকিলেও বৌদ্ধরা অন্ত্র - বলিয়াছেন যে, একবার বুদ্ধ রাজগৃহ নগরে 
তিক্ষায় বাহির হইলে বিদ্বিসার প্রাসাদবাতায়ন হইতে পথে বুদ্ধকে 
দেখিয়া তাঁহার সৌম্য ও অভিজাত মুর্তিতে আকৃষ্ট হন এবং 
লোক পাঠাইয়! তাহার বাসস্থানের খোঁজ নেন। এই তিক্ষাটনের 
সময়ে নিশ্চয় বুদ্ধ নগরের দক্ষিণাংশের রাজপ্রাসাদ এলাকায় 
গিয়াছিলেন, নতুবা প্রাসাদবাতায়ন হইতে বিশ্বিসার তাঁহাকে দেখিতে 
পাইতেন না। দক্ষিণাংশের প্রাসাদ এলাকা পাওবপাহাড় ( অর্থাৎ 
আধুনিক বিপুলগিরি ) হইতে অনেক দূর, বৌদ্বশান্ত্রের বর্ণনায়ও তাই 
দেখ! যায় যে, রাজার প্রেরিত চরদিগকে বুদ্ধের পশ্চাদস্থুসরণ করিয়া 
নগর অতিক্রম করিয়া তাহার বাসস্থান পর্যস্ত আসিতে অনেক পথ 
হাটিতে হইয়াছিল। 


রাজগৃহে বুদ্ধ ও মহাবীর ২৯ 


বুদ্ধের সৌম্যমৃত্তি অনেককেই আকৃষ্ট করিত। তিনি দীর্ঘদেহ, 
গ্রশত্তবক্ষ ও গৌরবর্ণ ছিলেন এবং ধীর দীর্ঘ পদক্ষেপে চলিতেন। 
চরদের মুখে তাঁর বাসস্থানের খোঁজ পাইয়! বিশ্বিসার পাণ্ৰ পাহাড়ের 
গুহায় আসিয়া বুদ্ধের সহিত সাক্ষাৎ করেন। বিদ্বিসারের প্রশ্্ের 
উত্তরে বুদ্ধ নিজের বংখপরিচয় দিয়াছিলেন এবং বলিয়াছিলেন যে, তিনি 
যে সত্যলাভ করিবার জন্ত ব্যাস গ্রহণ করিয়াছিলেন, তাহা! তখনও 
লাত করেন নাই। বিশ্বিসার তাহাকে অন্থরোধ করেন যে, তগন্তায় 
সিদ্ধিলাতের পর তিনি যেন আবার রাজগৃছে আসেন এবং বুদ্ধ ইহাতে 
সম্মত হন। 

প্রথম রাজগৃহে আসিয়া স্থানটি তাল লাগায় বুদ্ধ ভাবিয়াছিলেন 
"এইখানেই আমার বাসস্থান হইবে, এইখানেই আমি থাকিব”, কিন্ত 
তাহা হয় নাই। রাজগৃহ হইতে তিনি উরুবেলে গিয়া কঠোর কৃচ্ছ সাধন 
আরম্ভ করেন এবং তাহাতে প্রায় মৃত্যুমুখে পৌছিয়াও অভীষ্ট সত্যলাভ 
না হওয়ায় কৃচ্ছ ত্যাগ করিয়া আহারাদি আরম্ভ করেন। বোধিলাভের 
পর তিনি বারাণসীর খবিপত্তন - মুগোগ্ভানে গিয়া ধর্ম প্রচারের পর 
আবার গয়ায় আসিয়া সেখান হইতে রাজগৃহে আসেন। ইতিমধ্যে 
কেহ কেহ তাছার শিষ্যত্ব গ্রহণ করিয়াছিলেন, তাহাদের মধ্যে 
উরুবেলের কাশ্তুপগোত্রীয় জটিল বা জটাধারী সম্প্রদায়ের কয়েকজন 
ব্রাহ্মণ ভাতা ছিলেন। 

সশিষ্য বুদ্ধ রাজগৃহে আসিয়া নগরের প্রায় ৬ মাইল দক্ষিণ - 
পশ্চিমে লট্ঠিবন (যষ্টিবন, আধুনিক জেঠিয়ান গ্রাম) নামক স্থানে 
বিদ্বিসারের একটি তালবাগানে আশ্রয় গ্রহণ করেন। বিদ্থিসার 


৩. রাজগৃহ ও নালন্দা 


এখানে আসিয়! বুদ্ধের সহিত সাক্ষাৎ করিয়া, তাহাকে সসম্মানে 
অভ্যর্থনা করেন। সেকালের সব রাজাদের মত বিশ্বিসারও সব 
সম্প্রদায়ের ধর্মগুরুদদের সম্মান করিতেন। জৈনরা বলিয়াছেন বিশ্বিসার 
মহাবীরতক্ত ছিলেন কিন্তু সম্ভব বিদ্বিসার বুদ্ধেরই বেশি পক্ষপাতী 
ছিলেন। রাজগৃছের সমুদায় অধিবাসি - পুরঃসর বি্বিসারের মহা! - 
সমারোহে বুদ্ধকে সম্বধনার যে বর্ণনা বৌদ্ধরা করিয়াছেন, তাহা পরবর্তী 
কালের ভক্তকল্পনাপ্রহ্ত অতিরঞ্জন। 

কিছুদিন পরে লোকজনের বুদ্ধের কাছে যাতায়াতের দ্বিধা হইবে 
বলিয়া নগর হইতে বেশি দূরও নয়, নগরের জনকোলাহলের বেশি 
কাছেও নয় এমন একটি স্থান বুদ্ধের বাসের জন্য মনস্থ করিয়া বিশ্বিসার 
বৃদ্ধের হাতে স্বর্ণভৃঙ্গার হইতে জল ঢালিয়! বুদ্ধ ও সঙ্ঘের ব্যবহারের 
জন্য নিজের *বেগুবন - আরাম” নামক উপবন দান করেন। বেণুবনের 
মধ্যে কলনদক - নিবাপ নামক একটি স্থুন্দর পুফরিণী ছিল। 

বুদ্ধ বর্যাকালের চার মাস ছাড়া অন্ত সময়ে স্থান হইতে স্থানাস্তরে 
ভ্রমণ করিয়া ধর্মপ্রচার করিতেন। যখন কোন স্থানে থাকিতেন 
তখনও এক জ্ঠায়গায় বেশিদিন .থাকিতেন না, কাছাকাছি নানা 
জায়গায় কখনও এখানে কখনও ওখানে বাস করিতেন। বেণুবন ছাড়া 
রাজগৃহের অন্ত যেসব স্থানে তিনি থাকিতেন, তার মধ্যে গৃথকুট 
ছিল তার সবচেয়ে প্রিয়। বিশ্বিসার প্রায়ই গৃথরকুটে বুদ্ধের সঙ্গে 
সাক্ষাতের জন্ত যাইতেন এবং যাতায়াতের স্থৃবিধার জন্ত পাহাড়ের 
গায়ে রাস্তা প্রস্তত করিয়৷ দিয়াছিলেন। তাছাড়া সপ্তপর্ণা গুহা, 
শীতবন প্রভৃতি স্থানেও বুদ্ধ কখন কখন থাকিতেন। তাহার 


রাজগৃহে বুদ্ধ ও মহাবীর ৩১ 


প্রচারজীবনের প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে বুদ্ধ বহুবার রাজগৃছে আসিয়! - 
ছিলেন। 

গৃথ্তকূটে বাস করিবার সময়ে তিনি মধ্যে মধ্যে খবিগিরি, 
সপিরী নদীতীর ( এখন রাজগৃহ - গিরিমালার পূর্বদিকে পঞ্চনা নামে 
যে নদী আছে, বুদ্ধের যুগে তাহাই সম্ভব গিরিমালার দক্ষিণে 
সর্পিণী নামে প্রবাহিত ছিল) প্রভৃতি স্থানে বেড়াইতে যাইতেন। 
এইসব স্থানে এবং রাজগৃছের গিরিমালার উপরে ও চারদিকে 
সেধুগে নানা সম্প্রদায়ের সাধুসক্ক্যাসীদের অনেক আবাস ও লাধনাস্থান 
ছিল। 

রাজগৃহের সব স্থানের মধ্যে গৃধকূট ও বেণুবন, বিশেষত গৃথকুট 
বৌদ্ধজগতের কাছে পরম পবিত্র তীর্থ। নানা বিদেশী বৌদ্ধরা 
এখানে ভক্তিপ্রুতচিত্তে সাষ্টা্গগ্রণামাদি করেন। বুদ্ধের বহু উপদেশ, 
কথাবার্তা প্রভৃতির সঙ্গে গৃধকুট ও বেণুবন ঘনিষ্ঠ জড়িত। বৌদ্বশান্তরে 
আছে ধনিয় নামক একজন কুম্তকারপুত্র গৃ্ধকূটের পাদদেশে একটি সুন্দর 
উপবন নির্মাণ করিয়াছিল, অনেক লোক তাহ! দেখিতে আসিত। 

যাহার! বুদ্ধের ধর্মপ্রচারে বিশেষ সহায়ত করিয়াছিলেন, এমন 
শিষ্যদের মধ্যে অনেকে রাজগৃহ অঞ্চলের লোক ছিলেন এবং 
রাজগৃহেই বুদ্ধের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। সারিপুত্র ও মৌদ্‌গল্যায়ন 
নালন্দার ব্রাহ্ণ বংশে জাত অতি মেধাবী ও চরিত্রবান লোক ছিলেন। 
বুদ্ধের শিক্ষা প্রচারে ইহারা বুদ্ধের দক্ষিণহস্ত - স্বরূপ ছিলেন। ইহারা 
প্রথমে সঞ্জয় বেলট্ঠিপুত্ত ( বৈরাটাপুত্র ) নামক গুরুর শিষ্য ছিলেন। 
সঞ্জয় সংশয়বাদী অর্থাৎ প্রচলিত সব দার্শনিক মতের সত্যতায় সন্দিহান 


৩২ রাজগৃহ ও নালন্দা 


ছিলেন। কথিত আছে যে, অশ্বজিৎ নামক বুদ্ধশিষ্যের কাছে বুদ্ধের 
কথ! শুনিয়া সারিপুত্র বুদ্ধের শিক্ষায় আকৃষ্ট হন এবং বুদ্ধের সঙ্গে 
আলাপ করিয়৷ তাহার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। সারিপুত্রের কাছে 
গুনিয়া মৌদ্‌গল্যায়ন বুদ্ধের শিষ্য হন। 

এই ছুই মেধাবী পণ্ডিতের বুদ্ধশিষ্যত্ব গ্রহণে রাজগৃছের অন্থান্ঠ 
ধর্মসন্প্রদায় ও সাধারণ লোকের মধ্যে কিছু চাঞ্চল্য উপস্থিত হয়। 
ভিক্ষুরা পথে বাহির হইলে লোকে একট! ছড়া বলিয়া তাহাদের 
ক্ষ্যাপাইতে আরম্ভ করে, “মহাশ্রমণ গিরিব্রজে আসিয়াছেন, তিনি 
সঞ্জয়ের সব শিষ্যদের তাঙাইয়া লইয়াছেন) তারপর তিনি কাহাদের 
তাঙাইবেন ?” তিক্ষুদের মুখে এই কথা শুনিয়৷ বুদ্ধও আর একটা 
ছড়া রচনা করিয়া প্রত্যুন্তরে বলিতে তিক্ষুদের শিখাইয়া দেন, 
“তথাগতরা সন্ধর্ম্ধারা লোককে চালান, ইহাতে কে নিন্দা করিতে 
পারে?” ভিক্ষুরা এই ছড়া বলিতে আরম্ভ করিলে লোকে তাহাদের 
ক্ষ্যাপান বন্ধ করে। শাস্ত্রে এই ব্যাপারটি গুরুগন্ভীরতাবে বণিত আছে, 
কিন্ত ইহাতে বুদ্ধের রসজ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়। 

ু্ধনির্বাণেক্র কিছু পূর্বে সারিপুত্র ও মৌদ্গল্যায়নের মৃত্যু হয়। 
সারিপুত্রের মৃত্যু হয় তার জন্মস্থান নালন্দায়। মৌদ্‌গল্যায়ন একবার 
যখন খধিগিরি পাহাড়ের গুহায় বাস করিতেছিলেন তখন বিরুদ্ধ 
সম্প্রদায়ের লোকে গুণ লাগাইয়া তাহাকে হত্যা করিয়া খণ্ড খণ্ড 
করিয়৷ কাটিয়া ফেলে। বেণুবনের প্রবেশদ্বারের কাছে মৌদৃগল্যায়নের 
স্বতিতে স্তপ রচিত হয়। ভক্তিভাজন লোকের গ্ররূপ অপঘাতমৃত্যু 
বোধহয় অযশঙ্কর বিবেচনা করিয়া পরে বণিত হয় যে, মৌদ্‌গল্যায়ন 





রাজগৃহে বুদ্ধ ও মহাবীর ৩৩ 


এই আক্রমণ হইতে বাঁচিয়া উঠেন এবং নালন্দাস্লিকটে কোলিকগ্ামে 
তাহার মৃত্যু হয়। 

শ্রাবস্তীর ধনবান শ্রেষঠী অনাথপিগদ ব্যবসা উপলক্ষে রাজগৃছে 
বৈবাহিক গৃহে আসিয়া বুদ্ধের কথ শুনিয়া তাহার শিষ্যত্ব গ্রহণ 
করেন। সজ্ঘকে অনাথপিগদের বহু দানাদির কথা বৌদ্ধশান্তরে 
প্রসিদ্ধ । সারিপুত্র প্রভৃতির চেয়ে অনেক বয়ঃকনিষ্ঠ যে মহছাকাশ্তপ 
(ইনি উরুবেলের জটিল কাণ্ঠপ -ত্রাতাদের হইতে ভিন্ন ব্যক্তি) 
পরে সজ্বের অধিনায়ক হন এবং বুদ্ধনির্বাণের পর রাজগৃছে সম্মিলিত 
প্রথম ধর্মসঙগীতি (1786 73080010186 0০0010011) ধাঁহার সভাপতিত্বে 
পরিচালিত হয়, সেই মহাকাশ্তপও রাজগৃহের ব্রাহ্মণসস্তান ছিলেন। 
তিনিও প্রথমে অন্য গুরুর শিষ্য ছিলেন। রাজগৃহ হইতে নালন্দার পথে 
বনুপুত্রকচৈত্য নামক একটি গাছতলায় বুদ্ধের সঙ্গে তাহার প্রথম সাক্ষাৎ 
হয়। পিখোল তারদবাজ নামক আর একজন অগ্রগণ্য বুদ্ধশিষ্য 
এবং সঙ্মের প্রধান বাগ্মী কুমার কাশ্ঠপও রাজগৃহের ব্রাহ্মণসম্তান 
ছিলেন। 

রাজগৃছের বিখ্যাত চিকিৎসক জীবক বিদ্বিপারের আদেশে একবার 
বুদ্ধের চিকিৎস৷ করিয়াছিলেন এবং বুদ্ধের তক্ত ছিলেন । জীবক কোনও 
গণিকার গর্ভজাত ছিলেন ; কেহ বলেন বিদ্বিসার, কেহ বলেন বিদ্বিসার - 
পুত্র রাজকুমার অতয় তাঁহার পিতা। জন্মের পর রাজপথে পরিত্যক্ত 
হইয়া তিনি রাজকুমার অতয় কতৃক প্রতিপালিত হন এবং এইজন্য 
তিনি কুমারভূত্য নামে পরিচিত ছিলেন। তাহার চিকিৎসাদক্ষতার 
অনেক গল্প বৌদ্ধশান্ত্রে উল্লিখিত আছে। বুদ্ধের একবার উদরশূল 


৩ 


৩৪ রাজগৃহ ও নালন্দা 


রোগের চিকিৎসায় তাহার স্ুকুমারপ্রক্কৃতি বুঝিয়া জীবক নীলপদ্পের 
পাঁপড়িসহ ওঁষধ তাঁহাকে খাইতে দেন। অবস্তীরাজ প্রদ্যোতের 
চিকিৎসা করিয়া জীবক একখানি মহার্ধবপ্্র উপহার পাইয়াছিলেন, 
তাহা তিনি বুদ্ধকে দান করেন এবং ইহাই বুদ্ধকে প্রথম বন্ত্রদান। 
জীবকের একটি বড় আমবাগান ছিল, তাহাও তিনি বুদ্ধ ও সঙ্ঘকে 
দান করেন। ইহা! জীবকাঅবন নামে খ্যাত; বুদ্ধ এখানেও মধ্যে 
মধ্যে থাকিতেন। | 

সজ্ঘে নারীদের প্রবেশে বুদ্ধ অন্থুমতি দিলে বিদ্বিসার - মহিষী 
ক্ষেমা প্রমুখ রাজগৃছের অনেক ভদ্রমহিল! ভিক্ষুণী হইয়াছিলেন। ভিক্ষুণী 
মৈত্রিকা ও শুভা রাজগৃহের ব্রাহ্গণকন্তা ছিলেন ; ভদ্র! কুগুলকেশ।! থেরী 
( স্থবির! ) হইবার পর. কিছুদিন গৃথকূটে বাস করেন। সারিপুত্রের 
ভগিনী চালা উপচালা ও শিশু - উপচালাও ভিক্ষুণী হুইয়াছিলেন 
বলিয়৷ বণিত আছে, কিন্তু শেষোক্ত নামদয় সম্ভব কাল্লনিক। 

সজ্বের তেদও . আরম্ভ হয় রাজগৃহে। বুদ্ধের জ্ঞাতিভ্রাতা ও 
শিষ্য দেবদত্ত বুদ্ধের “মধ্যপথ” অপেক্ষা কৃচ্ছ সাধনের বেশি পক্ষপাতী 
ছিলেন এবং ভিক্ষুদের গৃহস্থগৃহে নিমন্ত্রগ্রহণ, তিক্ষাপ্রাপ্ত আমিষ 
ভোজন, বৃক্ষতল ছাড়! অন্যত্র বাস প্রভৃতির বিরোধী ছিলেন। 
এই সব বিষয় লইয়া বুদ্ধের সঙ্গে তাহার মতান্তর হয় এবং তিনি 
সজ্ঘের নেতৃত্ব করিতে চাহিলে বুদ্ধ তাহাতে দৃঢ় অসম্মতি জানান। 
তখন দেবদত্ত সঙ্ঘ ত্যাগ করিয়া ভিন দল গঠন করেন । 

স্ব সংক্রান্ত আরও অনেক ঘটন| রাজগৃহে ঘটে) তাহা রাজগৃহ 
অপেক্ষা সত্যের, ইতিহাসেই বেশি প্রয়োজনীয় বলিয়া এখানে 


রাজগৃছে বুদ্ধ ও মহাবীর ৩৫ 


তাহার আলোচনা! নিশ্রয়োজন। বুদ্ধ একবার সব শিষ্যদের রাজগৃছে 
ডাকিয়! সঙ্মের হিতার্থক কতকগুলি নিয়ম প্রবর্তন করেন। রাজগৃহ 
যে বুদ্ধের প্রিয়স্থান ছিল তাহাতে সন্দেহ নাই। দীঘনিকায়ে 
রাজগৃহের প্রায় প্রত্যেকটি স্থান সম্বন্ধে বুদ্ধের মুখে “রমণীয়” বলা 
হইয়াছে। 

বিদ্বিসারের জীবনকালে অজাতশক্র অঙ্গরাজ্যের উপরাজ! ছিলেন। 
বিশ্বিসার বুদ্ধতক্ত ছিলেন বলিয়া বোধহয় পিতৃদ্বেবী অজাতশক্র 
বুদ্ধবিরোধী ছিলেন এবং দেবদত্তও সম্ভব অজাতশক্রকে এ বিষয়ে 
প্ররোচিত করেন। একবার বুদ্ধ ভিক্ষায় বাহির হইলে দেবদত্তের 
প্ররোচনায় অজাতশক্র মাতাল হাতি লাগাইয়া বুদ্ধকে বধ করিবার 
চেষ্টা করেন, কিন্তু বুদ্ধ মৈত্রীবলে হাতিকে বশ করিয়াছিলেন। 
আর একবার বুদ্ধ যখন গৃকুটশিখরে পদচারণা করিতেছিলেন তখন 
দেবদত্ত উপর হইতে পাথর গড়াইয়া ফেলিয়৷ তাহাকে মারিবার 
চেষ্টা করেন, কিন্তু সেই পাথর অন্ত পাথরে আট্কাইয়া ভাঙিয়া 
যায় এবং ভাঙা পাথরের টুক্রায় বুদ্ধের আঘাত লাগায় তিক্ষুরা 
বুদ্ধকে মঞ্চশিবিকায় (36:96০%9:) করিয়। প্রথমে মদ্দকুচ্ছিতে ও পরে 
জীবকারামে লইয়। যান। “মদকুচ্ছি” নামের উদ্ভব সম্বন্ধে বিস্ব্তী 
আছে যে গর্ভস্থ সন্তান পিতৃহস্তা হুইবে জানিয়৷ অজাতশক্রর মাতা 
এই উদ্ভানে গিয়। কৃত্রিম উপায়ে 'কুক্ষিমর্দনি, দ্বার! গর্ভপাত করাইবার 
চেষ্টা করেন, কিন্তু ডক্টর লাহা মনে করেন মদ্দকুচ্ছি - শব্দ সংস্কত 
'অদ্রিকুক্ষি শব্দের অপত্রংশজাত, অর্থাৎ যেস্থান পাহাড়ের পেটে 
( পাহাড়ঘেরা জায়গায় ) অবস্থিত। 


৩৬ রাজগৃহ ও নালন্দা 

বিনয়পিটকে উল্লিখিত আছে অজাতশক্র একবার তরবারি দ্বারা 
বিষ্বিসারকে হত্যা করিবার চেষ্টা করেন এবং সামঞ্ঞফলন্ুতে বণিত 
আছে অজাতশক্র বাস্তবিকই বিদ্বিসারকে হত্যা করিয়াছিলেন, কিন্ত 
অজাতশক্র বিদ্বিসারকে কারারুদ্ধ করেন এবং রানী কোশলাদেবা 
বিশ্বিসারকে আহার যোগাইবার চেষ্টা কর! সত্বেও অজাতশক্র বিদ্বিসারকে 
অনাহারে মারিয়া ফেলেন একথাও বৌদ্ধরা বলিয়াছেন। বুদ্ধঘোষ 
মুমংগলবিলাসিনীতে বলিয়াছেন যে, মন্ত্রীদের মুখে পুত্রজন্মের সংবাদ 
পাইয়৷ অজাতশক্র বাৎসল্যরসে পুর্ণ হ্ইয়া বিশ্বিসারকে কারামুক্ত 
করিবার ইচ্ছা করেন কিন্তু তদ্দগ্ডেই মন্ত্রীরা সংবাদ দেন যে অল্পক্ষণ 
আগে কারাগারে বিদ্বিসারের মৃত্যু হইয়াছে, তাহাতে অজাতশক্র 
রোদন করিতে করিতে মাতার নিকট যান এবং মাতার মুখে 
বাল্যকালে অজাতশক্রর প্রতি বিদ্বিসারের বাৎসল্যন্সেহের কথা 
শুনিয়া অজাতশক্র উষ্তাশ্র বিসর্জন করেন। মহাবংসে আছে 
যে, বুদ্ধনির্বাণের ৮ বৎসর পূর্বে অর্থাৎ বুদ্ধের ৭২ বৎসর বয়সের 
সময়ে বিশ্বিস্ারের মৃত্যু হয়। বিশ্বিসারের বয়স বুদ্ধের চেয়ে 
৫ বছর কম ছিল, অতএব মৃত্যুকালে বিশ্বিসারের বয়স ৬৭ বছর 
হইয়াছিল। 

রাজগৃহ জৈনদেরও অতি পবিত্র তীর্থ। জৈনপ্রসিদ্ধি অনুসারে 
২৪জন জৈনতীর্থংকরদের প্রত্যেকেই রাজগৃহের বিভিন্ন পাহাড়ে তগন্ত। 
করিয়াছিলেন এবং ২০তম তীর্থংকর মুনিন্ুব্রতের রাজগৃহে জন্ম হয়। 
বিপুলগিরির শিরোদেশে মহাবীর প্রথম ধর্মপ্রচার করেন বলিয়া প্রসিদ্ধি 
আছে। ৩২ বছর সব্যাসজীবনের মধ্যে ৯৪টি বর্ষ মহাবীর রাজগৃহ ও 


রাজগৃহে বুদ্ধ ও মহাবীর ৩৭ 


নালন্দায় যাপন করেন। মহাবীরের ১১জন গণধর বা প্রধান শিষ্যের 
মৃত্যু হয় রাজগৃহের বিভিন্ন পাহাড়ে । রাজগৃহের রাজপরিবারের রানী 
রাজপুত্র প্রভৃঘ্তিদের এবং শ্রেষ্ঠী ও সাধারণ লোকের মধ্যেও অনেকে 
মহাবীরের ভক্ত ও শিষ্য ছিলেন। 

আজীবিক সম্প্রদায়ের গুরু গোশালও প্রায়ই রাজগৃহে থাকিতেন। 
আজীবিকরা নগ্ন থাকিতেন । 


 অজাতশক্রর সময়ে রাজগৃহ 


অজাতশক্রর বুদ্ধবিদ্বেষ পরে কমিয়াছিল। দেবদত্বও সম্ভব ইতিমধ্যে 
মারা গিয়াছিলেন। সামঞ্ঞফলন্ত্তে বণিত আছে যে, পিতৃহত্যা - 
জনিত মানসিক অশাস্তিতে অজাতশক্র রাত্রে ঘুমাইতে পারিতেন না 
এবং স্বপ্রে নানারূপ বিভীষিকা দেখিতেন। বিভীষিকা! দেখিবার ভয়ে 
তিনি সারারাত জাগিয়া থাকিতেন। একবার কোন উৎসবোপলক্ষে 
নগর রাত্রে দীপমালাশোভিত হয় এবং জাগিয়! থাকিবার সুবিধা হইবে 
বলিয়া সপারিষদ অজাতশক্র প্রাসাদের শিখর হইতে তাহা! দেখিতে 
যান। ছাদে উঠিয়া বিমল চন্দ্রালোকে মুগ্ধ হইয়া তিনি পারিষদবর্গের 
সঙ্গে এরূপ বিমলজ্যোতি চরিত্রের সাধু ব্যক্তিদের সম্বন্ধে আলাপ 
করিতে করিতে জীবকের মুখে বুদ্ধের প্রশংসা শুনিয়৷ অজাতশক্র সম্ভব 
পরে কোন সময়ে জীবকাত্রবনে গিয়৷ বুদ্ধের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলাপ 
করেন। বৌদ্ধশাস্ত্রে আছে অজাতশক্র সেই রা্রেই বুদ্ধের কাছে 
গিয়াছিলেন, কিন্তু নির্জনবাসী সন্গাসীর কাছে মধ্যরাত্রে রাজার সপারিষদ 
গমন সম্ভব নয় । 

অজাতশক্র বহু যুদ্ধবিগ্রহ করিয়৷ মগধের শক্তি ও সীম। বাড়াইয়া - 
ছিলেন। বিশ্বিসারের মৃত্যুর পর রানী কোশলাদেবীও পতিশোকে 
প্রাণত্যাগ করেন। ইতিমধ্যে কোশলাদেবীর ভ্রাতা প্রসেনজিৎ পিতার 
মৃত্যুর পর কোশলের অধিপতি হন। পিতৃহস্ত/ অজাতশক্র যে কোশলা - 
দেবীর বিবাহে যৌতুকস্বরূপে প্রদত্ত কাশীগ্রামের রাজস্ব কোশলাদেবীর 


অজাতশব্রুর সময়ে রাজগৃহ ৩৯ 


মৃত্যুর পরও ভোগ করিতেছিলেন, ইহা সহিতে না! পারিয়া প্রসেনজিৎ 
কাশীগ্রাম অজাতশক্রর নিকট হইতে কাড়িয়৷ লন।. ইহা! লয়! যুদ্ধ 
বাধে, কিন্তু শেষে উভয়ের মধ্যে মেত্রী স্থাপন হয় এবং অজাতশক্রর 
সঙ্গে নিজকন্তা! বজ্জার বিবাহ দিয়! প্রসেনজিৎ কন্ঠাকে কাশীগ্রাম পুনরায় 
যৌতুকম্বরূপে দান করেন। 

বৈশালীর বৃজি - লিচ্ছবিরা অজাতশক্রর চক্ষুশূল ছিল ) তাহাদের 
একতা ও সংহতিই ছিল অজাতশক্রর ক্রোধের কারণ। তিনি অঙ্গরাজ্যের 
উপরাজা থাকার সময়েই একটি খনি লয়! লিচ্ছবিদের সঙ্গে তাঁর বিবাদ 
হয়। এখন মগধের অধীশ্বর হইয়া তিনি লিচ্ছবিদের ধ্বংস করিতে 
বদ্ধপরিকর হন এবং এবিষয়ে বুদ্ধের মতামত জানিবার জন্ত একজন 
মন্ত্রীকে বুদ্ধের কাছে পাঠান। বুদ্ধ এই প্রসঙ্গে বলিয়াছিলেন যে, বৃজিরা 
যতদিন একতাবদ্ধ থাকিবে ততদিন তাহাদের কেহ জয় করিতে পারিবে 
না। তখন অজাতশক্র পাটলিগ্রামে দুর্গ নির্মাণ করেন এবং চাতুরী 
ও ষড়যন্ত্র করি! বুজিদের মধ্যে তেদ ঘটান। এইধুদ্ধে কাশী কোশল 
মল্ল প্রভৃতি রাজ্যও লিচ্ছবিদের সঙ্গে যোগ দিয়া অজাতশক্রর বিরুদ্ধে 
যুদ্ধ করে। অজাতশক্রর রাজ্যবিস্তারনীতিই অপর রাজ্যগুলিকে তাহার 
বিরুদ্ধে সংহতিবদ্ধ করে। এই যুদ্ধ ১৬ বছর ধরিয়া চলিয়াছিল এবং 
অবশেষে সকলকে পরাস্ত করিয়া অজাতশক্র জয়লাত করেন এবং কাশী 
কোশল বৈশালী প্রভৃতি রাজ্য স্বাধিকা রভুক্ত.করেন। 

এদিকে কোশাম্বীরাজ্যও অবস্তীরাজ্যের অধিকারভুক্ত হওয়ায় 
মগধ ও অবস্তীরাজ্যের প্রত্যন্তসীম! পরস্পরকে স্পর্শ করে। অবস্তীরাজ 
“চণ্ড? প্রস্ভোতকে সকলেই তয় করিত) তাহার আক্রমণের ভয়ে 


৪6০ রাজগৃহ ও নালন্দা 


অজাতশক্র রাজগৃহ স্বুরক্ষিত করেন। কিন্তু অজাতশক্রর জীবনকালে 
অবস্তীরাজ্যের সঙ্গে তাহার যুদ্ধ বাধে নাই। অজাতশক্র জৈনশাঙ্সে 
প্কৃণিকণ উপনামে পরিচিত, বোধহয় তাহার একটি হাঁত ভাঙা বা 
বাঁকা হওয়ায় তাহার এই নাম হয়। 

বৃদ্ধ তাহার জীবনের শেষ প্রচার-ত্রমণে রাজগৃহ হইতেই যাত্রার 
করেন। মনল্লরাজ্যস্থ কুশীনগরে নির্বাণলাভের পর বুদ্ধের ধাতু” বা 
পৃতান্থির একাংশ অজাতশক্র লাভ করেন। পেতবখ্টীকা পরমথ - 
দীপানিতে আছে যে, অজাতশত্র 'মহাঁসমারোহে 'ধাতুঃর অভ্যর্থনা ও 
পূজাপ্রতিষ্ঠা করেন, রাজগৃহের চারদিকে ধাতুচৈত্য নির্মাণ করেন 
এবং ১৮টি মহাবিহারের জীর্ণসংস্কার করেন। এই বিবরণ নিশ্চয় 
ভ্রমাত্মক ) যাহা অজাতশক্রর অনেক পরবর্তাঁ কালে ঘটিয়াছিল তাহাকে 
টীকাকার অজাতশক্র-সাময়িক অনুমান করিয়াছেন । কিন্তু মহাকাশ্যপের 
অন্গুরোধে অজাতশক্র ধাতু* ভূগর্ভে পুতিয়া তাহার উপর পাথরের 
স্তুপ নির্মাণ করেন, একথা হয়ত সত্য হওয়! অসম্ভব নয়। যদি ইহা সত্য 
হয় তবে বুদ্ধধাতুর এই আদিভ্তূপ এঁতিহাসিকদৃষ্টিতে মহামূল্যবান। 
কিন্ত এই স্তুপ ঠিক কোথায় ছিল সে সম্বন্ধে আমরা পরে আলোচনা 
করিব। 

বুদ্ধনির্বাণের পর প্রথম বর্ষায় প্রবীণ ভিক্ষুর৷ রাজগৃহে সম্মিলিত 
হইয় বুদ্ধের উপদেশাবলী ও সঙ্ঞের নিয়মাদি সংগ্রহ করেন। ইহা! 
ইতিহাসে প্রথম বৌদ্ধ সঙগীতি (196 78181196 0০5001) নামে খ্যাত। 
স্থবির মহাকাশ্তুপ এই সঙ্গীতিতে সভাপতিত্ব করেন। বিনয়পিটকে 
আছে যে, এই সঙ্গীতিতে “পাঁচশত” ভিক্ষু উপস্থিত ছিলেন। বৌদ্ধ - 


সন সপ রখ সি হ পপ ও 
পরিরিস ক 





অজাতশক্রর সময়ে রাজগৃহ ৪১ 


শাস্ত্রে জন, ৫ শত, ৫ সহম্র প্রভৃতি সংখ্যা আক্ষরিক অর্থে ব্যবহৃত 
ন! হইয়া ক্রমান্বয়ে কয়েকজন, অনেক ও বহুসংখ্যক প্রভৃতি অর্থে ব্যবহৃত 
হইত। এই সঙ্গীতিতে সম্ভব ২৩ শতের বেশি ভিক্ষু উপস্থিত ছিলেন 
না। রাঁজগৃছে এই সঙ্গীতির অধিবেশনের কারণ বিনয়পিটকে বলা 
হইয়াছে যে, রাজগৃছে “৫ শত” ভিক্ষুর বাসস্থান পাওয়ার সুবিধা ছিল। 

এই সঙ্গীতির অধিবেশন সপ্তপর্ণী গুহার সামনে হইয়াছিল । বৌদ্ধ - 
সাহিত্যে কোথাও কোথাও অপ্তপর্ণী গুহার অবস্থিতি গৃধকূটাদি বিভির 
স্থানে নির্দিষ্ট হইলেও অধিকাংশমতে ইহা ছিল বৈভারগিরির 
উত্তরগাব্রে। পরমথদীপানিতে আছে যে, অজাতশক্র এই সঙ্গীতির জন 
একটি মণ্ডপ ( অস্থায়ী আবাস ) নির্মাণ করাইয়] দিয়াছিলেন । সঙ্গীতির 
অধিবেশন গুহায় হইয়াছিল না মণ্ডপে হইয়াছিল, মণ্ডপটি গুহার 
সাম্নে না কাছে না অন্ত কোথাও ছিল, এসন্বন্ধে আধুনিক আলোচকদের 
মধ্যে মতবিভেদ আছে । আমরা একথা পরে বিবেচনা করিব । 


পরবর্তী যুগের রাজগৃহ 


অজাতশত্র সম্ভব ৩২ বছর রাজত্ব করিয়াছিলেন। তাহার পর 
তাহার পুত্র উদায়ি বা উদ্দায়িতদ্র মগধের রাজা হন। নিজ রাজত্বের 
.৪র্থ বৎসরে ( বুদ্ধনির্বাণের ২৮ বছর পরে ) উদায়ি পাটলিপুত্র বা কুক্তুম - 
পুরে নগর নির্মাণ করিয়া সেখানে রাজধানী স্থানাস্তরিত করেন ; সম্ভব 
অগ্সিদাহে রাজগৃহ বিনষ্ট হওয়াই ইহার কারণ। বিমানবখটাকায় 
আছে যে রাজগৃহে প্রায়ই অহিবাঁত রোগের ( গ্লেগ প্রভৃতি মহামারীর ) 
প্রাছুর্ভাব হইত) ইহা নগরত্যাগের এমনকি ব্যাধিনাশের জন্য ইচ্ছাকৃত 
অগ্নিদাহেরও কারণ হইতে পারে। 

উদ্দায়ি ও তাহার পরবতী তিনজন বংশধরও সম্ভব পিতৃহস্তা ছিলেন । 
প্রজারা ইহাতে উত্তেজিত হইয়া কাশীর উপরাজা -_- কাশী তখন 
মগধের অধীনে __ শিশুনাগকে মগধের সিংহাসনে বসায় । শিশুনাগ 
অবস্থীরাঞ্জকে যুদ্ধে পরাজিত করেন এবং রাজধানী রা'জগৃহে ফিরাইয়া 
আনেন, কিন্তু পরে তাহা আবার বৈশালীতে স্থানাস্তরিত করেন। 
শিশুনাগের পরবর্তী রাজা কাকবর্ণ (বা কালাশোক ) আবার 
পাটলিপুত্রে রাজধানী স্থানাস্তরিত করেন এবং তদবধি পাটলিপুত্রই 
মগধের রাজধানী থাকিয়া যায়। মালালংকারবতে বলা হুইয়াছে 
যে, শিগুনাগের সময় হইতেই রাজগৃহের রাজধানী - গৌরি অস্তহিত হয়। 
শিশুনাগের পরে মগধের ইতিহাসের সঙ্গে রাজগৃছের বিশেষ কোন সম্বন্ধ 
নাই, তাই আমরা তাহার আলোচনায় বিরত থাকিব। অতঃপর 


পরবর্তী যুগের রাজগৃহ ৪৩ 


ইতিহাস ও সাহিত্যে রাজগৃহ বিস্বৃতি - যবনিকার অন্তরালে প্রায় 
অনৃস্ হয় । 

জৈনশান্ত্রে খু. পূ. ৩ শতকে রাজগৃহে দারুণ দুতিক্ষের উল্লেখ আছে। 
সম্রাট অশোক ( অঙ্গমান খু. পৃ. ২৭৩-২৩২) বৌদ্ধতীর্থাদি ভ্রমণের 
সময়ে নিশ্চয় রাজগৃহেও আসিয়াছিলেন এবং অন্যান্ত বৌদ্ধতীর্থের মত 
এখানেও সতস্তস্তপাদি স্থাপন করিয়াছিলেন । “নুতন” নগরের (বদ 
০৮০) কিছু পশ্চিমে হিউয়েন ৎসাং অশোকনিমিত একটি স্তুপ ও 
লিপিসমন্বিত ৫০ ফুটেরও বেশি উচু একটি পাথরের অশোকস্তস্ত 
দেখিয়াছিলেন। ফ] হিয়েন ও হিউয়েন ৎসাং রাঁজগৃহের যেসব স্তূপের 
উল্লেখ করিয়াছেন তাহার অধিকাংশই সম্ভব অশোকনিমিত ছিল; 
পেতবখ্,টীকাকার যে ধাতুচৈত্য - নির্মাণ, বিহারসংস্কার ও পুজা প্রতিষ্ঠার 
কথা বলিয়াছেন, সেসব খুব সম্ভব অশৌকষুগের কীত্তির স্থৃতিপ্রস্থত | 
হিউয়েন ৎসাঙের বিবরণ হইতে মনে হয় যে, অজাতশক্র - স্থাপিত স্তুপ 
ভূগর্ভুকায়িত বুদ্ধধাতুর কথা লোকে বিস্থৃত হইয়াছিল এবং অশোক 
তাহা! আবিষ্কার করিয়া ধাতুর একাংশ আদিস্তপে রাখিয়৷ বাকি ধাতু 
তাহার দ্বারা সমগ্র তারতের অন্তত্র নিমিত বহুসংখ্যক স্তূপে স্থাপন 
করিয়াছিলেন, এই মর্মের কিন্বদস্তী হিউয়েন ৎসাং শুনিয়াছিলেন। 

কলিঙ্গরাজ খারবেলের হাঁতিগুম্ফা শিলালিপি হইতে জানা যায় যে, 
তিনি ( অন্ুমান খু. পৃ. ২ শতকে ) মগধ আক্রমণ করিয়া গোরথগিরিতে 
আসেন এবং সেখান হুইতে রাজগৃহ অবরোধ করেন। রাজধানী 
রাজগৃহে না থাকিলেও তদানীন্তন মগধরাজ ( বৃহস্পতিমিত্র ?) সম্ভব 
পাটলিপুত্র ছাড়িয়া! রাজগৃহে আশ্রয়গ্রহণ করায় খারবেল রাজগৃহ 


৪8 রাজগুহ ও নালন্দ। 


অররোধ করেন। অনুমান খু পৃ ২ শতকে স্থবির ইন্্রগুপ্ত নামক 
তিক্ষু রাজগৃহ - অঞ্চলের প্রতিনিধিরূপে সিংহলে একটি স্তুপস্থাপন 
উৎসবে যোগদান করিয়াছিলেন। 

ইহার প্রায় ৭ শত বৎসর পরে ফ! হিয়েনের ত্রমণবৃত্তান্তে আবার 
রাজগৃছের কিছু সংবাদ পাওয়া যায়। এই সময়ে রাঁজগৃহের প্রাচীন 
সতপা্দি বিনষ্ট না হইলেও নগর জনহীন জঙ্গলময় অবস্থায় ছিল। ৭ 
শতকে হিউয়েন ৎসাং নালন্দা উদ্দগপুর প্রভৃতি নিকটব্তাঁ স্থান সমৃদ্ধ 
অবস্থায় দেখিলেও রাজগৃহকে প্রায় পরিত্যক্ত দেখেন। বিপুলগিরিতে 
কচ্ছরসাধনরত নগ্ন জৈন শ্রমণদের এবং রাজগৃছে ( অর্থাৎ প্নুতন” শহরে ) 
প্রায় হাজার ঘর ব্রাঙ্গণ পরিবার তিনি দেখিয়াছিলেন। ৭ শতকের 
প্রারস্তে বাংলার রাজা বৌদ্ধপ্রোহী সমূল - বোধিদ্রমোৎপাটক শশান্ক 
সম্ভব রাজগৃহের স্ূপটৈত্যাঁদি অনেক ভাঙিয়া ফেলিয়াছিলেন। ৮- ১২ 
শতকে গৌড়ের পালবংশীয় রাজারা উদ্দগুপুর ও পাটলিপুত্রে রাজধানী 
স্থাপন করিয়া যখন নালন্দা উদ্দগুপুর বিক্রমশিল! প্রভৃতি স্থানে বড় 
বড় প্রতিষ্ঠান, গড়িয়৷ তোলেন তখন তাহারা যে রাজগৃহকে বিস্থৃত 
হন নাই তাহা প্রমাণিত হয় রাজগৃহে আবিষ্কৃত পালযুগের মৃতি প্রভৃতি 
হইতে । অবশেষে ১২ শতকের শেষ ও ১৩ শতকের প্রারন্তে 
কৃতবুদ্দিনের সেনাপতি বখ.তিয়ারপুত্র মহল্মদ যখন নালন্দা উদ্দগুপুর 
ও বিক্রমশিলা নিঃশেষে ধ্বংস করেন তখন সম্ভব রাঁজগৃহেরও তিনি বহু 
ক্ষতিসাধন করেন। মুসলমান রাজত্বকালে রাজগৃহের বহু প্রসিদ্ধ 
প্রাচীন সুপচৈত্যা্দি কবরখানায় পরিণত করা হইয়াছিল, আজও.তাহার 
চিহ্ন সর্বত্র বর্তমান । 


পরবর্তী যুগের রাজগৃহ ৪৫ 


সরকারী প্রত্ততত্ববিভাগ রাজগৃহে এপর্যস্ত যে খননাদি করিয়াছেন 
তাহা অতি সামাগ্ভ মাত্র। এরূপ এঁতিহাসিক স্থান পাশ্চাত্যদেশে 


হইলে যেরূপ যত্ব ও অর্থব্যয়ে বিস্তৃতভাবে খনিত ও পরিরক্ষিত হইত 
তাহার এক আন! অংশও রাজগুছে হয় নাই । 


বর্তমান - রাজগৃহু পরিক্রমা 


সাধারণত শীতকালেই রাজগৃছে দর্শকদের সমাগম হয়। শীতকালের 
বৰৈকাল ছোট হয়; যতদ্দিন রাস্তা ও যানাদির ভাল ব্যবস্থা না হয় 
ততদিন হীটিয়াই দর্শককে রাজগৃহ দেখিতে হইবে, তাই দুরের 
জায়গাগুলি সকালে দেখার কথা নীচে বলিয়াছি। যাত্রীরা বেশির 
ভাগ ছুপুরবেলায় বা বৈকালে রাজগীরে পৌছেন, তাই সেদিন বৈকাল 
হইতে পরিক্রমা আরম্ত করিয়াছি । 


১ম দ্দিন বৈকাল 


“নুতন” নগরের লোকালয় 


পাঠক এই অধ্যায়ের অংশগুলি পড়িবাঁর সময়ে মানচিত্র ছুইটির 
সঙ্গে মিলাইয়া দেখিবেন। আমরা রেল ষ্টেশন হইতে পরিক্রমা আরম্ভ 
করিব। পূর্বে যে “নূতন” রাজগৃহ, 'নৃতন” নগর বা [ওত ঢ০% - এর 
কথা বলিয়াছি তাহারই মাঝখানে বর্তমানের রেল ষ্টেশন অবস্থিত। এই 
“নূতন” রাজগৃহের দুইটি অংশ ছিল _- ১. বড় বড় পাথরে তৈয়ারি 
দেওয়াল ঘেরা এলাকায় রাজপ্রাসাদাদি ছিল, ইহা ষ্টেশনের 
দক্ষিণ - পশ্চিমে এবং ২. মাটির দেওয়াল ঘেরা সাধারণ লোকের 
বাসস্থান এলাকা ; &্েশনের দক্ষিণে, পূর্বে ও উত্তবে কিছুদূর গেলেই এই 
মাটির দেওয়ালের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। রেশন হইতে রেললাইন ধরিয়া 


বর্তমান -রাজগৃহ পরিক্রমা ৪৭ 


উত্তরদিকে অর্পদূর অগ্রসর হইলে দ্বিতীয় যে রাস্তাটি পূর্ব - পশ্চিমে দেখ! 
যায় তাহাতে পশ্চিমে সামান্য দুর গেলে বাজারের মাঝখানে পৌঁছান 
যায়। এই রাস্তাটিই পূর্বদিকে ৭ মাইল দুরে গিরিয়াক পর্যস্ত গিয়াছে । 
গিরিয়াকে অনেক বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষ আছে। “নুতন” রাজগৃছের 
মাটির দেওয়াল ঘেরা এল|কায় এবং আধুনিক বাজারের চার পাশের 
পাড়াগুলিতে প্রাচ।ন বাড়িঘরের তিত্তি অনেক চোখে পড়ে । ৬পৃরণটাদ 
নাহার মহাশয়ের বাড়ির বাগানে রাজগৃহের বিভিন্ন স্থানে প্রাপ্ত অনেক 
্রস্তরমুর্তি সংরক্ষিত আছে। 


২য় দিন সকাল 


“নুতন” নগরের প্রাসাদ - অংশ 


ষ্টেশন হইতে বাহির হইয়াই দক্ষিণ - পশ্চিমে “নৃতন* রাজগৃহের 
পাথরবাঁধান রাজপ্রাসাদ এলাকার দেওয়াল দেখা! যায়। এই দেওয়ালের 
পশ্চিম দিক মাটির, বাঁকি তিন দিক প্রবাও প্রকাণ্ড পাথর বিনা চুণ - 
শুরুকিতে উপর উপর সাজাইয়ী নিমিত। এইরূপ বৃহুদাকার পাথরের 
চুণশুরুকিহীন গাথনিকে পুরাতাত্ত্িকরা 0৮010199977 € অর্থাৎ যেন দৈত্য 
দানব - নিমিত, মনুষ্য - নিমিত নয়) বলেন। এই দেওয়ালের চারদিকে 
চারটি দ্বার ছিল, তাহার চিহ্ন এখনও দেখ! যায়। উত্তর - 
দেওয়ালের বাহিরে একটা মাটির দুর্গ ভাঙা! অবস্থায় দেখ! যায়। দক্ষিণ 
দেওয়ালের উপরে ও পাঁশে অনেক ইটের গাথনির চিহ্ন আছে। এই 
এলাকার ভিতরের বাড়িঘর নিশ্চিহ্ন হইয়াছে কিন্ত খননের ফলে বাড়ি - 


৪৮ রাজগৃহ ও নালন্দা 


ঘরের ৩৪টি স্তর পাওয়া গিয়াছে। পৃথিবীর সব প্রাচীনস্থানেই যেখানে 
খন লোকবসতি বা প্রসিদ্ধ মন্দিরাদি গৃহ ছিল সেখানে খনন করিলে 
যুগপরম্পরায় লোকবসতি ও গৃহাদি পুনঃপুন নির্মাণের বিতিন্ন 
স্তর একটির নীচে একটি দেখিতে পাওয়া যায়। রাজগৃহ - নালল্াায় 
সামান্য যেটুকু খনন হইয়াছে তাহা পালধুগ (খু. ৮ - ১২ শতক ), বড় 
জোর কোথাও গুপ্তযুগের (খু. ৫ -৭শতক) স্তর পর্যস্ত মাত্র 
পৌঁছিয়াছে। গুপ্বযুগের স্তরের ৫1৭ হাত নীচে আছে মৌর্যবুগের 
(খু. পৃ. ৪ -২ শতক ) স্তর, তারও 'নীচে আছে বুদ্ধযুগের স্তর। 
ুদ্ধযুগের স্তরের অনেক নীচে ক্রমান্বয়ে আছে প্রাগার্য, প্রাগৈতিহাসিক 
প্রভৃতি যুগের স্তর । 


শীতবন, অশোকস্তূ,প ও সর্পশোপ্তিক - প্রাগ্ভার 


পনৃতন্ন্ুগরের পশ্চিমে একটি খাল, বোধহয় পূর্বে ইহা নদীর মত 
ছিল, এখন ইহাকে বৈতরণী বল! হয়। ইহার তীরে প্রাচীন শ্বশানের 
চিহ্ন আছে, রোধহয় বুদ্ধের ধুগের শীতবন শ্বশান এই অঞ্চলেই ছিল 
এবং এখান হইতে দক্ষিণের অনেকথার্ণি পর্যস্ত স্থানকেই শীতবন বলা 
হইত। বৈতরণীর পশ্চিম পাড়ের উচু টিবিটি অশোকনিগিত ধাতু - 
স্তপের অবশেষ, ইহার অব্যবহিত পশ্চিমে একটি প্রকাণ্ড বিহারেরও 
চিহ্ন আছে। হিউয়েন ৎসাং যে অশোকস্তস্ত দেখিয়াছিলেন তাহাও 
নিশ্চয় কাছাকাছি ছিল। কেহ কেহ অন্ত্র অশোৌকন্তপের স্থান 
কল্পনা করিয়াছেন কিন্তু তাহা সঙ্গত মনে হয় না। এই অঞ্চল 
হইতে নালন্দা পর্যন্ত উন্মুক্ত ভূভাগ হইতে বৈভারগিরির উত্তর গাত্র 


১: ২ 


শি 


৫০ 
4 রর 





বর্তমান - রাজগৃহ পরিক্রমা ৪৯ 


সর্পফণাশ্রেণীর মত দেখায়, ইহাকেই বোধহয় বৌদ্ধরা সগসোগ্য় 
পব্ভার ( সর্পশৌপ্ডিক - প্রাগ ভার ; শুণ্ড - ফণা, প্রাগ তার - গিরিপার্খ ) 
বলিতেন এবং সম্ভব এই পর্যস্ত শীতবনের সীমানা! মনে করা হইত। 
সেইজন্যই বোধহয় সর্পশৌপ্ডিক - প্রাগ ভার শীতবনের মধ্যে বলিয়া 
বর্ণন। কর! হইয়াছে। 


প্রাচীন রাজপথের উভয় পার __- বর্মীমন্দির, জাপানীমন্দির, 
গোরক্ষিণী ধর্মশালা, ইন্স্পেক্শন বাংলো, রেষ্ট হাউস 


“নুতন” নগরের পাথরের দেওয়ালের দক্ষিণসীমার ঠিক পূর্বদিকে যে 
টিবিটির উপর এখন বর্মীমন্দির, তাহা ছিল প্নৃতন” নগরের মাটির 
দেওয়ালের একটি প্রান্ত। এখনকার রাস্তা যেখান দিয়! দেওয়াল 
ছাঁড়িয়! দক্ষিণে গিয়াছে সেখানে একটি দ্বার ছিল। বর্তমান রাস্তার 
কিছু বায়ে (পূর্বদিকে) নিচু জায়গায় বিশ্বিসার যুগের রাজপথের চিন্ব স্পষ্ট 
দেখা যায়। মাটির দেওয়ালের মধ্যের এলাকায়ও এই রাজপথের 
চিন্ধ অনেক স্থানে আছে । মাটির দেওয়াল ( অর্থাৎ বমী মন্দিরের টিবি ) 
হইতে দক্ষিণদিকে জাপানী মন্দিরের গেটের সাম্নে দিয়া প্রাচীন 
রাজপথ গিরিপ্রাকারের উত্তরদ্ধার পর্যস্ত গিয়াছিল। এই রাজপথের 
ছুই পাশের উঁচু জায়গা ও টিবিগুলি সব প্রাচীন বাড়িঘর স্তপচৈত্য - 
বিহারাদির অবশেষ। পূর্বদিকে প্রায় বিপুলগিরির তলদেশ পর্যস্ত এই 
অঞ্চল বাড়িঘরে আচ্ছন্ন ছিল। জাপানী মন্দিরের উত্তর - পূর্বে একটি 
পাথরবীাধান প্রকাণ্ড পুষ্ধরিণী ছিল, এখনকার মখদুম - কুণ্ডের জল আসিয়া 
এই পুষ্করিণীতে পড়িত, সে পয়ঃপ্রণালী এখনও দেখা যায়। বর্তমান 

১) 


৫০ রাজগৃহ ও নালন্দা 


রাস্তা হইতে ইনৃস্পেক্শন বাংলোয় যাইবার মোড়ে গোরক্ষিণী সভার 
ধর্মশালা যেখানে, সেখানেও বোধহয় কোন প্রাচীন বিছারাদি ছিল। 


বুদ্ধের ধাতুস্তুপ-_বেণুবন ও কলন্দক - নিবাপ 

জাপানীমন্দিরের প্রায় সাম্নে, বর্তমান রাস্তার পূর্বধারে যে উচু 
ও বড়পাথরে বাঁধান ভিত্তিটি আছে, তাহাই সম্ভব ছিল অজাতশক্র 
নিগিত বুদ্ধধাতুর স্তপ। ইহার পশ্চিম - দক্ষিণের প্রায় সমগ্র এলাকাই 
সম্ভব ছিল বেণুবন। এই এলাকার মধ্য দিয়া উত্তরদক্ষিণ - বিস্তারী 
যে খালটি দেখা যায় তাহা আধুনিক, বিগত ৮০ বছরের মধ্যে কাটা। 
এই খালের গায়ে স্থানে স্থানে প্রাচীন ভিত্তির বড় বড় পাথর দেখা 
যায়। খালের পশ্চিমে যে গভীর বড় পু্করিণীটি, তাহাই সম্ভব ছিল 
কলন্দক - নিবাপ। বাঁশবনে ঘেরা ছিল বলিয়! রাজা বিশ্বিসারের এই 
বাগানবাড়ির নাম বেণুবন হইয়াছিল। পালিতে কলন্দ বা কলন্দক- 
কাঠবিড়ালি বা শালিখ পাখি; সংস্কৃত করও (বা করণডক - বাঁশের 
চুপড়ি, ছোট বাক্স) শব্দের সঙ্গে ইহার কোন সম্বন্ধ নাই। নিবাপ 
মানে পণুপাখির বিচরণ ও জলপানের স্থান। আধুনিক পঙ্ডিতেরা 
কেহ কেহ রাজগীরের অন্তত্র কয়েক স্থানে বেণুবন, কলন্দক - নিবাপ, 
অজাতশক্র - নিখিত ধাতুস্ত,প প্রভৃতির স্থাননির্দেশ - সন্তাবনা অনুমান 


করিয়াছেন কিন্ত তাহাতে বৌদ্ধগ্রন্থ ও চীন! বর্ণনার সঙ্গে অনেক 
অসঙ্গতি হয়। 


ফ! হিয়েন বলিয়াছেন বেণুবন প্রাচীন রাজপথের পশ্চিমে ছিল 
এবং পূর্বদিকে ইহার প্রবেশপথ ছিল। দক্ষিণে বেণুবনের সীমা এখনকার 


বর্তমান - রাজগৃহ পরিক্রম। ৫১ 


দোকানঘরগুলি পর্যন্ত সম্ভব পৌঁছিত। উত্তরে ইহার সীম! ছিল 
প্রায় রেষ্ট হাউস ও ইন্স্পেক্শন বাংলোর কম্পাউও পর্যন্ত । সমস্ত- 
পাসার্দিকায় বণিত আছে যে, বেণুবন প্রাচীর - বেষ্টিত ছিল এবং 
প্রাচীরের গায়ে গোপুর - অট্রালিকাদি ( নহবৎখানার মত 8৪6৪. 
110556) ছিল। এই দেওয়ালের চিহ্ন ও চারকোণের চারটি 
টিবি অভিজ্্দষ্টিতে বোধহয় এখনও ধরা পড়ে। এই বাগানবাড়ির 
সবচেয়ে বড় বাড়িটি বিহারে পরিণত হইয়াছিল, সম্ভব ইহ! পুষ্করিণীর 
দক্ষিণে ছিল। সমগ্র বেণুবনে পরবর্তী বুগে আরও অনেক বিহার - 
স্তপাদি নিগিত হইয়াছিল সন্দেহ নাই কারণ বৌদ্ধদের চক্ষে ইহা ছিল 
পরম পুণ্যক্ষেত্র । এখনও হইহা'র সর্বত্র বাড়িঘর দেওয়াল প্রভৃতির 
ধ্বংসাবশেষ প্রোথিত দেখা যায়। সারিপুত্র ও মৌদ্গল্যায়নের মৃত্যুর 
পর বেধুবনে তাহাদের ধাতুস্তূপ নিমিত হইয়াছিল 

বেণুবনের যে পুষ্করিণীটিকে কলন্দক - নিবাপ বলিয়াছি তাহা দেখিতে 
খুব প্রাচীন নয়। বোধহয় পবিত্রতাবশত একাধিকবার ইহার পক্কোদ্ধার 
করা হইয়াছিল, তাই নৃতনের মত দেখায়। 

জাপানীমন্দিরের সাম্নের যে ভিত্তিটিকে আমর! বুদ্ধের ধাতুন্ত,প 
অম্থমান করিয়াছি তাহা প্রাচীন বর্ণনার সঙ্গে মিলে। হিউয়েন ৎসাং 
বলিয়াছেন ইহা বেণুবনের পূর্বদিকে ছিল এবং বুদ্ধঘোষ বলিয়াছেন 
ইহা নগরের (অর্থাৎ “নূতন” নগর বা ওল 8০: - এর, কারণ 
বুদ্ধঘোষের সময়ে গিরিমালার মধ্যবর্তী প্রাচীন নগর জনহীন জঙ্গলময় 
ছিল কিন্তু “নূতন” রাজগৃহে লোকবসতি ছিল) পূর্ব - দক্ষিণে 
ছিল। মধ্রত্ীমূলকলে বণিত আছে এই ভ্তপ বেগুবনের মধ্যে ছিল) 


৫২. রাজগৃহ ও নালন্দা 


ইহাতে মনে হয় বেণুবনের পূর্বসীমা প্রাচীন রাজপথ পর্যন্ত বিস্তৃত 
ছিল। 

এখানে বলা প্রয়োজন যে, ভারত - পুরাতত্ববিৎ সার জন মার্শালের 
মতে অশোকের যুগের আগে যেসব স্তুপ নিমিত হইত তাহা আকারে 
খুব ছোট হইত। সীচী সারনাথ প্রভৃতি স্বানের মত বৃহ্দাকার স্ত,প 
নির্মাণ অশোকই প্রথম আরম্ভ করেন। সারিপুত্র মৌদৃগল্যায়ন 
এমনকি বুদ্ধেরও প্রথম ধাতুস্তপ বোধহয় বেধুবনের মধ্যে ছোট ছোট 
টিবির মত ছিল। বুদ্ধঘোষ যেসব কাহিনীর উল্লেখ করিয়াছেন 
তাহাতে মনে হয় বুদ্ধের ধাতুস্তপ মগধ কোশল প্রভৃতি যেখানে 
যেখানে ছিল সেখানে অনেক স্থানে স্তপ হইতে ধাতু, অর্থাৎ 
পৃতাস্থি চুরি হইয়া গিয়াছিল। রাজগৃছের ধাতু যাহাতে চুরি ন 
হইতে পারে সেজন্ত স্থবির মহাকাশ্তুপ অজাতশক্রকে পাথরের সুদৃঢ় 
স্তূপ নির্মাণ করিয়া তাহাতে মাটির তলায় ধাতু রক্ষা! করিতে পরামর্শ 
দিয়াছিলেন। এই স্তপ কালবশে নষ্ট হইলে ইহার পবিভ্রতাবশত 
ইহারই উপর, সম্ভব বৌদ্ধ রাজারা যুগে যুগে পুনরায় স্তপচৈত্যাদি 
নির্মাণ করিয়াছিলেন। 

হিউয়েন ৎসাং বলিয়াছেন এই বুদ্ধস্তূপের কাছে __ কোন্‌ পাশে 
বা সামনে না পিছনে তাহা বলেন নাই _ আননোর ধাতুত্তপ ছিল। 
জাপানী মন্দিরের দেওয়ালের মধ্যে একটি স্তূপের ভিত্তি আছে। 
এই অঞ্চলে জাপানীমন্দিরের চারপাশের এলাকায় অনেক স্তূপের 
ভিত্বি পাওয়৷ যায়, তার মধ্যে জাপানী মন্দিরের দেওয়ালের মধ্যেব 
'জপতিততিটিই বুদ্ধাতুস্তুপের পর বৃহত্তম। 


বর্তমান - রাজগূহ পরিক্রমা ৫৩ 


বর্তমান রাস্তার ছুই পাশে, বুদ্ধধাতুস্তূপের উপর, বেণুবনের অন্থান্ত 
টিবি বা স্তপাদদির উপর, জাপানী মন্দিরের চারদিকে ও “জরাসন্ধকী 
বৈঠকের” উপর যেসব কবর দেখা যায় তাহা মুসলমান যুগের দুষ্কৃতি। 
ইহারা ভাঙিয়! চুরিয়াই ক্ষান্ত হয় নাই, যেখানে উচু বা ভাল বাধান 
জায়গ পাইয়াছে সেখানেই কবরখানা তৈয়ারি করিয়াছে। অনেক 
কবর দরগা প্রভৃতি যে প্রাচীন স্তপাদির ইট পাথর দিয়া তৈয়ারি 
হইয়াছিল তাহা৷ দেখিলেই বুঝা যায়। ব্যবসায়ী কণ্টাক্টার ও সাধারণ 
লোকেও প্রাচীন বাড়িঘরের ইটপাথর ভাঙিয়া রাস্তা বাড়ি প্রভৃতি 
নির্মাণের মশল! সংগ্রহ করিয়াছে, ইহা সব প্রাচীন স্থানেই হইয়! থাকে 
দেখা যায়। 

বেণুবনের এলাকায় যেসব ভাঙা মাটির ঘরের দেওয়াল দেখা যায় 
সেগুলি মেলার সময়কার দোকানপাটের অবশেষ । প্রতি চার বছর 
অন্তর মলমাসে রাজগীরে একমাসব্যাপী বৃহৎ মেলা বসে। লক্ষ লক্ষ 
লোক এই মেল! দেখিতে আসে। শোন্পুরের হরিহরছত্রের মেলার 
পর রাঁজগীরের এই মেলাই বিহারের জর্বপ্রধান মেলা । ১৯৫০ সালে 
এই মেল! হুইয়! গিয়াছে । রাজগীরের সর্বন্র যেসব সিমেণ্টবাধান 
_কুপ দেখা যায় সেগুলি এই মেলার জলসরবরাছের জন্য খনিত, কিন্ত 
কয়েকস্থানে ইটের প্রাচীন কূপও কতকগুলি দেখা যায়। 


বিপুলগিরির তলদেশ __ মখ্দুমকুণ্ড ও সূর্যকুণ্ড 


জাপানী মন্দিরের পূর্ব - দক্ষিণে মখদূমকুণ ও মসজিদ প্রভৃতি । 
মখদুম শা নামক বিহারের একজন বিখ্যাত মুসলমান সাধু এখানকার 


৫8 রাজগৃহ ও নালন্দা 


গুহায় বাস করিয়াছিলেন। এই কুণ্ডের জল প্রায় শীতলই। মখদুম 
যে গুহায় থাকিতেন সম্ভব সেই গুহায়ই, অথব। সপ্পিকটের বিপুলগিরি - 
গাত্রের অন্ত গুহাগুলির কোনটিতে বুদ্ধ প্রথমবার রাঁজগৃহে আসিয়া 
বাস করিয়াছিলেন, কারণ পূর্বে বলা হইয়াছে যে, পাগব পাহাড় 
সম্ভব বিপুলগিরি। বুদ্ধ - প্রতিতবন্দী দেবদত্তও সম্ভব পরে মখদুম 
গুহায় থাঁকিতেন। ডক্টর মজুমদার দেখাইয়াছেন যে, দেবদত্তের 
মৃত্যুস্থানরূপে চীনা পরিব্রাজকরা যে গুহার কথা বলিয়াছেন তাহ! 
এই মখদদুমগ্ুহা, পুরাতত্ব বিভাগ বণিত কৃর্যকুণ্ডের ধারের কোন 
স্থান নয়। মখদুমগ্ডহা হইতে পাহাড়ের গায়ের সিঁড়ি দিয়া একটু 
উপরে উঠিলে এক জায়গায় পাথরের উপর লাল দাগ দেখা যায়। 
ইহা আসলে প্রাকৃতিক তৃতান্তিক কারণজাত, কিন্তু হিউয়েন ৎসাং 
এ সম্পর্কে একটি ভিক্ষুর আত্মহত্যার কাহিনী শুনিয়াছিলেন এবং 
মুসলমানরা এই দাগ সম্বন্ধে একটা বাঘের গল্প বলেন। 

হুর্যকূণ্ডের পাশের মন্দিরগুলি আধুনিক। এগুলি যে প্রাচীন 
বাড়িঘর মন্দিরাদির বিধ্বস্ত অবশেষের উপর নিমিত তাহা দেখিলেই 
বুঝা যায়। বিপুলগিরির পাদদেশ ও বৈভারগাত্রে সাতধারার 
চারপাশ প্রাচীনকালে বহু মন্দিরার্দিতে আচ্ছন্ন ছিল, প্রাচীন ভিত্তি - 
সমূহের বড় বড় পাথর ও ইটের গাঁথনি যত্র তত্র চোখে পড়ে। 
বিপুলগিরিতে উঠিবার যে রাস্তা আধুনিক জৈনর! তৈয়ারি করিয়াছেন, 
তাহার আরম্ভ হৃর্যকুণ্ডের একটু দক্ষিণ - পূর্বে। বিপুলগিরি জৈনদের 
কাছে অতি পবিত্র, কারণ মহাবীর এখানে বাস ও ধর্মপ্রচার 
করিয়াছিলেন। রাজগৃহের সব পাহাড়ের উপর যে সাদা মন্দিরগুলি 


বর্তমাঁন -রাজগৃহ পরিক্রমা ৫৫ 


দেখা যায় তাহা আধুনিক কালে জৈনদের দ্বারা নিথ্িত। যে যে পাহাড়ে 
উঠিবার বাধান রাস্তা আছে সেগুলিও জৈনর! আধুনিক কালে নির্মাণ 
করিয়াছেন। ুর্ধকুণ্ডের ঠিক উত্তরপূর্বে বড় পাথরে গাথা যে চতুক্ষোণ 
উঁচু চবুতারার একটি গাত্র অবশিষ্ট আছে দেখা যায়, তাহাকে পুরাত্ 
বিতাগ ভুল করিয়া দেবদত্তের সমাধিস্তূপ বলিয়াছেন; পূর্বে বলা 
হইয়াছে যে, মখদুমগুহাই দেবদত্তের গুহা । এই চবুতারাটি জরাসন্ধকী 
বৈঠকের মত প্রহরীদের পর্যবেক্ষণ - মঞ্চ ছিল। 


২য় দিন বৈকাল 


বিপুলগিরি - আরোহণ 


সব পাহাড়ের মধ্যে বিপুলগিরিতে উঠিবার রান্তাই বেশ ভাল ও 
সহজ। পাহাড়ে আস্তে আস্তে, বেশি কথাবার্তী না বলিয়া এবং মধ্যে 
মধ্যে বিশ্রাম করিয়া উঠিতে হয়, কখনও দ্রতবেগে ওঠা উচিত নয়, ইহা] 
হৃদ্যন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর _-“শনৈঃ পন্থাঃ শনৈঃ কগ্থা শনৈঃ পর্বতলজ্ঘনম্।” 
বৈকালবেলায় বিপুলগিরিতে ও ভোরবেলায় বৈভারগিরিতে উঠিলে 
হুর্য সাম্নে থাকার অন্ুবিধা নিবারণ হয়। বিপুলগিরির শিরোদেশ 
হইতে ব| নামিবার সময়ে হুর্যান্তের দৃশ্ত মনোরম দেখায়। উঠিবার 
জন্য পুরা এক ঘণ্টা! সময় দেওয়া! উচিত। উপর হইতে উত্তরে রেল 
ষ্টেশন, সিলাও গ্রাম প্রভৃতির এবং দক্ষিণে গিরিমালা'র মধ্যবর্তী প্রাচীন 
নগরের উত্তরাংশের বেশ ধারণ! হয় । 

বিপুলগিরির শিখরের উচ্চত! সমুদ্রবক্ষ হইতে ১০৩৬ ফুট। উপরে 
উঠিতে অনেক ধ্বংসাবশেষ চোখে পড়ে। শিখরের বর্তমান জৈন 


৫৬ রাজগৃহ ও নালন্দা! 


মন্দিরগুলি প্রাচীন গিরি - প্রাকারের তিত্রির উপর নিমিত হইয়াছে, 
তবে প্রাচীন মন্দিরাদিও সম্ভব ছিল। মন্দিরগুলির পূর্বদিকে স্তূপের 
মতটিও সম্ভব গিরি - প্রাকারের অংশ ছিল। ইহার কিছু উত্তর - 
পূর্বে মহাবীরের প্রথম ধর্মপ্রচারস্থান ম্বরূপে একটি মর্মরফলক আধুনিক 
জৈনরা স্থাপন! করিয়াছেন। বিপুলগিরির শিখর হইয়! রত্বগিরিতে গিয়া 
সেখান হইতে অপরদিকে . নামিলে দক্ষিণের প্রায় জীবকাঅবনের 
কাছাকাছি পৌছান যায়; জৈনযাত্রীরা এই পথে পাচ -পাহাড় 
পরিক্রমা করেন? কিন্তু এই পথে যাইতে হইলে ভোরবেলায় 
বিপুলগিরিতে ওঠা আরম্ভ করিতে হয়। সাধারণ দর্শকের পক্ষে এ 
চেষ্টা না করাই ভাল। 


গিরিপ্রাকার 


রাজগৃহের সব পাহাড়ের উপর হইতে পর্বতমালার শিরোদেশের 
গিরিপ্রাকারের (0869: 7০:61508607) এবং প্রাচীন নগরের 
নগরপ্রাচীরের ([7779£ চ০761168802) স্পষ্ট ধারণা হয়। পাহাড়ে 
উঠিবার সময়ে অনেক স্থানে গিরিপ্রাকারের অংশবিশেষের ভিত্তি 
দেখা যায় ও তাহার উপর দিয়! চলাও যায়। গিরিপ্রাকার সম্বন্ধে 
এখন. সবচেয়ে তাল ধারণা হয় প্রাচীন নগরের একেবারে দক্ষিণ - 
সীমায় বানগঙ্জার কাছে। এখানে প্রাকারের নিম্নাংশ অনেকটা 
অবিকৃত অবস্থায় দেখা যায়। 

এই গিরিপ্রাকার ছিল অতি আশ্চর্য জিনিষ। মোহেন্জোদটো 
ও হ্ঢগ্লা আবিষ্কৃত হইবার পূর্বে রাজগৃহের এই গিরিপ্রাকারই 


ই. .... ৬ সহ তা 





বর্তমান - রাজগৃহ পরিক্রমা ৫৭ 


পুরাতত্ববিদ্দের কাছে ভারতীয় স্থাপত্যের প্রাচীনতম পিদর্শন বলিয়া 
গণ্য হইত। ইহা কখন নিগিত হইয়াছিল ঠিক বলা যায় না, 
তবে ইহা যে অজাতশক্রর রাজত্বকালের পরে নিিত নয় তাহাতে 
কোন সন্দেহ নাই কারণ অজাতশক্রর পর রাজগৃছের রাজধানীত্ব লোপ 
হইয়াছিল, অতএব নগররক্ষার আর কোন প্রয়োজনীয়তা ছিল না। 
সম্ভব লিচ্ছবিদের সঙ্গে ১৬ বছর ধরিয়! যুদ্ধের সময়ে অথবা অবস্তী- 
রাজের আক্রমণের ভয়ে অজাতশক্র রাজধানীরক্ষার জন্য এই প্রাকার 
নির্মাণ করিয়াছিলেন __ ইহাই প্রাকার - নির্মাণকালের শেষ সীমা । 
কিন্ত ইহার পূর্বে বিশ্বিসারের সময়ে অথবা তাহারও পূর্বে ইহা নিমিত 
হইয়াছিল কিন! তাহা এখনও ঠিক বলা যায় না। 

বিনা চুণ -শুর্কিতে প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড পাথর উপর উপর 
সাজাইয়া এই “সাইক্লোপিয়ান” দেওয়াল নিশিত হয়। উদয়গিরি 
ও স্থানীয় অন্ঠান্ত পাহাড় হইতে এই পাথর কাট! হইত । পুরাতাত্বিকরা 
অন্থমান করেন যে, এই প্রাকারের বড় বড় পাথরের ভিত্তির উপর 
আঁদিতে ছোট পাথরের গাথনি ছিল, তাহার উপর পোড়া বা 
কাচা ইটের গাথনি এবং তাহারও উপর কাঠের নির্মাণ ছিল। 
অতএব আদিতে দেওয়ালের উচ্চতা এখন বানগঙ্গার কাছে যতটা 
দেখা যায় তাহারও চেয়ে অনেক বেশি ছিল। প্রাকারের চওড়াই 
বিভিন্ন স্থানে বেশি কম ছিল, কিন্তু সাধারণ চওড়াই ছিল ১৭১৮ ফুট। 
সমগ্র গিরিশ্রেণীর উপর দিয়া ইহার মোট দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৩০ মাইল। 
প্রাকার দৃঢ়তর করিবার জন্য অনেক জায়গায় অল্প দূরে দূরে ইহার গায়ে 
অধবৃত্তাকার বা চতুষ্কোণ গাথনি সংযোগ কর! হইয়াছিল এবং নানা 


৫৮ রাজগৃহ ও নালন্াা 


স্থানে প্রাকারের শাখা - প্রশাখা ছিল। এই সবই ১ মানচিত্রে দেখান 
হইয়াছে এবং নানাস্থানে দর্শক নিজেও দেখিতে পাইবেন। 
পাহাড়গুলির মধ্যে মধ্যে যেখানে গিরিবন্ষের মত ফাক আছে 
সেখানে এই প্রাকারের দ্বার ছিল, যেমন উত্তরে বিপুল - বৈতারের মধ্যে, 
পূর্বে শৈলগিরি - উদয়গিরির মধ্যে, দক্ষিণে উদয়গিরি - সোনাগিরির 
মধ্যে এবং পশ্চিমে সোনাগিরি - বৈভারের মধ্যে । এই প্রাকার-দ্বারগুলি 
প্রহরী ও সৈন্যদের দ্বারা সুরক্ষিত থাকিত। পাহাড়ের উপরে প্রাকারের 
কাছাকাছিও নানাস্থানে সৈম্দের খাটি ও ব্যারাকের মত ছিল মনে হয়। 
সার জন মার্শালের মতে “জরাসন্ধকী বৈঠক” নামে পরিচিত 
চবুতারাটি সৈন্ঠদের পর্যবেক্ষণস্থান ছিল। ইহার গায়ের গুহাগুলি 
প্রহরীদের বাসকক্ষ ছিল। আদিতে ইহার বর্তমান ভিত্তির উপরও 
অনেক গাঁথনি ছিল সন্দেহ নাই। হৃর্ষকুণ্ডের উত্তরপূর্বে বিপুলগিরির 
তলায় এরূপ আর একটি প্রহরীস্থানের কথা পূর্বে বলিয়াছি। 
বোধহয় উত্তর দিক হইতেই শক্রর আক্রমণের ভয় সবচেয়ে বেশি 
ছিল, কারণ অন্ত কোন দ্দিকে এরঁপ চবুতারার চিহ্ন এখনও পাওয়া 
যায় নাই। লিচ্ছবি প্রভৃতিদের সঙ্গে অজাতশকুর দীর্ঘ যুদ্ধের 


সময়েও উত্তর হইতেই আক্রমণের আশঙ্ক। বেশি ছিল। 
৩য় দ্রিন সকাল 
তপোদা) তপোদারাম 


বৈভারে উঠিবার আগে দর্শক বেণুবনের দক্ষিণপশ্চিমাংশ ও 
বৈভারের উত্তরগাত্র দেখিবেন। বেণুবনের দক্ষিণপশ্চিম সীমার 


বর্তমান - রাজগুহ পরিক্রমা ৫৯ 


নীচে জলল্রোতটি প্রাচীন তপোদা ও বর্তমান সরম্বতী নদী। 
ঠিক বেণুবনের সীমার নীচে এই জলজোতে একটি বড় বড় 
প|থরের বাধ ছিল এবং বাঁধের উপর দিয় সম্ভব অপর তীরের 
তপোদারামে যাইবার পথ ছিল। তপোদারামের কথা পালিশাস্ত্ে 
উল্লিখিত আছে, এই উপবনের মধ্যেও পরে বিহারাদি নিমিত 
হইয়াছিল এবং এখন এখানে একটি সাধুসন্ন্যাসীর খাটি আছে। 
এই বাধের দ্বারা জল বাঁধিয়া সম্ভব নদীর উপরের কিছুদূর অংশ 
পতপোদ। - সরোবরে” পরিণত করা হহয়াছিল। আধুনিক লোহার 
পুলের দক্ষিণে কোন কোন স্থানে নদীতীর “কংক্রীট' - বাধান ছিল 
মনে হয়। রাজগুহে অনেক জায়গায় যেখানে যেখানে জল ছিল সেখানে 
দর্শক এই প্রাচীন কংক্রীটের বড় বড় টাই দ্বেখিবেন। ছোট ছোট পাথর, 
শুরুকি চুণ ও অন্য কোন অজ্ঞাত মশলাদি দিয়া প্রস্তত হইয়া ইহা এমন 
দু হইত যে সমস্তটি একখণ্ড পাথরের মত মনে হয়। 


পিপপলি গুহ 


বিপুলগিরির মত বৈভারের তলদেশও বহু মন্দিরাদিতে আচ্ছন্ন 
ছিল। এখনকার মন্দির মসজিদ সিঁড়ি প্রভৃতি শীচে প্রাচীন 
ই'টপাঁথরের চিহ্ত অনেক দেখা যায়। তপোদারাম ও গঙাযমুনা - ধারা 
পার হইয়া একটু পশ্চিমে একটি বৃহৎ প্রাচীন পুষ্করিণী দেখা যায়। 
এই পুষ্করিণীর পূর্বসীমা! বরাবর বৈভারগান্রে একটু উপরে পূর্বমুখী যে 
গুহাটি, ডক্টর মজুমদার দেখাইয়াছেন যে তাহাই সম্ভব বৌদ্বশাস্ত্রোক্ত 
বিখ্যাত “পিগ্ললি-গুহাঃ ৷ টীকাকাররা বলিয়াছেন সামনে একটি 


৬০ রাজগৃহ ও নালন্দ। 


অশ্বথগাছ (আধুনিক হিন্দিতেও অশ্বথকে পিপল্‌ বলে ) থাকায় গুহার 
এঁ নাম হয়। বুদ্ধও সম্ভব কোন সময়ে এই গুহায় বাম করিয়াছিলেন । 
সারিপুত্র প্রভৃতি শিষ্যরীও পরে এখানে কখন কখন বাস করিতেন। ভিক্ষু 
মহাঁকাশ্ুপ একবার এখানে বাস করার সময়ে খুব পীড়িত হইয়া! পড়েন 
এবং বুদ্ধ তাহাকে দেখিতে আসিয়া প্রবোধ সাত্বনা ও উপদেশ দেন। 
পুরাতত্ব বিভাগ বলিয়াছেন যে সৈষ্ঠদের দ্বারা পরিত্যক্ত হইবার 
পর জরাসন্ধকী বৈঠকের গায়ের কোন গুহাকেই সম্ভব বৌদ্ধরা 
পিপ্ললিগুহা! বলিতেন ১ কিন্তু ইহা ঠিক মনে হয় না, কারণ বুদ্ধের 
সময়ে গিরিপ্রাকার ও এই সামরিক পর্যবেক্ষণ - মঞ্চ তৈয়ারি হইয়াছিল 
কিনা ঠিক বলা যায় না এবং যদি হইয়। থাকে তবে তাহা 'সৈন্দের 
দ্বারা পরিত্যক্ত হইয়াছিল বলিয়া মনে হয় না। কেহ বলিয়াছেন 
জরাসন্ধকী বৈঠকের ঠিক পশ্চিমের পাহাড়ের গা হইতে পাথর কাটিয়া 
এই চন্্ুতারা নিমিত হইয়াছিল এবং পাখর কাটার ফলে গিরিগাত্রে 
যে গুহাটির স্থষ্টি হইয়াছিল তাহা ১৮৯৫ সাল পর্যন্ত বর্তমান ছিল, এখন 
ভাঙ্গিয়।৷ পড়িয়াছে এবং ইহাই পিগ্ললিগুহা ছিল। এই ব্যাখ্যাও সঙ্গত 
মনে হয় না, কারণ সেপাইশান্্রীর ধাটির অত কাছে নির্জনবাসী তিক্ষুরা 
আশ্রয়স্থান নির্মাণ করিবেন ইহা সম্ভব মনে হয় ন|। 


সপ্তপর্ণী স্তূপ? 


পিগ্ললিগুহার উত্তরের খোলা মাঠের মধ্যে এবং 'নৃতন” রাজগৃছের 
পশ্চিমের অশোকলন্ভুপ পর্যন্ত এলাকায় সম্ভব বৌদ্বশান্ত্রের শীতবন ছিল। 
বুদ্ধ প্রায়ই শীতবনে থাকিতেন। 


বঙমান - রাজগৃহ পরিক্রম। ৬১ 


*[ পিগলিগুহার সামনে হইতে পশ্চিমে সপ্তপর্ণা গুহার সীমান। পর্যন্ত 
ভূতাগে অনেক ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়, এই স্থানের পবিত্রতাবশত 
বোধহয় পরবর্তী কালে এখানে অনেক বিহার-স্তপাদি নিখিত হইয়াছিল । 
এদিকের বৈভারগাত্জে অনেক বড় - পাথরের গাঁথনির চিহ্ন এবং গুহাও 
আছে, এই গুহাগুলিতে সাধু - সন্ন্যাসীরা থাকিতেন। পাহাড়ের নীচে 
হইতে সপ্তপর্ণাতে উঠিবার জন্ত বৈভারের উত্তর গাত্রে বেশ ভাল পথ 
যে ছিল তাহারও চিহ্ন আছে। এখন কিন্তু দর্শক এ পথে উঠিবার 
চেষ্টা না করিয়া! একটু পরে বৈভাগের উপর দিয়া সপ্তপর্ণীর যে পথের 
বিবরণ দেওয়া হইবে, সেই পথে সপ্তুপরী গুহা দেখিবেন। ] 

[ বৈভারের উত্তরের মাঠ হইতে উপরে তাকাইয়া সপ্তপর্ণী গুহা 
দেখ! যায়। আরও মাইলখানেক পশ্চিমে গেলে বৈভারের তলদেশে 
উচু জায়গার উপর প্রকাণ্ড একটি গাঁথনির অবশেষে দেখা যায়। 
সার জন মার্শাল মনে করেন যে অজাতশক্র প্রথম বৌদ্ধ সঙ্গীতির 
জন্ট সপ্তপণী গুহার সাম্নে বা কাছে যে মণ্ডপ তৈয়ারি করিয়া দিয়া- 
ছিলেন, এই উ'টু গাথ.নি সেই মওপের ধ্বংসাবশেষ। কিন্তু ইহা ঠিক 
মনে হয় না, কারণ প্রথমত এই গথনির কাছাকাছি গিরিগাত্রে কোন 
গুহা নাই যাহাকে সপ্তপর্ণা গুহা বল! যাইতে পারে এবং দ্বিতীয়ত 
অজাতশক্র যাহা! তৈয়ারি করাইয়৷ দিয়াছিলেন তাহা! “মণ্ডপ” বা 


সময় ব| শ্রম - সংক্ষেপেচ্ছু দর্শক ইচ্ছ। করিলে এখানে ও পরে এইরূপ বড় 
বন্ধনীর মধো বদিত স্থানগুলি বাদ দিতে পারেন এবং সম্ভব হইলে সেই সমরে 
পরে বর্ণিত গ্বানগুলির যতট। পারেন দেখিয়। রাখিতে পারেন। 


৬২ রাজগৃহ ও নালন্দা 


জ্রুতনিশিত অস্থায়ী ছাউনিমাত্র ছিল। অপ্তপর্ণার কাছে যে স্তূপের 
কথ! ফা হিয়েন বলিয়াছেন, এই উচু গাথনি সেই (সম্ভবত অশৌক - 
নিগিত) ভুপ হইতে পারে, অথবা সপ্তপর্ণীর স্মারক অপর কোন 
চৈত্যবিহারাদি এখানে পরে নিগ্নিত হয়। ফা হিয়েন ও হিউয়েন 
থসাং উভয়েরই বর্ণনা হইতে ঠিক বুঝা যায় না যে, তীহাদিগকে 
সপ্তপর্ণী বলিয়া যাহা দেখান হুইয়াছিল তাহা গিরিগাত্রের অনেকটা 
পূর্বদিকে ও উপরের গুহাগুলি, না নীচের এই উচু গাথনিটি। কিন্ত 
সবদিক বিবেচনা করিয়! মনে হয় উপরের গুহাগুলিই ছিল আসল 
সপ্তপর্ণা এবং সাধারণ লোকের মনে কালক্রমে নীচের স্তূপাদিও 
সপ্তপর্ণার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত হইয়া গিয়াছিল। ] 


৩য় দিন বৈকাল 


জরাসন্ধকী বৈঠক, বৈভারের কুণ্ড ও ধারা 


গল্গাযমুন! - ধারার দক্ষিণের পথ দিয়া জরাসন্ধকী বৈঠকে উঠিতে 
হয়। দর্শক এই ভষ্টব্যটি দেখিয়া সন্ধণার পূর্বেই নামিয়া আসিবেন, 
কারণ সন্ধ্যার পর বৈভারে বাঘ - ভালুক বাহির হইবার ভয় থাকে 
এবং পথও খারাপ। 

নীচে ব্রহ্গকুণ্ড, সাতধার! (বা শতধার!? ) প্রভৃতির চারদিকে 
সর্বত্র প্রাচীন মন্দিরাদির অবশেষের উপর আধুনিক নির্মাণ। সাতধারার 
দক্ষিণে নিচু জায়গায় একটি পাথরবাধান বড় প্রাচীন পুঙ্ষরিণী। 
বৈভারের জলধারাগুলি খুব গরম। বৈজ্ঞানিকপ্রবর জগদীশচন্দ্র 


বর্তমান - রাজগৃহ পরিক্রম। ৬৩ 


বন্ধ মহাশয় বলিয়াছেন রাজগৃহের উষ্ণ প্রশ্রবণগুলির জলে রেডিয়াম - 
শক্তি আছে। বাত - প্রভৃতি বেদনায় এই জলে স্নান করিয়া এবং 
হজমের রোগে এই জল গরম বা ঠাণ্ডা করিয়৷ পানে অনেকে খুব 


উপকার পাইয়া থাকেন। রাজগীরের অগ্য কয়েকটি কৃপের জলেরও 
হজ মিগুণ আছে গুন! যায়। 


৪র্থ দিন সকাল 


বেভারগিরিতে আরোহণ, সপ্তপর্ণী গুহা 

জরাসন্ধকী বৈঠকের পাশ দিয়া বৈতারগিরিতে উঠিবার পথ। 
সব পাহাড়ের মধ্যে বৈভারে ওঠাই সবচেয়ে কষ্টসাধ্য, রাস্তাও 
ভাল নাই। উপরে সপ্তপর্ণী গুহা পর্যন্ত যাইতে হইলে উঠিবার জন্য 
অন্তত এক ঘণ্টা সময় দিতে হয়। উপরের সব ভ্রষ্টব্য ঘুরিয়া দেখিতে 
হইলে আরও ছুই তিন ঘণ্টা সময় হাতে রাখিতে হয়। উপরে উঠিবার 
সময়ে দুইদিকে অনেক ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। এখানে কোন স্থানে 
বুদ্ধ একবার ধর্মশিক্ষা দিয়াছিলেন এবং সেখানে হিউয়েন সাং একটি 
স্মারক স্তূপ দেখিয়াছিলেন। কিছুদুর উপরে উঠিয়া যেখানে পাথর- 
বাধান রাস্তার মত মনে হয়, আসলে তাহা গিরিপ্রাকারের একটি 
শাখার তিত্তি। উপরের নূতন জৈন - মন্দিরগুলির দক্ষিণে একটি প্রাচীন 


জৈনমন্দির ও একটি প্রাচীন শিবমন্দির ভাঙ্গা! অবস্থায় দেখা যায়। 
তৃতীয় নৃতন জৈনমন্দিরটির কাছে উত্তরদিকে যে পথ নামিয়া 


গিয়াছে. তাহাতে অল্প দুর গেলে সপ্তপর্ণী গুহায় পৌঁছান যায়। 
বুদ্ধ কখন কখন এখানে বাস করিতেন । নিকটে অপ্তপর্ণী বা ছাঁতিম 


৬৪ রাজগৃহ ও নালন্দা 


গাছ থাকায় গুহার এ নাম হয়। মহাবস্ততে আছে যে, গুহাগুলির 
পুরোভাগ প্রস্তরাবৃত ও বুক্ষাদিযুক্ত নুচ্ছায় ছিল। হিউয়েন ৎসাং 
গুহার- পুরোভাগ (পাহাড়ের নীচে ?) বাশবনে ঘের! দেখিয়াছিলেন। 
গুহাগুলির পুরোভাগ এখন যতটা বিস্তৃত পূর্বে সম্ভব তার চেয়ে 
বেশি বড় ও পাথরবীাধান ছিল। পুরাতাত্বিকরা বলেন সেই প্রাঙ্গণ 
যে ধ্বসিয়া পড়িয়াছে তাহার চিহ্ন এখনও বর্তমান। সম্ভব সেই 
প্রাঙ্গণের উপরই মণ্ডপ নির্মাণ করিয়। প্রথম সঙ্গীতির অধিবেশন হয়। 

বৈভারের সর্বোচ্চ শিখরের উচ্চতা ১১৪৭ ফুট । বৈভারের উপর 
হইতে উত্তরদিকের সমতলভূমির আলবাধা খণ্ড খণ্ড নানা! রঙের 
শষ্যক্ষেত্রের শোভা বুদ্ধ একবার আনন্দকে দেখিতে বলিয়াছিলেন। 
বুদ্ধ বড়ই সৌন্দর্প্রিয় ছিলেন এবং সুন্দর কিছু দেখিলেই তাহার প্রশংসা 
করিতেন 'ও অন্তাকে দেখাইতেন। 

[ তৃতীয় জৈনমন্দির হইতে আরও দক্ষিণের জৈনমন্দিরগুলির দিকে 
গেলে গিরিপ্রাকারের অনেক অংশ চোখে পড়ে। প্রদিকে পাহাড়ের 
উত্তর কোলে বাধ বীধিয়া একটি প্রকাণ্ড পুক্ধরিণী নিমিত হইয়াছিল, 
তাহার জল নিয়মিত করিবার জন্য 19109 85৪ ছিল। উপর হইতে 
পু্করিণীতে পৌছিবার জন্য সুন্দর প্রশস্ত বাধান ঢালু পথ প্রস্তুত করা 
হইয়াছিল। বৈভারের দক্ষিণপ্রান্তের শেষ জৈনমন্দিরের কাছে 
দাড়ায়! চারদিকের পর্বতশিরে গিরিপ্রাকার, নীচে সাম্নে সমগ্র 
প্রাচীন নগর ও তাহার প্রাচীর, ডাইনে নগরপ্রাচীর ও গিরিপ্রাকারের 
মধ্যবর্তী শহরতলীর পুফরিণী প্রভৃতি, গিরিপ্রাকারের বাহিরে রণভূম 
প্রভৃতির খুব ভাল ধারণা হয়। ] 


বর্তমান - রাজগৃহ পরিক্রমা ৬৫ 
৪র্থ দিন বৈকাল 


গিরিপ্রাকারের উত্তর দ্বার, নগরপ্রাচীরের 
উত্তর ও উত্তরপশ্চিম দ্বার 


এখন দর্শক গিরিপ্রাকারের উত্তরদ্ধারের দিকে অগ্রসর হইবেন। 
বেথুবনের দক্ষিণসীমা ও দোকানপাটগুলি ছাড়াইয়া চলিবার সময়ে 
বামে বিপুলগিরির তলদেশ পর্যস্ত ও ডাইনে বৈভারের গায়ে ও 
তলদেশে অনেক ধ্বংসাবশেষের চিহ্ধ দেখা যাইবে । উত্তরদ্ধারে 
পৌছিবার পূর্বে রাস্তায় প্রাচীন জলনিকাশের পথ দেখা যায়, এখান 
দিয়া বিপুলগিরির বুষ্টিজল নদীতে আসিয়। পড়িত। গিরিপ্রাকারের 
দ্বার -সংলগ্ন প্রহরীদের বাসকক্ষের চিহ্ন দেখা যাইবে । বিপুলগিরি 
হইতে গিরিপ্রাকার কিভাবে নামিয়!৷ বৈভারে উঠিয়াছিল তাহার 
আভাসও পাওয়া যাইবে। 

গিরিপ্রাকার ও দ্বারের বড় ঝড় পাথর ভূমিকম্পাদিতে ও বোধহয় 
শক্রর আক্রমণেও স্থানচ্যুত হইয়! প্রাকারের সাম্নে পিছনে নানা -: 
স্থানে পড়িয়া আছে। দ্বারের পশ্চিমদিকে নদীতীরে একটি শ্বশান, 
হয়ত প্রাচীনকালেও নগরপ্রাচীর ও গিরিপ্রাকারের মাঝখানে বা 
গিরপ্রাকারের বাহিরে এখানে শ্মশান ছিল। প্রাকারদ্বারের পরেই 
খাল। প্রাচীন নগরের পূর্ব ও উত্তরদিকে এই খাল এবং পশ্চিমে 
নদী পরিখার কাজ করিত। 

খালের পরেই নগরপ্রাচীরের উত্তরপশ্চিম দ্বার -_পুরাতত্ব বিভাগ 
ইহাকে নগরপ্রাচীরের উত্তরদ্ধার বলিয়াছেন কিন্তু তাহা ঠিক নয়, 

৫ 


৬৬ রাজগুহ ও নালন্দা 


কারণ এই দ্বারের কিছু পূর্বদিকে যেখানে পূর্বদিক হইতে একটি খাল 
ও দক্ষিণদিক হইতে একটি খাল আসিয়! মিশিয়াছে, সেখানে নগর - 
প্রাচীরে একটি দ্বারের ও খালের উপর পাকা পুলের চিহ্ন আছে। 
বড় বড় কংক্রীট খণ্ড ভাঙিয়া খালের মধ্যে ও পাশে পড়িয়া আছে। 
ডক্টর মজুমদার বলিয়াছেন ছিউয়েন ৎসাং নগরপ্রাচীরের উত্তরদ্ার 
বলিতে এই দ্বারটিই বুঝিয়াছিলেন, পুরাতত্ব বিভাগ যাহাকে উত্তরদ্বার 
বলিয়াছেন তাহাকে নয়। অতএব পুরাতত্ব বিভাগ যাহাকে উত্তর - 
দ্বার বলিয়াছেন তাহা বাস্তবিক উত্তরপশ্চিম ্ধার। এই ছুই দ্বারের 
পূর্বে ও পশ্চিমে নগরপ্রাচীরের চিহ্ন ও অবশেষ দেখা যাইবে। 

খাল পার হুইবার পর বর্তমানের রাস্তার অল্প পশ্চিমে প্রাচীন 
রাজপথের ঢালুরেখা এবং এখানকার রাস্ত! যেসব প্রাচ।ন বাঁড়িষরের 
উপর দ্রিক্া প্রস্তুত হইয়াছে, তাহার অনেক পরিচয় দর্শকের. চোখে 
পড়িবে। একটু অগ্রসর হইয়া রাস্তার পূবদিকে এক জায়গায় বর্ষার 
জলনিকাশের পথে একটি গর্তের মত আছে, সেখানে প্রাচীন যুগের 
একটি রাস্তায় উপধুপরি লাতটি স্তর দেখা যায়। এখান হইতে পিছনে 
বৈভারের দিকে তাকাইলে গিরিপ্রাকারের রেখা দেখা যাইবে 
এখান হইতে দর্শক আবার খালে ফিরিয়া খালের দক্ষিণ পাড় দিয়! 
সরম্বতীর দিকে যাইবেন। 

নগরপ্রাচীরের উত্তরপশ্চিম কোণের উপরে মন্দিরটি আধুনিক, 
পাগ্ডারা ইহাকে জরারাক্ষমীর মন্দির বলে। প্রাচীরকোণ ঘুরিয়া 
পশ্চিমদিকের প্রাচীরের পাশ দিয়া দক্ষিণে অল্প গেলে প্রাচারগাত্রে 
একটি কাটা দেখ! যাইবে | এখানে ঝড় বড় মাটির কলসীতে রক্ষিত 


বর্তমান - রাজগৃহ পরিক্রমা ৬৭ 


মৃতাস্থি পৌতা৷ পাওয়া গিয়াছে, প্রাচীর গাত্রে এখনও কলসী 'ও 
অস্থির অবশেষ দেখ! যায়। ইহা খুব প্রাচীন যুগের মৃতসৎকার - 
প্রথার পরিচায়ক, সে যুগে মৃতদেহ দাহ করিবার পর অস্থিগুলি 
মুৎপাত্রে ভরিয়া! মাটিতে পুঁতিয়া রাখা হইত। 

এখান হইতে দর্শক সন্ধ্যার মধ্যে নগরে ফিরিয়া আসিবেন কারণ 
প্রাচীন নগরে (017 1০) রাত্রে বাখ ভালুক ও বন্যশৃকর বাহির হয়। 


৫ম দিন সকাল 


বলরাম মন্দির 


“জরারাক্ষপীর মন্দির” - এর কাছে সরম্বতী পার হইয়া দর্শক 
নদীর পশ্চিম কুল ধরিয়া দক্ষিণে চলিলে অল্প পরেই একটি খুব বড় 
পাথরে গাথা ভিত্তি দেখিতে পাইবেন। এটি বোধহয় আদিতে 
স্তূপ ছিল, পরে ইহার উপর মন্তব হিন্দুমন্দির নিমিত হয়। খননের 
সময়ে এখানে বলরামের একটি যূতি পাওয়া! গিয়াছিল বলিয়া ইহাকে 
বলরাম -মন্দির বলা হয়। 


সোনভাগ্ডার 


আরও দক্ষিণে গেলে সোনভাগ্ডার। পাগাদের কাহিনী অঙ্গসারে 
ইহা ছিল রাজা! বিদ্বিসারের স্বর্ণভাণ্ডার এবং ইহার ভিতরে দেওয়ালের 
রহস্তময় লিপিতে গুপ্তধন পাইবার পথের নির্দেশ আছে, যে এই 
লিপিরহস্ত ভেদ করিতে পারিবে সেই রাজার গুপ্তধন পাইবে! 


৬৮ রাজগৃহ ও নালন্দা 


আসলে কিন্তু ইহা সাধুদের বাসের জন্ত পাথরকাটা ঘর। ভিতরের 
দেওয়ালে ( রহন্তময় !) ব্রাহ্মী অক্ষরে উৎকীর্ণ লিপি হইতে জানা 
যায় যে, একজন জৈনসাধু তপস্বীদের বাসের জন্ত ইহা খু. ৪ 
শতকে নির্যাণ করিয়াছিলেন । ইহার ভিতরের মৃতিগুলি জৈন 
তীর্থংকরদের। এই ওছাগৃহ পূর্বে" দ্বিতল ছিল, উপরের তলা এখণ 
ভাউ়িয়৷ পড়িয়াছে। 


রংভূম বা মল্লভূমি _ জেগিয়ান 


[ সোনতাগ্ডার হইতে প্রায় দেড় মাইল দক্ষিণে কিন্বদস্তীর মল্লভূমি, 
যেখানে ভীম জরাসন্ধকে মল্লধুদ্ধে বব করেন। এখানে আসিবার 
পথে নগরপ্রাচীর, এবং গিরিপ্রাকারের যে শাখ! বৈভার হইতে 
নামিয়া সমতলভূমির উপর দিয়া সোনাগিরিতে উঠিয়াছে তাহা 
পার হইয়া যাইতে হয়। মল্লভূমির মাটি প্রাকৃতিক কারণে নরম 
ও সাদ!, পাগারা বলে জরাসন্ধ হুধ ও ঘি দিয়! মল্পতৃূমির মাটি নরম 
ও মিহি করিয়াছিলেন। বিহারী কুস্তিগিররা এই মাটি গায়ে মাখিয়া 
ও লইয়৷ গিয়া! প্রায় ফুরাইয়। দিয়াছে । মল্লভূমি হইতে দক্ষিণপশ্চিমে 
যে পথ গিয়াছে, সেই পথে ৬ মাইল দূরে জেঠিয়ান - গ্রাম (যষ্টিবন, 
পালিতে লট্ঠিবন ), এখানে অনেক ধ্বংসাবশেষ আছে । ] 


সোনাগিরি 


[ মল্লভূমি হইতে সোনতাগ্ডারের দিকে ফিরিবার সময়ে যে রাস্তা 
সোনভাগার হইতে মনিয়ার মঠের দিকে গিয়াছে সেই রাস্তায় 


বর্তমান - রাজগৃহ পরিক্রমা ৬৯ 


সরম্বতী পার হইয়া পূর্বাদিকে একটু গেলেই যে পথ দক্ষিণে গিয়াছে 
সেই পথে সোনাঁগিরিতে উঠিতে হয়। পথে নগরপ্রাচীরের দক্ষিণ - 
দিকের শাখা পার হইতে হয়, সম্ভব এখানে একটি দ্বারও ছিল। 
সোনাগিরি হইতে প্রাচীন নগরের দক্ষিণাংশ ও নগরপ্রাচীর (বেশ 
ভাল দেখা যায়। প্রাচীন নগরের দক্ষিণাংশই ছিল প্রাচীনতম 
অংশ, গিরিব্রজ বা কুশাগ্রপুর। এখানে ঘনসন্গিবিষ্ঠ বু বাড়িঘর 
ও রাস্তার চিহ্ন আছে, কিন্তু এখন হুপ্রবেগ্ত জঙ্গলে আচ্ছর। 
সোনাগিরির উপরে উঠিলে গিরিপ্রাকারও বেশ ভাল দেখা যায়। 
সেখান হুইতে গিরিপ্রাকারের উপর দিয়াও বানগঙ্গায় যাওয়া 
যায়। ] | 

দর্শক এখন মনিয়ার মঠের দিকে না গিয়া সোনভাগারে আপিবার 
সময়ে যে পথ দিয়া আসিয়াছিলেন সেই পথে বাসায় ফিরিবেন। 
ইহাতে পথ কম হইবে । 


৫ম দিন বৈকাল 


মনিয়ার মঠ 


গিরিপ্রাকারের উত্তর দ্বার দিয় বর্তমান পাকা রাস্তা ধরিয়৷ 
দর্শক সোজা মনিয়ার মঠে আসিবেন। পথে ছুই দিকে বাড়িঘরের 
ভিত্তি, ডাইনে প্রাচীন রাজপথের রেখা এবং বায়ে একটি বড় 
ধ্বংসাবশেষ লক্ষ্য করিবেন, ইহা একটি ছোট ছুর্গের মত, বোধহয় 
নগররক্ষী প্রহরীদের আবাস ছিল। কয়েক জায়গায় অবস্থাপর 


৭০ রাজগৃহ ও নালন্দা 


লোকের প্রাচীরবেষ্টিত বাড়ির চিহ্ন আছে। মনিয়ার মঠের ঠিক 
সাম্নে ইটবাধান একটা] প্রাচীন কূপ আছে। 

মনিয়ার মঠ খননে এ পর্যস্ত ৫টি স্তর পাওয়া গিয়াছে। উপরের 
স্তরে জৈন বৌদ্ধ শৈব প্রভৃতি দেবালয় ছিল এবং নীচের স্তরে 
(খু. ১-_২ শতক) প্রাপ্ত মৃতি প্রভৃতি হইতে দেখা যায় যে, সে 
যুগে ইহা নাগনাগিনীপৃজার ক্ষেত্র ছিল। মহাতারতে আছে মণিনাগ 
ছিলেন রাজগৃহের অিষ্ঠাতুদেবতা এবং ফক্ষযক্ষিণী - পূজাও ছিল 
রাজগৃছে খুব প্রসিদ্ধ। মনিয়ার মঠই সম্ভব ছিল বৌদ্ধশান্ত্রোকত 
মণিমালকচৈত্য এবং জৈনশাস্ত্রোক্ত মণিভদ্র - যক্ষালয়। নাগনাগিনী 
ও যক্ষ-যক্ষিণী পুজা অনার্য ভারতীয় ধর্মের অঙ্গ ছিল। 
নাগযক্ষার্দি বিবিধ অপদেবতার প্রাধান্তের জন্ত রাজগৃহের এত 
খ্যাতি ছিল যে, এইসব অপদেবতার হাত হইতে নিষ্কৃতি পাইবার 
জন্য বৌদ্ধতিক্ষুরা রাজগৃহে আসিলে একটি প্পরিত্রাণ - মন্ত্র জপ 
করিতেন। 

মনিয়ার মঠের চারপাশ খননের সময়ে বড় গর্তের মধ্যে পশ্বাদির 
কঙ্কাল পাওয়া! গিয়াছিল, সম্ভব এখানে পঞ্ুবলির প্রথাও ছিল। 
মহাতারতোক্ত জরাসন্ধের শিবলিঙ্গ - পূজা ও নরবলির স্থানও সম্ভব 
এখানে ছিল। এইসব কারণে মনে হয়, এই “মঠ”টি অতি প্রাচীন 
দেবস্থান ছিল; ইহার দক্ষিণে ছিল প্রাচীন নগর গিরিব্রজ এবং ইহাই 
ছিল সম্ভব নগরের প্রধান দেবালয়। গভীর খনন করিলে প্রাচীন 
বুগের পুজা, প্রাগার্য মগধের ধর্ম প্রভৃতি সম্বন্ধে অনেক তথ্য এখানে 
আবিষ্কত হইবে সন্দেহ নাই। চারদিকের প্রাচীরের উপর দিয়! 


বর্তমান - রাজগৃহ পরিক্রমা ৭১ 


বেড়াইলে বুঝ! যার কালক্রমে এই মঠ কত বড় আঁকার ধারণ 
করিয়াছিল। 

মনিয়ার মঠ হইতে দর্শক সন্ধ্যার পূর্বে শহরের দিকে রওনা 
ইইবেন। পরদিন সকালে অনেক পথ হাটিতে হইবে, তাই আজ 
বৈকাল - সন্ধ্যায় বিশ্রাম করিবেন। 


৬ষ্ঠ দিন সকাল 


দর্শক যদি বাঁনগঙ্গার দিক ও গৃধকুট দেখা একই দিনে সারিতে 
ইচ্ছা করেন তবে মধ্যাহ্নের আহার, পানীয় জল ও ন্বানের বস্ত্াদি 
সঙ্গে লইয়া রওনা হইবেন কারণ এই দুইদিক অর্থাৎ প্রাচীন নগরের 
দক্ষিণ ও পূর্ব দিক দেখিয় ফিরিতে প্রায় সন্ধ্যা হইবে। অথবা যদ্দি 
দুপুরের মধো ফিরিতে হয় তবে অতি প্রত্যুষে রওনা হইতে হইবে 
এবং গতিবেগ ক্রত করিতে হুইবে। 

পাকা রাস্তা ধরিয়া সোজা মনিয়ার মঠে পৌছিয়! দর্শক পাকা রাস্তা 
ছাড়িয়া মনিয়ার মঠের পূর্বদেওয়াল থেবিয়া যে পথ দক্ষিণে গিয়াছে 
সেই পথে চলিবেন, এই পথ প্রাচীন প্রশস্ত রাজপথ ছিল। পথের ছুই 
পাশে বড় বড় বাড়ির ধ্বংসাবশেষ - শ্রেণীর টিবি পড়িয়া আছে ঃ পশ্চিমে 
সমগ্র গিরিব্রজ কাটাজঙ্গলে আচ্ছন্ন। জঙ্গলের মধ্যে একটু প্রবেশ 
করিলে এখানকার বাঁড়ি ঘর ও রাস্তাগুলির কিছু ধারণ! হুইবে। 


| কারাগৃহ 
প্রাচীন রাজপথ দিয়া নগরপ্রাচীরে পৌঁছিবার কিছু আগে বাঁদিকে 
একট বড় ধ্বংসাবশেষ আছে। এটি সম্ভব বন্দীশালা ছিল কারণ 


৭২ রাজগৃহ ও নালন্দ। 


খননের সময়ে এখানে ভিত্তিসংলগ্ন লোহার আংটা পাওয়া গিয়াছে, 
ইহাতে সম্ভব বন্দীদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করিয়া রাখা হইত। অজাতশত্র 
বোঁধহয় বিদ্বিসারকে এখানেই বন্দী করিয়া রাখেন কারণ বণিত 
আছে যে, বন্দীশালা হইতে বিদ্বিসার গৃকুটশিরে বুদ্ধকে দেখিতে 
পাইতেন। এই স্থান ও গৃথকুট বাস্তবিকই পরম্পরপৃশ্ঠ। 


প্রাপাদনগর 


নগরপ্রাচীরে পৌছিলে যে দ্বারটি দেখা যাঁয় তাহাকে দক্ষিণ - 
পশ্চিম দ্বার বলা হয়। কিন্তু হিউয়েন ৎসাং বণিত প্রাসাদনগরের 
ইহা! ছিল উত্তর - পশ্চিম দ্বার, ইহার দক্ষিণের অংশ ছিল রাজপ্রাসাদ - 
সমস্িত প্রাসাদনগর। নগরপ্রাচীরের অল্প পরে ডানদিকে একটু 
দূরে একটা প্রাচীন কূপ আছে, ইহা সম্পূর্ণ পাথর কাটিয়া খনিত 
হইয়াছে। প্রাচীন রাজপথ এই অঞ্চলে ধনুকের মত বাঁকিয়া৷ যেখানে 
আধুনিক পাঁকা রাস্তার সঙ্গে মিলিয়াছে, পুরাতাত্বিকরা তাহার 
নির্যাগকৌশলের প্রশংসা করেন; ঢালু জমির উপর হইলেও রাস্তার 
চড়াই খুব অল্লে অল্পে বাড়িয়াছে। 


রাজপ্রাসাদ -_ শেল্‌ (৪11911)-লিপি 


প্রাচীন ও আধুনিক রাস্তার সংযোগস্থলের পশ্চিমে জঙ্গলে 
আচ্ছন্ন অনেক ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। ডক্টর মজুমদার হিউয়েন 
ঘসাং - এর বিবরণ হইতে অঙ্কুমান করিয়াছেন যে বিদ্বিসারের রাজ - 
প্রাসাদ সম্ভবত এখানে ছিল। 





গৃত্কূটের সিঁড়ি 





বর্তমান - রাজগৃহ পরিক্রমা ৭৩ 


একটু অগ্রসর হুইয়! বামে একটি এলাকায় অনেকখানি জায়গার 
উপর মাটিতে পাথরের উপর অদ্ভুত অক্ষরে কি যেন সব লেখা। 
এখানে পাথরের উপর গাড়ির চাকার গভীর দাগ হইতে মনে হয় 
ইহা রাস্তা ছিল। যাহাতে লিপিগুলি নষ্ট না হয় সেজন্য এখন 
এখানে দেওয়াল ঘিরিয়৷ দেওয়! হইয়াছে। এই অন্তত অক্ষরকে 
পণ্ডিতরা 81091] (ঝিছ্ুক ) লিপি বলেন, ইহার রহম্ত এখনও তেদ 
হয় নাই। এই অক্ষরের লিপি রাজগৃহের আরও অনেক স্থানে 
দেখা যায়, সাতধারাঁর একটি উষ্ণজল - প্রণালী মেরামতের সময়ে 
মাঁটির তলায় একটি পাথরেও এই লিপি পাওয়া গিয়াছে। এই 
লিপির চাবিকাঠি যেদিন আবিষ্কৃত হইবে সেদিন রাজগৃহ তথা প্রাচীন 
ভারতের ইতিহাস সম্বন্ধে অনেক নৃতন তথ্য আমাদের জ্ঞানগোচর 
হইবে । [ “শেল” - লিপির কাছ দিয়া উদয়গিরিতে উঠিবার পথ। ] 
আরও একটু দক্ষিণে রাস্তার বাম পার্থে ছুইটি ছোট স্তপের অবশেষ । 


বানগঙ্গ। _- গিরিগ্রাকারের দক্ষিণঘার 


বানগঙ্গার মুখের কাছে সোনাগিরি ও উদয়গিরির গিরিবজ্ে 
গিরিপ্রাকারের দক্ষিণদ্বার। পূর্বে বলিয়াছি এখানেই গিরিগ্রাকার 
সবচেয়ে দেখিবার মত ? দর্শক সোনাগিরিতে উঠিয়া প্রাকারের আয়তন 
দেখিবেন। প্রাকারের বাহিরে দক্ষিণেও কিছু ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। 
রাস্তা! এখানে গয়ার দিকে গিয়াছে। 

সকাল ৮টা, সাড়ে ৮টার মধ্যে এখান হইতে গৃকুটের দিকে রওনা 
হইতে না পারিলে “শেল” লিপির কাছাকাছি খালের ধারের গাছের 


৭8 রাজগৃহ ও নালন্দা 


ছাঁয়ায় পাথরের উপর দর্শক বিশ্রাম ও আহারাদি করিবেন। বাঁনগজ। বা 
খালের জলে স্নানাদি সারিয়া লইবেন কিন্তু এ জল পান করিবেন না। 


৬ষ্ঠ দিন বৈকাল 


বেলা ২টা আন্দাজ এখান হইতে রওনা হইয়া যে প্রাচীন রাজপথে 
মনিয়ার মঠ হইতে আসিয়াছিলেন তাহা ৰায়ে রাখিয়া দর্শক আধুনিক 
রাস্তা ধরিয়া নগরপ্রাচীরের যে দ্বারে উপস্থিত হইবেন তাহাকে 
দক্ষিণদ্বার বলা হয়। এই দ্বারকেই সম্ভব হিউয়েন ৎসাং প্রাসাদ - 
নগরের উত্তর - দ্বার বলিয়াছেন কিন্তু জ্যাকসন সাহেব ও ডক্টর 
মজুমদারের মতে ইহাকে পূর্বদ্ধার বলাই বেশি সঙ্গত হয়। প্রাচীন - 
কালেও বোধ হয় এই দ্বারকে প্রাসাদ - নগরের পূর্বদ্ধার বলা হইত। 
স্ত্তনিপাতটাকায় আছে বুদ্ধ ভিক্ষায় বাহির হুইলে যেদিন প্রাসাদের 
উপর হুইতে বিদ্বিসার তাঁহাকে দেখিয়াছিলেন সেদিন বুদ্ধ 'পূর্বদ্ার' 
দিয় নগরে (নিশ্চয় প্রাসাদ নগরে, কারণ অন্যত্র হইলে প্রাসাদ 
হইতে বিদ্বিসার তাহাকে দেখিতে পাইতেন ন1) প্রবেশ ও নগর 
হইতে বাহির হইয়াছিলেন। অনেকে এই পূর্বধারকে নগরপ্রাচীরের 
ূর্বার বা উদয়গিরি ও শৈলগিরি গিরিবর্মবণে 8৫ মাইল দূরের 
গিরিপ্রাকারের পূর্ব্ধার ধরিয়াছেন, কিন্ত সে সময়ে বুদ্ধ যদি পাণ্ুব- 
পাহাড়ে ( -বিপুলগিরি ) থাকিতেন তবে সেখান হইতে শেষোক্ত 
পূর্বধার ছুইটির যে কোনটি দিয়! নগরে প্রবেশ করিতে হুইলে বৃদ্ধকে 


গিরিয়াক হ্ইয়া ১০1১২ মাইল ঘুরিয়া আসিতে হইয়াছিল কারণ গিরি- 
প্রাকার (অবশ যদি তাহা তখন থাকিয়া থাকে ) ও নগরপ্রাচীর পার 


বর্তমান - রাজগৃহ পরিক্রমা ৭৫ 


হইবার অন্য উপায় ছিল না। অবন্ত ইহা হইতে পারে যে, বুদ্ধ পাগুব- 
পাহাড় হইতে গিরিয়াকে গিয়া এক বা ততোধিক দ্দিন থাকিয়া সেখান 
হইতে গৃথ্তকূট হইয়া রাজগৃহের প্রাসাদনগরে আসিয়! পুনরায় পাণ্ডব- 
পাহাড়ে ফিরিয়াছিলেন, যদ্দিও বর্ণনায় তাহা যেন সব একই দিনের 
ঘটনার মত বল! হইয়াছে, অথবা হয়ত পরে গৃধকূট বুদ্ধের প্রিয় বাসস্থান 
হইয়াছিল বলিয়া স্ুত্তনিপাত-টাকাকার ভুল করিয়া মনে করিয়াছিলেন 
সেদিনও বুদ্ধ গৃধকূট হইতে নগরে আসিয়াছিলেন। 

যাহা হউক, সম্ভব নগরপ্রাচীরের এই দ্বারের কাছেই হিউয়েন ৎসাং 
কয়েকটি ম্মারক স্তুপ দেখিয়াছিলেন, যেখানে বুদ্ধশিষ্য অশ্বজিতের সঙ্গে 
সারিপুত্রের প্রথম সাক্ষাৎ হয়, যেখানে অজাতশক্র মাতাল হাতি 
লাগাইয়া বুদ্ধকে বধ করিবার চেষ্টা করেন প্রভৃতি। এখান হইতে 
পূর্বদিকের গভীর খালে ধান্কা দিয়! ফেলিয়া শ্রীগুপ্ত নামক এক ব্যক্তি 
বুদ্ধকে মারিবার চেষ্টা করিয়াছিলেন। এই দ্বারের অল্প উত্তর-পূর্বে 
গৃপ্রকুটে যাইবার রাস্তা । 


নগরপ্রাচীরের পূর্বধার__ জীবকাত্রবন 


গৃকূটের রাস্তা ধরিয়া চলিলে অদূরে নগরপ্রাচীরের পূর্বদার, [ ইহার 
কিছু উত্তরে একটি স্তূপাবশেষ আছে।] পূর্বদ্বারের পরেই খালের 
উপর পুল। এই খাল নগরপরিখা৷ ছিল এবং ইহার তলদেশ পাথর- 
বাধান ছিল; পরিখার উপর দিয়া প্রাচীন যুগেও গুল ছিল, বর্তমান 
পুলের নীচে পরিখাগাত্রের পাথরে প্রাচীন পুলের কড়িকাঠ বনাইবার 
খাঁজ কাটা দেখা যায়। উদয়গিরি হইতে গিরিপ্রাকারের যে শাখা 


৭৬ রাজগৃহ ও নালন্দা 


নামিয়! রত্বগিরিতে উঠিয়াছে, তাহা একটু পরেই দেখা যায়। এইখানে 
ছিল রাজ-চিকিৎসক জীবকের আত্রবন, যাহা জীবক বুদ্ধকে দান করিয়া- 
ছিলেন। বামদিকের জঙ্গলে অনেক ধ্বংসাবশেষ আছে, সম্ভব জীবকামর- 
বনে যে বিহারাদি পরে তৈয়ারি হইয়াছিল এগুলি তাহারই। 


গৃরকূট 


মাইলখানেক পরে গৃথকূটের পাদদেশে পৌছিয়া পাহাড়ের গায়ের 
রাস্তা দিয়া প্রায় ১ মাইল উঠিলে শিখরে পৌছান যায়। পাহাড়ের 
এই রাস্ত! বিশ্বিসার নির্মাণ করিয়াছিলেন, পথে ছুইটি ছোট স্তপের 
ভিত্তি দেখা যায়। দেখিতে শকুনের মত ছিল অথবা উপরে শকুন 
বসিত বলিয়া এই শিখরের নাম গৃধকুট হয়। 

শিখরের নীচের দিকের গুহাগুলি আনন্দ সারিপুত্রাদি প্রধানশিষ্যদের 
গুহা! বলিয়া এবং উপরের যে গুহার ছাদের পাথর ভাঙ্গিয়া পড়িয়াছে 
তাহা বুদ্ধের বাসগুহা বলিয়া প্রসিদ্ধ। বুদ্ধের জন্মস্থান আজ নেপাল - 
তরাই - এর জনশূন্ভ বনের মধ্যে ; তাহার মৃত্যুস্থান কুশীনগর, বহুকালের 
বাসস্থান শ্রাবন্তীর জেতবন - বিহার ও রাজগৃহের বেণুবন - বিহার 
নিশ্চিহ্ন এবং তাহার স্তৃতিজড়িত অন্ান্থ স্থানগুলি ঠিক কোথায় ছিল 
তাহাও ছুক্তেয়। তাই গৃথককূটের এই গুহা আজ বৌদ্ধজগতের 
মহাতীর্থ। এখানে বুদ্ধ যেসব ধর্মশিক্ষ1! দিয়াছিলেন তাহা শুনিবার 
সৌভাগ্য হয় নাই বলিয়৷ ভক্ত ফা হিয়েন এখানে আসিয়া অশ্রু বিসর্জন 
করিয়াছিলেন। 

শিখরের পূর্বদিকে বুদ্ধ পায়চারি করিয়া বেড়াইবার সময়ে দেবদত্ত 


বর্তমান - রাজগৃহ পরিক্রমা ৭৭ 


উপর হইতে পাথর গড়াইয়া তাহাকে মারিবার চেষ্টা করিয়াছিলেন। 
যে সমতল স্থানে বসিয়৷ বুদ্ধ লোককে ধর্মশিক্ষা দিতেন তাহ! পাথর - 
বাধান প্রাঙ্গণের মত। | 

গৃথকূটের পূর্বদিকে পাহাড়ের গায়ে অনেক বড় বড় পাথরের 
গাথনির ভিত্তি আছে। উত্তরে ছঠাগিরির সর্বোচ্চ স্থানে ( ১১৪৭ ফুট ) 
একটি স্তূপ ছিল, সম্ভব ইহা অশোকনিমিত। [ স্তপে যাইবার পথ দুর্গম 
সকালবেলায় গৃত্বকুটে না আসিলে দর্শক এই স্তপে যাইবার চেষ্টা 
করিবেন না।] 

সমগ্র গৃধকূট শিখরের উপর যুগে যুগে বহু পাথর ও ই'টের 
চৈত্যবিহার - স্তুপাদি নিমিত হইয়াছিল। শিখর হইতে পূর্ব - দক্ষিণে 
দুরে পঞ্চনানদী ( প্রাচীন সপ্পিণী ) দেখা যায়। [ 81৫ মাইল পূর্বদিকে 
উদয়গিরি ও শৈলগিরির মধ্যবর্তী বত্থে গিরিপ্রাকারের পূর্বদ্ধার। 
গিরিয়াক হইতে এই দ্বার দিয় রাঁজগৃহে আসিতে হয়। ] 

গৃধকুট শিখরের দক্ষিণ - পাদদেশে ছিল মদদকুচ্ছি - মৃগোগ্ান ) 
ইহার কাছে যে পুঙ্করিণীটি দেখা যায় তাহাই সম্ভব বৌদ্বশাস্ত্রোক্ত 
রাজবংশীয়৷ মাগধীদেবীর ন্ুমাগধ - পুফরিণী, ইহারই সন্নিকটে ছিল 
একটি মোর -নিবাপ বা ময়ূর চরিবার স্থান। দর্শক গৃত্তকূট শিখরে 
দাড়াইয়া দক্ষিণে নীচে তাকাইলেই এগুলি বুঝিতে পারিবেন। 
[ প্রাচীনকালে মদাকুচ্ছি হইতে গৃককুট শিখরে উঠিবার যে পথ ছিল 
এখনও তাহার চিহ্ন দেখা যায়। ] 

ফিরিবার সময়ে গৃধকুটের পথ যেখানে বর্তমানের পাকা! রাস্তায় 
পড়িয়াছে সেখান হইতে দর্শক বর্তমান রাস্তা ধরিয়া উত্তরদিকে মনিয়ার 


৭৮ রাজগৃহ ও নালন্দ। 


মঠের দিকে অগ্রসর হইলে কিছু পরে বামে কারাগৃহ ও তাহার পর 
আরও একটি বড় ধ্বংসাবশেষ পাইবেন। এই দ্বিতীয় ধ্বংসাবশেষটির 
পর আর মনিয়ার মঠের দিকে না গিয়া! পাকা রাস্তা ছাড়িয়! দর্শক 
ডাইনের কোন কাচা পাদপথ ধরিয়! গিরিপ্রাকারের উত্তরদ্ধারে পৌছিতে 
পারিবেন, ইহাতে দুরত্ব কিছু কম হইবে ও প্রাচীন নগরের এই অংশও 
দেখা হইবে । এই অংশে বিশেষ ঘন বসতি বোধহয় ছিল না কিন্ত 
কিছু কিছু ধ্বংসাবশেষ তবুও আছে। একটি বড় ধ্বংসাবশেষকে স্থানীয় 
কিম্বদস্তীতে বিশ্বিসারের গোশাল। বল। হয় । 


নালন্দ। 
প্রাচীন ইতিহাস 


'নালন্দীর প্রথম উল্লেখ বৌদ্ধ জৈন শাস্ত্রে যাহা পাওয়া যায় তাহাতে 
দেখা! যায় যে, সে বুগে নালন্দা খুব সমৃদ্ধ গ্রাম ছিল। এখানকার 
প্রাবারিক - আম্রবন (এই আঁমবাগানের মালিক সম্ভব 'প্রাবরণ” বা 
উত্তরীয়াদি পরিধেয় বন্ধের ব্যবস। করিত ) নামক স্থানে বুদ্ধ অনেকবার 
রাজগৃহ যাতায়াতের পথে বিশ্রাম করিয়াছিলেন। নালন্দা অঞ্চলে 
মহাবীরের অনেক শিষ্য ছিল, তিনিও প্রায়ই নালন্দায় আমিতেন। 
একব।র বুদ্ধ ও মহাবীর দুইজনেই একসময়ে নালন্দায় আসেন। একজন 
মহাবীরশিষ্য সে সময়ে বুদ্ধের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলাপ করিয়া! তাহার 
শিষ্যত্ব গ্রহণ করে এবং ইহা! লইয়া নিগ্রঞ্থদের ( জৈন) মধ্যে খুব 
উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। 

নাঁলন্দ! নামের উৎপত্তি সম্বন্ধে চীনা পরিব্রাজকর] শুনিয়াছিলেন যে 
এখানে একটি সরোবরে নালন্দা নামে একটি নাগ থাকিত ) অথবা 
বোধিসত্্ব এক পূর্বজন্মে এখানকার রাজ! ছিলেন, তিনি এত দানশীল 
ছিলেন যে “দিব না” এমন কথ! কখনও বলিতেন না, তাই “ন অলং দা” 
হইতে নালন্দা নামের উৎপত্তি হয়। কিন্ত এসব কিশ্বদস্তীর কোন মূল্য 
নাই। বোধহয় পন্মবন হইতে এই নামের উত্তৰ হইয়া থাকিবে 
(নাল পদ্ম, বড সমূহ )। সেকালে এখানে অনেক পন্মবন ছিল, 
এখনও আছে। নালন্৷ নামও বৌদ্ধশীন্ত্রে পাওয়া যায়। নাল, নালক 


৮০ রাজগৃহ ও নালন্দা 


প্রভৃতি বৌদ্ধশাস্ত্রোক্ত স্থানও বোধহয় নালন্দার অংশবিশেষ ছিল। 
সারিপুত্রের জন্ম ও মৃত্যুস্থান বলিয়া ইহা! প্রসিদ্ধ । 

তিবতী এ্রতিহাসিক তারানাথ বলিয়াছেন যে, অশোক সারিপুত্রের 
চৈত্যে পূজা ও স্তূপনির্মাণ করিয়াছিলেন। ফা হিয়েন সারিপুত্রের এই 
ধাতুত্ত,প দেখিয়াছিলেন। বোধহয় নালন্দার আধুনিক সারিচক নামক 
পল্লী সারিপুত্রের নামের স্মারক। ফা হিয়েন নালনা মহাবিহারের 
কোনই উল্লেখ না করায় মনে হয় সে সময় পর্যস্ত নালন্দার বিহার খুব 
ছোটই ছিল। খু. ২ শতকের নাগাজুন, ৪ শতকের আর্ধদেব, ৫ শতকের 
অসঙ্গ, বন্থ্বন্ধু ও দিউ.নাগ প্রভৃতি বৌদ্ধ পণ্তিতগণের নালন্দা বিহারে 
অধ্যয়ন - অধ্যাপনাদির যে উল্লেখ তিব্বতীগ্রন্থে পাওয়া যায় তাহা 
সম্পূর্ণ গ্রহণীয় নয়। আধুনিক এরতিহাসিকরা মনে করেন খু. ৫ শতকের 
মাঝামাঝি গুপগ্তবংশীয় রাজা ৯ম কুমারগুপ্ডের সময় হইতে মহাবিহার 
আরম্ভ হয় এবং পরবর্তা গুগুবংশীয় রাজারা ইহার বৃদ্ধিসাধন করেন, 
ইহাদের কেহ কেহ বৌদ্ধ ছিলেন। 
_. শতকের প্রথমাধে” হিউয়েন ৎসাং ছুইবারে প্রায় ৩ বৎসর 
নালন্দায় বাস করিয়াছিলেন এবং এই শতকের শেষাংশে ই ৎসিং ১০ 
বছর এখানে অধ্যয়ন করেন। নালন্দার পণ্ডিতরা হিউয়েন ৎসাউকে 
রাজসম্মানে অভ্যর্থনা করিয়াছিলেন। ত্বাহার বাসগৃহ পরিচারক 
প্রভৃতি ছাঁড়া তিনি পথে বাহির হইলে একটি সুসজ্জিত হস্তী তাহার 
পিছনে চলিবে এইরূপ ব্যবস্থা হইয়াছিল। এই ষুগে প্রায় ৩৪ হাজার 
ছাত্র এই মহাবিহারে অধ্যয়ন করিত। রাজাদের দানাদি হইতে 
ছাত্রদের আহীরাদির ব্যবস্থা হইত। এখানকার পণ্ডিত ও ছাত্রেরা 





নালন্দার ধ্বংসাবশেষ 


নালন্দার বোধিসত্ব সৃতি 





নালন্দা ৮১ 


বিষ্ভা ও সদাচারের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। এখানকার জীবন কঠিন 
নিয়মাধীনে পরিচালিত হইত। জলঘড়ি হইতে নির্ণীত সময় - সন্কেতে 
এখানকার সমস্ত কার্যাবলী নিয়ন্ত্রিত হইত। 

স্বিদ্বান দ্বারপপ্ডিতরা গল্প ও কথোঁপকথনচ্ছলে কয়েকদিন বিশেষ 
পরীক্ষা করিয়া সমগ্র ভারত হইতে সমাগত প্রবেশপ্রার্থী ছাত্রদের 
বিহারে ছাত্রত্ব দান করিতেন। এই পরীক্ষা এত কঠিন ছিল যে প্রতি 
দশজন প্রবেশপ্রার্থীর মধ্যে সাত - আটজনকে ফিরিয়া যাইতে হইত। 
অধ্যাপক ও ছাত্রদের অধ্যয়ণ - অধ্যাপনাদি শতাধিক মণ্ডলী বা! “ক্লাসে” 
সারাদিন ধরিয়! চলিত। শুধু বৌদ্শাস্ত্র নয়, বেদ সাহিত্য দর্শন ব্যাকরণ 
ম্যায় আমুর্বেদ রসায়ন ধাতুবিষ্ঠ প্রভৃতি সর্ববিষয়ে এখানে চর্চা হইত। 

হিউয়েন ৎসাঙের সময়ে সমতটের ( দক্ষিণ - পূর্ব বাঙলাদেশ ) 
রাঁজবংশজাত ভিক্ষু শ্বীলভদ্র এখানকার মহাস্থবির ব! প্রধানাচার্য ছিলেন, 
শীলতদ্রের পূর্বে দক্ষিণভারতের কাঞ্চীপুরবাসী ভিক্ষু ধর্মপাল প্রধানাচাষ 
ছিলেন, শীলভদ্র তাহার ছাত্র ছিলেন। হিউয়েন ৎসাং শীলতব্দরের কাছে 
বৌদ্ধশান্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং শীলভদ্রের অগাধ পাণ্ডিত্য ও পৃতচরিত্রের 
বহু প্রশংসা করিয়াছেন। আধুনিক ফিলাও গ্রামের নাম হয়ত 
শীলভদ্রের অথবা শীলাদিত্যের ( রাজ হর্ষবধ নের ) নামানুসারে হইয়া 
থাকিতে পারে। শীলভদ্রের পর সম্ভব ধর্মকীতি প্রধানাচাধ্য হয়! - 
ছিলেন। হিউয়েন ৎসাংকে নালন্দা হইতে “মোক্ষাচার্ধ” উপাধি দান 
কর! হয়। তিনি স্বদেশে ফিরিবার পরও নালন্দার পণ্ডিতরা দেবপুজায় 
তাহাকে স্বরণ করিতেন এবং তাহাকে পত্রাদি লিখিতেন ও উপহার 
পাঠাইতেন। 

৬ 


৮২ রাজগৃহ ও নালন্দা 


হিউয়েন ৎলাং নালন্ার একটি ৬ তলার সমান উচু বাড়িতে 
৮০ ফুট উচ্চ একটি তারের বুদ্ধমূ্তি দেখিয়াছিলেন, ইহ! 
মৌর্যবংশীয় রাজ! পূর্ণবর্মণ দ্বারা ৬ শতকের প্রথমাংশে স্থাপিত 
হইয়াছিল। হিউয়েন তসাঙের নালন্দায় বাসের সময়ে সম্রাট 
হর্যবধন এখানে একটি পিতলের পাতমোড়! বিহার নির্মাণ করাইয়া- 
ছিলেন। মহাবিহারের ব্যয়নির্বাহের জন্ত হর্ষ শতাধিক গ্রাম নিষ্কর 
করেন, এইসব গ্রামের ছুইশত গৃহস্থ প্রত্যহ মহাবিহারে চাল ঘি ও 
দুধ জোগাইতেন। হর্ষ নিজেকে নালনাপগ্ডিতগণের দাস বলিয়া 
বর্ণনা করিয়াছিলেন। কান্তকুজে হর্ষ যে ধর্ম - মহাসম্মেলন আহ্বান 
করিয়াছিলেন তাহাতে নালন্দা হইতে “এক সহ” ভিক্ষু উপস্থিত 
ছিলেন। 

৮ শতকের প্রারন্তে কান্তকুজরাজ যশোধর্মদেবের মন্ত্ীপুত্র মালাদ 
নালন্দা মহাবিহারে বহু সম্পত্তি দান করেন। তাহার উৎকীর্ণ 
শিলালিপিতে তিনি নালন্দার যে বর্ণনা করিয়াছেন তাহাতে সে যুগের 
 মহাবিহারের প্রীসমৃদ্ধির স্পষ্টছবি ফুটিয়া উঠিয়াছে : 

“সংশান্ত্র ও নানা বিগ্যায় পাণ্ডিত্যের জন্য প্রখ্যাত তিক্ষুসজ্ঘ - 
সমন্বিত নালন্দা মহানরপতিগণের মহানগরীসমূহকেও যেন উপহাস 
করে) নালন্দার গগনচুষি - প্রাসাদশিখরশ্রেণী যেন বিধাতা কতৃক 
ধরিত্রীর কঠমালারূপে পরিকল্পিত হইয়াছিল” ; 

“নানাশাস্ত্রবিশারদ ভিক্ষুমগ্ুলীর রমনীয় নিকেতন ও নানারত্ব - 
ছ্যুতিদীপ্ত - বিহারচৈত্যসমন্বিত নালন্দা বিদ্ভাধরকুল - নিকেতন হ্থুরম্য 
নুমেকগিরির শোতা ধারণ করিয়া আছে; যেন কৈলাসগিরিকে 


নালন্দা ৮৩ 


অপমান করিবার ভন্যই রাজ! বালাঁদিত্য* এখানে বুদ্ধের নামে 
অপরূপ ন্ুবৃহৎ শ্বেত-প্রাসাদ নির্মাণ করিয়াছিলেন ;” 

“সেই প্রাসাদ সমগ্র পৃথিবী পর্যটন, চন্দ্রলাবণ্যে কলঙ্কারোপ ও 
হিমালয়শূঙ্গরাজির রূপনাশ করিয়া, ন্বর্গগ্জার শ্বেতশোতা অপহরণ 
ও সমালোচক - সাগরকে নিস্তব্ধ করিয়া যে জগতে পরাজয় করিবার 
আর কিছু নাই সেখানে পর্যটন নিরর্থক বুঝিয়া যেন স্বোপাজিত 
কীতিত্তস্তস্ব্ূপে এখানে দণ্ডায়মান রহিয়াছে ।” 

হিউয়েন ৎসাঙের শ্বদেশীয় বন্ধু - রচিত জীবনচরিতেও নালন্দার 
বহুবিচিত্র - কারুকার্যমপ্ডিত বিচিত্রবর্ণরঞ্জিত গগনম্পর্শা প্রাসাদশ্রেণীর 
উল্লেখ আছে। 

গৌড়ের পালবংশীয় বৌদ্ধ রাজারা পরম - বিগ্বোৎসাহী ছিলেন। 
এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল ৮ শতকের শেষাংশে মগধ 
অধিকার করিয়া নালন্দা হইতে পঙ্ডিতদের লইয়া! উদ্দগুপুরে (বা 
ওদস্তপুরী বা ওতন্তপুরী, বর্তমান বিহার - শরীফ ) মহাবিহার স্থাপন 
করেন। তিব্বতের সঙ্গে নালন্দার যোগ এই সময় হইতে আরম্ভ 
হয়। তিব্বতরাজের নিমন্ত্রণে পণ্ডিত শাস্তরক্ষিত নালন্দা! হইতে 
তিব্বতে গিয়া বাস করেন এবং সেখানে ৭৬২ খু. তাহার মৃত্যু হয়। 
পণ্ডিত পদ্মসম্ভবও এই সময়ে নালন্দ৷ হইতে তিব্বতে যান। পদ্মসম্ভব 
তিব্বতের লামাধর্মের প্রবর্তক । 

৯ শতকের প্রারস্তে রাজ! ধর্মপাল সমগ্র উত্তরভারত জয় করিয়া 


* গগ্তবংণীয় রাজা, মৃত খু. ৫১১। 


৮৪ রাজগৃহ ও নালন্দা 


'পাটলিপুত্রে রাজধানী স্থাপন ও বিক্রমশিলা - মহাবিহারের (ইষ্ট 
ইত্ডিয়ান রেলের লুপ লাইনে সাহেবগঞ্জ ও তাগলপুরের মধ্যবর্তী 
কহুল্গাও ষ্টেশন হইতে ৬ মাইল) প্রতিষ্ঠা করেন। বিক্রমশিলায়ও 
নালন্দার পণ্ডিতরা অনেকে যোগ দিয়াছিলেন। পাঁলবংশীয় রাজারা 
সোমপুর (রাজশাহী জেলার পাহাড়পুর ), জগদ্দল (উত্তরবঙ্গের 
কোন স্থান) প্রভৃতি স্থানেও মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন 
কিন্ত সকলেই নালন্দায় প্রভূত অর্থসম্পত্তি দান করিয়াছিলেন। 
তাহাদের কেহ কেহ উদ্দগুপুরে রাজধানী স্থাপনও করিয়াছিলেন । 

নালন্দায় প্রাপ্ত একটি শিলালিপিতে দেখা যায় যে, বিপুলশ্রীমিত্র 
নামক একজন ভিক্ষু সোমপুরবিহারে তারাদেবীর মন্দির স্থাপন, 
একটি বিহারের সংস্কার এবং নালনায় দ্ধরিত্রীর ভূষণস্বরূপ ও 
ইন্্রপুরী বৈজয়স্ত অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ” একটি বিহার নির্মাণ করেন। 
সবর্ণদবীপের ( বর্তমান স্থমাত্র) অধিপতি বাঁলপুত্রদেব নালন্দায় একটি 
বিহার নির্মাণ করিয়াছিলেন এবং তাহার দূতমুখপ্রেরিত অন্রোধে 
এই বিহারের পথিনকল ও ভিক্ষুদের ব্যয় নির্বাহের জন্য রাজা 
দেবপাল (৯ শতকের মধ্যভাগে ) পাঁচ খানি শ্রাম নিফর করিয়া 
দেন। আর একটি শিলালিপিতে জানা যায় যে, ১০ শতকের 
শেষভাগে নালন্দা অগ্নিকাণ্ডে নষ্ট হইবার পর আবার নিিত হয়; 
ইহা সম্ভব রাজা মহীপালের কীতি। 

১১-১২ শতকে নালন্দায় নকল করা মহাষান বৌদ্ধধর্মের 
বিখ্যাত “অষ্টসাহঘিকা - প্রজ্ঞাপারমিতা” নামক শাস্ধগ্রন্থের পুথি 
নেপালে, লগনের রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটিতে ও অক্সফোর্ডের 


নালন্দ। ৮৫ 


বড.লিয়ান লাইব্রেরীতে রক্ষিত আছে। সেই ধুগের মাগবী ভাষা 
ও লিপি হইতে বাঙলা ভাষা ও লিপির উদ্ভব হয় এবং মাগধীলিপি 
তিব্বতীলিপিরও জননী । নালন্দা হইতে যেমন চীনে, তেমনি শালন্দা 
ও বিক্রমশিল! - উদ্দগুপুর প্রভৃতি হইতে তিব্ৰতে নৌদ্বধর্ম ও 
শান্ত্রাদি প্রচারিত হয়। ভারতীয় বহু গ্রন্থের অঙ্গবাদ চীন1 ও তিব্বতীতে 
কর! হইয়াছিল। বিক্রমশিলার ইতিহাসও তারত ও বঙ্গের প্রাচীন 
গরিমার এক সমুজ্জল অধ্যায় কিন্ক এখানে তাহার চর্চা করিব না। 

তিব্বতীগ্রন্থে বণিত আছে যে নাঁলন্দায় রত্বমাগর রত্বোদধি ও 
রত্বরঞ্জক নামক তিনটি প্রাসাদে গ্রন্থাগার রক্ষিত হইত এবং মহা - 
বিহারের যে অংশে এই প্রাসাদত্রয় অবস্থিত ছিল তাহার নাম 
ছিল ধর্মগঞ্জ। 

১১৯৭ - ১২০৩ খু. বখতিয়ার খিল্জী নালন্দা বিক্রমশিলা 
উদ্দগুপুর প্রভৃতি ধ্বংস, সব গ্রন্থাদি অগ্রিতে তম্মসাৎ এবং সব 
ভিক্ষুদের হত্যা করেন। উচু দেওয়ালঘেরা মহাবিহারগুলিকে তিনি 
ছর্গ মনে করিয়াছিলেন এবং ভিক্ষুগণকে হত্যার পর দেশ জয় 
হইয়া গিয়াছে, এইরূপ সিদ্ধান্ত করিয়াছিলেন। এইসব স্থানের 
যাবতীয় মূল্যবান বস্ত, মূতি ও অন্যান্য দ্রব্যাদি তাহার সৈস্তেরা 
নুঠ করে। মুসলমান এঁতিহাসিক বলিয়াছেন যে, পৃখিগুলিতে কি 
বিষয় লিখিত আছে বখতিয়ারের জানিবার ইচ্ছা হইলে পৃথি 
পড়িতে পারে এমন একজন লোকও পাওয়া যায় নাই। ভিক্ষুরা 
সকলে নিহত হইয়াছিলেন ও অন্ত সব শিক্ষিত ভদ্রলোক দেশ 
ছাঁড়িয়া পলায়ন করিয়াছিলেন। 


৮৬ রাজগৃহ ও নালন্দা 


তিব্বতী গ্রন্থ হইতে জান! যায় যে মুসলমানদের আক্রমণের 
পর ভিক্ষু মুদিতভদ্র আবার বিহার - সংস্কার ও নির্মাণ করেন 
এবং তাহার কিছুদিন পরে মগধরাজমন্ত্রী কুকুটসিদ্ধ কতৃক এখানে 
একটি চৈত্যস্থাপন - উৎসবোপলক্ষে ধর্মোপদেশের সময়ে ছুইজন 
ব্রাহ্মণ পরিব্রাজক এখানে আসিয়। ক্রোধ প্রকাশ করায় কয়েকজন তরুণ 
ভিক্ষু ইহাদের মাথায় ময়লা জল ঢালিয়া দিলে ব্রাহ্মণ হূর্যপূজা ও যজ্ঞ 
করিয়া যজ্তকুণ্ডের জলস্ত কয়ল! ফেলিয়া মহাবিহারে আগুন লাগাইয়া 
দেন। এখনও বিহারের কয়েকটি দরজা সিঁড়ি প্রভৃতিতে এইসব 
একাধিক অশ্িকাণ্ডের চিহ্ন দেখা যায়। 


ংসাবশেষ 


প্রত্বতত্ব বিভাগ হইতে ধ্বংসাবশেষগুলিতে নঘ্বর দেওয়ার বর্ণনার 
সুবিধ। হইয়াছে । এখন পর্যস্ত যেসব ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হইয়াছে 
তাহা প্রাচীন মহাবিহারের একাংশমাত্র। আবিষ্কৃত বাড়িগুলির মধ্যে 
পশ্চিমদিকেরগুলি চৈত্য, পূর্ব ও দক্ষিণদিকেরগুলি বিহার ও মন্দির, 
এবং দক্ষিণ-পশ্চিম কোণেরটি স্তূপ ছিল। 

প্রায় প্রত্যেক বাড়ীতে একাধিক স্তর পাওয়া গিয়াছে । কালবশে 
বা অগ্মিকাণ্ডে নষ্ট হইলে বিনষ্ট গৃহের অবশিষ্ট ইটপাথরতিত্তি ও 
দেওয়ালের রাশি সরাইয়! না ফেলিয়া তাহ! ভরাট ও সমান করিয়া 
তাহারই উপর নূতন বাড়ি শিমিত হইয়াছিল। যুগে যুগে এইক্সপ 
বিনাশাবশেষের উপর নবনির্মাণে স্তরগুলির স্থষ্টি হইয়াছিল। অধিকাংশ 
ক্ষেত্রেই বিনষ্ট গৃহের পরিকল্পনা যেরূপ ছিল, নবনির্মাণও সেই প্ল্যানেই, 


নালন্দা ৮৭ 


কর! হইত। বিহাঁরগুলির প্রত্যেক স্তরে প্রায়ই ছুই বা ততোধিক 
তলার চিহ্ন পাওয়া গিয়াছে । 

আমরা প্রথমে দক্ষিণের ১এ ও ১বি বিহার হইতে আরম্ভ করিয়া 
পূর্বদিকের বিহার - মন্দিরগুলি দেখিয়! পরে পশ্চিমের চৈত্যগুলি দেখিব 
এবং সর্বশেষে দক্ষিণ - পশ্চিমের স্তূপটি দেখিব। 

বিহারগুলির প্রবেশদ্বারের কাছের চোরকুঠুরিতে দানপ্রাপ্ত 
মূল্যবান দ্রব্যাদি রাখা হইত। ভিতরে বিস্তীর্ঘ প্রাণ, প্রাঙ্গণের 
শেষপ্রান্তে সমুচ্চ প্রতিমাবেদী, চারপাশে ভিক্ষুদের বাসকক্ষের সারি, 
কোন কোন কক্ষে বায়ু ও আলোক প্রবেশের জন্য "স্কাই লাইট”, 
দরজায় চৌকাঠের বদলে খিলান, জলনিকাশের জন্ত ড্রেন, কৃপ প্রত্ৃতি 
রষ্টব্য। 

১নং বিহারে ৯টি স্তরের চিহ্ন পাওয়া গিয়াছে ; ইহার প্রাঙ্গণের 
প্রতিমাবেদীর পুরোভাগে স্তত্তযুক্ত যে চাতালটি দেখা যায় সম্ভব 
তাহাতে উপবিষ্ট অধ্যাপক প্রাজণস্থ ছাত্রদের অধ্যাপনা! করিতেন। 

২নং প্রস্তর - মন্দিরটিতে রাজসাহী - পাহাড়পুরের মন্দিরের মত 
অনেক মানুষ পশুপক্ষী দেবদেবী প্রভৃতির মৃতি খোদিত দেখা যায়? 
সম্ভব এগুলি ৬ -৭ শতকে খোদিত এবং অন্ত মন্দির হইতে আনিয়া 
এখানে সংযুক্ত হইয়াছিল কারণ বর্তমান মন্দিরটি ৭ শতকের পরে 
নিমিত বলিয়া মনে হয় । 

৫নং বিহারটি একটি প্রাচীন বিহারের ধ্বংসাবশেষ, ইহা ৪নং 
বিহারের পিছনে ( পূর্বে ) অবস্থিত। 

৬নং বিহারের উপরতলার প্রাঙ্গণে যে উনানগুলি দেখ! যায় 


৮৮ রাজগৃহ ও নালন্দা 


তাহাতে রারা! ব! ছাত্রদের কিছু (বোধ হয় কোন রাসায়নিক বিষয়) 
শিক্ষা দেওয়া হইত। 

১১নং বিহারের পর আমরা পশ্চিমদিকের চৈত্যগুলিতে যাইব । 

১৪নং ঠত্যের প্রতিমার নিয়গাতে চিত্রাঙ্কণের চিহ্ন দেখা যায়; 
উত্তর - ভারতে দেওয়াল - চিত্রের (19৪০০) যে স্বল্প কয়েকটি নিদশন 
পাওয়া গিয়াছে ইহা৷ তাহার অন্যতম । 

১৩নং চৈত্র উত্তরে যে উনানগুলি দেখা যায় তাহা ধাতু 
গলাইবার জন্ত ব্যবহৃত হইত ) ধাতুমৃতি নির্মাণ নালন্দার একটি শিক্ষা - 
বিষয় ছিল। ১২নং চৈত্যের পর আমরা ৩নং স্তূপে যাইব । 

ওনং স্তপটিতে ৭টি স্তর পাওয়া গিয়াছে। ইহা! প্রথমে ছোট 
আকারে সম্ভব ৪ শতকে স্থাপিত হয় এবং তারপর প্রত্যেক পুননির্মাণের 
সময়ে কিছু কিছু করিয়া বাড়ান হয়! ৫ম স্তরটি ৬ শতকের, এই 
স্তরটিই সবচেয়ে ভাল অবস্থায় আছে। উত্তর দিকের মিঁড়ি তিনটি 
ক্রমান্বয়ে ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম স্তরের । এই জ্ত.পটির প্রতি এত যত্ব ও এতবার 
ইহার পুনণির্মাণ দেখিয়া মনে হয় ইহা সম্ভব বুদ্ধের অথবা সারিপুত্রের 
ধাতুস্তপ ছিল। এই পুস্তিকার মলাটের ছবিটি এই স্তপের ফটো। 

মহাবিহারের চারদিকের গাছতল৷ ধানক্ষেত পুকুরঘাট প্রভৃতিতে 
অনেক ছোট বড় মৃতি পড়িয়া আছে দেখা যায়। নিকটবর্তা বড়গীও 
(“বিহারগ্রাম” হইতে এই নামের উদ্ভব হইয়াছে ) গ্রামে একটি আধুনিক 
হুর্যমন্দিরে কিছু মুর্তি রক্ষিত হুইয়াছে। বড়গাও হইতে উত্তরে 
বেগমপুর গ্রাম পর্যস্ত ভূতাগের মধ্যে যে বড় বড় টিবিগুলি দেখা! যায় 
তাহা প্রাচীন ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষ ) এ স্থান ছিল প্রাচীন নালন্নার 


নালন্দা ৮৯ 


উত্তরপ্রান্ত। সে যুগের নালন্৷! যে কত বিস্তীর্ণ ছিল তাহা ইহা হইতে 
বুঝা যায়। [ মহাবিহারের দক্ষিণ - পশ্চিমে ২ মাইল দূরস্থ জগদীশগুর 
গ্রামে একটি প্রকাও বুদ্ধমূতি আছে।] 


মিউজিয়ম 


নালন্া খননের সময়ে প্রাপ্ত প্রত্বদ্রব্যাদির কিছু কিছু অদুরস্থ 
মিউজিয়মে রক্ষিত আছে। সব সামগ্রীতে বর্ণন] ও কালপরিচয় লিখিত 
আছে। 

নালন্দা - শিল্পীরা পাথরের চেয়ে ধাতুমৃত্ি নির্মাণেই বেশি যত্ববান 
ছিলেন এবং বৃহৎ যৃতি নালন্দায় অনেক থাকিলেও ছোট মূর্তিতেই 
তাহাদের আগ্রহ বেশি ছিল। বিভিন্ন মুদ্রায় বুদ্ধ, বোধিসত্ত্রগণ, তান্ত্রিক - 
বৌদ্ধ দেবদেবী ও হিন্দু দেবদেবীর মৃর্তিগুলির অধিকাংশই পালযুগের 
নির্মাণ। পালযুগের বৌদ্বধর্মে গুপ্তযুগ অপেক্ষা অনেক নূতন দেবদেবীর 
উদ্ভব ও আসন -মুদ্রাদির প্রকার- বৃদ্ধি হুইয়াছিল এবং পালধুগে 
নালন্দায় নিমিত দেবদেবী-মৃতি নেপাল তিব্বত ও পূর্বসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে 
ছড়াইয়! পড়ে। গুপ্তুগের শিল্পের প্রধান লক্ষ্য ছিল ভিতরের ভাব 
ফুটাইয়া তোল! কিন্তু পালযুগের শিল্ে প্রাধান্য পাইয়াছিল বাহ্‌ সৌকুমার্য 
সৌঠ্ঠৰ ও কারুকার্য । 

মিউজিয়মে রাজা, রাজকর্মচারী, সাধারণ ব্যক্তি ও মহাবিহার - 
কতৃপক্ষের অনেক শীলমোহর আছে। মহাবিহারীয় শীলগুলিতে 
“শ্রীনালন্দ! - মহাবিহারীয়ার্য - তিক্ষুসঙ্বস্ত” কথা খোদদিত আছে। 

বৌদ্ধমন্্র- খোদিত অনেক ইষ্টক নালন্দার স্তূপাদিতে পাওয়া 


৪৯৩ রাজগৃহ ও নালন্দা 


গিয়াছে ; এগুলিতে “যে ধর্ম হেতুপ্রতব] হেতুং তেষাং তথাগতে! হাবদৎ, 
তেবাং চ যো নিরোধ, এব্বাদী মহাশ্রমণঃ” _- অর্থাৎ “হেতুপ্রতব যে 
ধর্মসমুদায়, তাহাদের হেতু তথাগত বলিয়াছেন এবং তাহাদের যাহা 
নিরোধ, তাহাও (তিনি বলিয়াছেন), মহাশ্রমণ এইরূপ বলিয়াছেন” 
এই প্রসিদ্ধ বৌদ্ধমন্ত্র খোদিত আছে। ! কোন হঠ্টকে ইহার চেয়ে দীর্ঘতর 
প্রতীত্যসমুৎপাদ - হুত্র (যাহাতে বুদ্ধ ভবদুঃখোৎপত্তির কারণ ধারা - 
বাহিকরূপে বলিয়াছেন ) খোদিত আছে। বৌদ্বতক্তগণ পুণ্যলাতের 
ও ইষ্টসিদ্ধির জন্য এইসব মন্ত্রখোদিত ইঠ্টক স্তপে রক্ষা করিতেন । 

মালাদ ও বিপুলশ্রীমিত্রের পূর্বোলিখিত শিলালিপিদ্বয়ও মিউজিয়মে 
দেখা যাইবে। 


রাজগৃহ - নালন্দার ভবিষ্যৎ 


রাজগৃছে খনন পুনরুদ্ধার প্রভৃতি কাজ কিছুই প্রায় হয় নাই। 
এখানকার সমস্ত বনজঙ্গল সম্পূর্ণ দুর করিয়৷ প্রাচীন রাস্তাগুলিকে 
পুনরুদ্ধার ও সংস্কার করিয়! ঘুরিয়৷ দেখিবার সুবিধার জন্য যানোপযোগী 
কর! আবশ্তক। তারপর গভীর ও ব্যাপকভাবে খননাদির দ্বারা নগরের 
প্রাচীনন্ূপ যতট! সম্ভব পুনরাবিচ্ছার করা কর্ঠব্য তনং প্রম্মেজনাম 
মেরামত প্রভৃতি দ্বারা 2হা সারক্ষগের বাবস্থা ই ওই কাঠবা। 

আবিক্কুত বািনব রাস্তাটি প্রন তর অপাসন্ুব পরিচছ য্াস্থুতানে 
লিখিয়া দেখান উচিত । ে!নও বিশেষে স্ব'ুন সিমেন্ট ক প্রাতীর - 
নিমিত একটি বুহুদাঁকার মানচিত্র স্থাপন আবশ্ক | 

বৌদ্ধ - জৈন শা্স ও প্রাচীন ভারতেতিহাস সম্বন্ধীয় গ্রস্থাদি - সমন্বিত 
একটি পুস্তকীলয় স্থাপন কর্তব্য । প্রত্বসামগ্রীর একটি মিউজিয়ম হওয়া 
প্রয়োজনীয় । 

প্রদর্শকের কাজ করিবার জন্য লিখনপঠনক্ষম লোককে শিক্ষাদান 
ও পবীক্ষার পর লাইসেন্স বা সার্টিফিকেট দিয়! বাধা হারের পারিশ্রমিকে 
দর্শকদের দেখাইবার ব্যবস্থা হওয়া উচিত। বিদেশী যাত্রিগণ, বিশেষত 
অদ্ভুতবেশধারী অদ্ভূতমুতি তিব্বতী - নেপালী, সিকিমী - ভুটানী প্রভৃতি 
বৌদ্ধ তক্তগণ এখানে বাড়িওয়ালা - পাণ্ডা - দোকানদার ও রাস্তার 
ছোক্রাদের দ্বার! নির্যাতিত হয়, ইহার প্রতিকারের জন্য পুলিশ ব্যবস্থা 
ও লোকশিক্ষা হওয়া প্রয়োজন । 


৯২ রাজগৃহ ও নালন্দা 


অবস্থাসম্পর দর্শকদের বাসস্থানের জন্ উপযুক্ত সরঞ্জামসহ হোটেল 
ও গৃহাদি সরকার হইতে নিখিত হওয়া! আবশ্তক এবং ট্যাক্সি, সাইকেল, 
রিকৃশ! প্রভৃতি যানবাহনের ব্যবস্থাও কর্তব্য । 

জল চিকিৎসার জন্ত ধাহারা রাজগৃহে আসেন, তাহাদের চিকিৎসার 
জন্য পাশ্চাত্য দেশের “স্পা”র (৪7১) মত চিকিৎসালয় ও বাসগৃহ প্রভৃতি 
স্থাপিত হওয়া উচিত। ধারা ও কূপের জল বৌতলবদ্ধ করিয়া বিদেশী 
“মিনারেল ওয়াটারের” মত অন্যত্র বিক্রয়ের ব্যবস্থা আবশ্যক | 

নালন্দা - রাজগৃহের মধ্যে ও নালন্দা ষ্টেশন হইতে ধ্বংসাবশেষ 
পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য যাঁনবাহনের উন্নতি আবশ্ঠক। নালন্দায় 
মিউজিয়ম ও ধ্বংসাবশেষের কাছাকাছি স্থানে বাসগৃহ ও হোটেল 
প্রভৃতির, অন্ততঃ চা-পানালয়ের ব্যবস্থা আবশ্যক | 

প্রাচীন ইতিহাস আবিষ্কার ও চর্চা সভ্যদেশের শিক্ষাব্যবস্থার অঙ্গ। 
উপরস্ত বাসস্থান - যানবাহন - আহারাদির সুব্যবস্থা হইলে দেশ - বিদেশ 
হইতে দর্শকগণ রাজগৃহ নালন্দায় আসিয়। দেশের অর্থবৃদ্ধি করিবেন । 

নালন্দার সন্িকটে “নবনালন্দা বিশ্ববিষ্ভালয়” নামে একটি আধুনিক 
শিক্ষা - প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হওয়া উচিত। ইহাতে আধুনিক সাহিত্য 
দর্শনাদি, বিশেষত আধুনিক বিজ্ঞান, কৃষি, চিকিৎসা, কারখানা প্রভৃতি 
বিদ্যায় শিক্ষাদান - ব্যবস্থা হওয়া বাঞ্ছনীয়। 


ভারতবিষ্ঠাবিহার 
২১ বলরাম ঘোষ স্্রীট, কলিকাত। ৪ 


জনানাম্‌ ইহ সর্বেষাং সর্বশ্রেয়ঃ সমৃদ্ধয়ে 
নর্ব্র সর্বদান্মাকং ভূয়াদ্‌ ভারতদংক্ক তি। 
উদ্দেঞ্ : 
বিচার তুলন! ও যুক্তিমূলক প্রণালীতে এবং ইতিহাস - ভাষাতত্্াদির 
আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে প্রাচীন - তারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির 
বিবিধ দিক সম্বন্ধে গবেষণা, চর্চা ও শিক্ষিত সাধারণের মধ্যে তাহার 
বিস্তার । 


আচাধ: 
মহামহোপাধ্যায় পণ্ডিত শ্রীবিধুশেখর শাস্ত্রী 


উপাচাষ : 
ডন্টর শ্রীকালিদাস নাগ 


উপদেষ্ট-নংসদ : 
শ্রীরাজশেখর বসু 
ডক্টর শ্রীন্মুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 
ডক্টর শ্রীরমেশচন্দ্র মজুমদার 
ডর শ্রীন্থুশীলকুমার দে 
ডক্টর শ্রীজিতেন্দ্রনাথ বন্্যোপাধ্যায় 
ডর প্রীন্ুকুমার সেন 
ডক্টর প্রীপ্রবোধচন্ত্র বাগচী 
ডক্টর শ্রীনীহাররঞ্জন রায় 


কর্ম- মমিতি : 


ডক্টর শ্রীমনোমোহন ঘোষ, প্রেসিডেন্সি কলেজ 
ডক্টর শ্রীবিজনবিহারী তট্টাচার্য, আশুতোষ কলেজ 
প্রীতৃপেন্্রনাথ দাম, স্কটিশ, চার্চ, কলেজ 
শ্রীকালিদাস মু 

শ্রীবরেন্রপ্রসাদ রায়, এম. এ, সলিসিটার 
শ্রীবিনয়রৃষ্ণ দত 

ডক্টর শ্রীঅমূল্যচন্ত্র সেন, সম্পাদক 


সংামহোপাধ।ায় আচার্ধা প্রীমুক্ত বিধুশেখর শাস্ত্রী মহাশয় অন্থঞইপুধ্বক বিবৃতি- 
শীর্ষের নংস্ক ত মঙ্গলাচরণ-প্লোকটি রচন। করিয়া দিয়াছেন। 


সসুজ্য এক্ক টান্কা বনে! আনা,